1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১১ মে ২০২২, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

জামালগঞ্জে বাঁধের কাজে ধীরগতি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

শহীদনূর আহমেদ ::
কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী বোরো ফসল সুরক্ষায় সুনামগঞ্জের সকল হাওরে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ১১ উপজেলার ৭০১ পিআইসির মাধ্যমে ১১৭ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয় সরকার। পিআইসি গঠনে অনিয়ম, নীতিমালা অনুসরণ না করা, বিলম্বে কাজ শুরু হওয়াসহ বাঁধ নির্মাণকাজের শুরু থেকে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসছে।
জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় ৬টি হাওরে ৩৬টি পিআইসির মাধ্যমে ১৮৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার কাজ চলমান থাকলেও কাজের গতি মন্থর। উপজেলার ১১টি ক্লোজারের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারে এখনো কাজই শুরু হয়নি। বাঁধের কাজের এমন অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট হাওরপাড়ের কৃষকরা। ধীরগতির কারণে উপজেলার সকল হাওরের ক্লোজারের মুখ উন্মুক্ত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার উপজেলার হালির হাওর, পাকনার হাওর ও মহালিয়া হাওরের বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাঁধ নির্মাণকাজের ঢিলেঢালা চিত্র। স্থানীয় একাধিক কৃষক ও বাঁধ তদারকিতে থাকা লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাঁধ নির্মাণকাজের ধীরগতির হালচিত্র।
২০ নং প্রকল্পে প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধের সবেমাত্র কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে মাটি উত্তোলন করার কথা থাকলেও এই প্রকল্পের একটি স্থানে বাঁধের নিকট থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে বাঁধের গোড়া ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলনের নিয়ম না থাকলেও এইভাবে মাটি উত্তোলনের নির্দেশনা নাকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও’ই দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসির সভাপতি।
১৯নং প্রকল্পের মামদপুরের ক্লোজার এখানো উন্মুক্ত রয়েছে। তাছাড়া এই প্রকল্পে যে পরিমাণ বাঁধে মাটির কাজ ধরা হয়েছে তাঁর বেশিরভাগ অক্ষত। কয়েকটি স্থানে অক্ষত বাঁধ কেটে সমান করতে দেখা গেছে। বাঁধের বস্তি অংশ নাকি কেটে ল্যাভেল করতে অফিস থেকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসির লোকজন। বাঁধ কেটে বাঁধে মাটি দেয়া বা বাঁধের উপরিভাগ সমান করায় বাঁধের স্থায়ীত্ব কতটুকু হবে – তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১৮নং প্রকল্পে কাজ শুরু হলেও, অগ্রগতি হতাশাজনক। উপজেলার ৪টি হাওরের বিপজ্জনক মুখ ৬নং পিআইসির মহালিয়া ক্লোজারে এখনো কাজই শুরু হয়নি। বিশাল দৈর্ঘ্যরে গভীর ভাঙা এখনো উন্মুক্ত থাকায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা। এছাড়া ৭ ও ৮ নং প্রকল্পে এখনো কাজই শুরু হয়নি। নির্দিষ্ট কার্যদিবসের দেড় মাস পরেও যেখানে কাজ শুরু হয়নি সেখানে নির্র্ধারিত সময়ে কিভাবে কাজ শেষ করা যাবে – এমন প্রশ্নে স্থানীয় পাউবো কর্মকর্তা বলছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে কাজ শেষ করতে পুরোপরি আশাবাদী তিনি। তবে পাউবোর সংশ্লিষ্টদের এমন প্রতিশ্রুতি অবাস্তব বলে দাবি স্থানীয় কৃষক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের।
রোববার এসব প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে হতাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, বাঁধের কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। যেভাবে কাজ হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যাবে না।
সংগঠনের উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহানা আল আজাদ বলেন, সরকার কৃষকের ফসলের সুরক্ষায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এবারও ৫ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। আমরা প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাঁধ পরিদর্শন করছি। কাজের অগ্রগতি যা দেখছি, তা প্রত্যাশিত নয়। বেশিরভাগ ক্লোজার এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে ফসলের সুরক্ষা নিয়ে আমরা চিন্তিত।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনে কর্তাব্যক্তিদের কথায় আর কাজের মিল নেই। তারা বললেন উপজেলার ১২টি ক্লোজারে মাটি ফেলা শেষ অথচ রবিবারে আমরা পরিদর্শনে গিয়ে তার বাস্তব চিত্র বিপরীত দেখে আসলাম। আমরা চাইনা বাঁধ নির্মাণকাজে নিয়োজিতরা হাওরবাসীর সাথে শুভঙ্করের খেলা খেলুক। আমরা চাই সময় মতো বাঁধের কাজ হোক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল কবির বলেন, আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করছি। নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে আশাবাদী। মহালিয়া ক্লোজারে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। তবে দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
বাঁধের জাঙ্গাল কেটে বাঁধে মাটি দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ব্যাপারটি বুঝতে আপনাদের ভুল হতে পারে। বাঁধ সমান করতে নিড়ানী দেয়া হয়। এটাই নিয়ম।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com