1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

পৌরসভা চাইলেই কামারখাল উদ্ধার সম্ভব

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
কামারখালসহ সুনামগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরের সকল জলাশয় পুনরুদ্ধারে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ডিমেক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের আয়োজনে শহরের হাজীপাড়াস্থ হাওর বিলাস রেস্ট হাউস মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
শাহ আবু নাসেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং কামারখালসহ অন্যান্য খালগুলো উদ্ধারের ঐক্যমত পোষণ করেন। তারা বলেন, পৌরসভা চাইলে কামারখালসহ অপরাপর খালগুলো উদ্ধার করা অসম্ভব নয়।
সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান চৌধুরী বলেন, কামারখালসহ শহরের বিভিন্ন জলাশয়গুলো উদ্ধারের দাবিতে অনেক সভা হয় এবং তাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। আসলে বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। এজন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন যাতে করে অবৈধ দখলদারের হাত থেকে খাল, জলাশয়গুলো উদ্ধার হয়।
৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সামিনা চৌধুরী বলেন, পৌরসভা চাইলে অসম্ভবের কিছু না। আমরা চাই যেকোনো মূল্যে যেন কামারখালশহ শহরের সকল জলাশয় উদ্ধার হোক।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া বলেন, শহরের বিভিন্ন খাল আজ নিশ্চিহ্ন। বিশেষ করে আমরা যতদূর জানি কামারখালের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ছিল ৩৫ ফুট। কিন্তু দখলের কারণে খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাছাড়া অন্যান্য খালগুলো ভরাট করে ঘর-বাড়ি, কবর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমেদ নূর বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেখেছি এই কামারখাল দিয়ে নৌকা চলতো। মানুষ মাছ ধরতো। আমরাও অনেক সাঁতার কেটেছি। কিন্তু আজ এই খাল নিশ্চিহ্ন। এখনকার প্রজন্ম জানেনা কামারখাল কোথায়। এই দায় আমাদের সবার। তিনি আরও বলেন, শহরে এখন যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে। আর এই সমস্যা হচ্ছে শহরের সকল খাল, জলাশয়গুলো দখলের কারণে।
দৈনিক সুনামকণ্ঠ সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায় বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাসা থেকে বের হওয়া যায় না। জনগণের দুর্ভোগের স¤পূর্ণ দায়ভার পৌরসভার। কিন্তু যে জন্য জলাবদ্ধতা দেখা দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ এর সঠিক সমাধান খোঁজে না। আমরা চাই কামারখালসহ সকল জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে পৌর কর্তৃপক্ষ যেন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, এই কামারখাল কিছু রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধির দখলে রয়েছে। এটা দুঃখজনক। তাই কে করবে দখলমুক্ত? সবাই যার যার স্বার্থ নিয়ে বসে আছে। তবে প্রতি বছর যে উচ্ছেদ অভিযান হয় তা কেবল গরিবদের উপর। আজও আমরা দেখিনি কামারখালের উপরে নির্মিত কোনো ভবন, মার্কেট ভাঙা হয়েছে। দেখেছি শুধু যারা দিন এনে দিন খায় তাদের ঘরগুলো ভাঙতে। আসলে এই গরিবদের তো কোনো শক্তি নেই তাই এই অবিচার হয়। আর শক্তিধররা আড়াল হয়। তিনি বলেন, এটা আমাদেরকে ঐক্য হয়ে রক্ষা করতে হবে। এজন্য আন্দোলনের বিকল্প নাই। শহরের সৌন্দর্য্য আগের মত ফিরিয়ে আনতে এই খালগুলো দখলের হাত থেকে রক্ষা করা সময়ের দাবি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান আরও বলেন, কামারখালসহ শহরে যত জলাশয় রয়েছে এগুলো উদ্ধারে পৌরসভাকে উদ্যোগ নিতে হবে। দায়সারা কথা বলে সরে না গিয়ে সবাইকে ঐক্য হতে হবে দখলদারের বিরুদ্ধে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রিজিওনাল ম্যানেজার রাহিমা বেগমের সঞ্চালনায় এসময় আরও বক্তব্য রাখেন ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহসান জামিল আনাস, জেলা বিএনপি নেতা রেজাউল হক, কৃষকলীগ নেতা মুহিবুর রহমান, আওয়ামী মহিলা লীগ নেত্রী সৈয়দা ফারহানা ইমা, জেলা বিএনপি নেত্রী হাফেজা ফেরদৌস লিপন, জেলা ছাত্রলীগ নেতা ফারুক আহমদ, তানভীর আহমদ, ছাত্রদল নেতা রাহুল মিয়া, অশোক তালুকদার, সাদিকুর রহমান, আহমেদ চৌধুরী জুয়েল, আবুল হাশেম প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com