1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

কামারখাল পুনরুদ্ধারে পৌরসভাকে দায়িত্ব নিতে হবে : সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত জেলা প্রশাসন

  • আপডেট সময় সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
কামারখালসহ সুনামগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরের সকল জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে করণীয় শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে পৌরসভার অভ্যন্তরের প্রধান খাল ‘কামারখাল’ পুনরুদ্ধারে পৌরসভাকে দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানান উপপস্থিত সুধীজন। আর এই কাজে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার সকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘কামারখালসহ সুনামগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরের সকল জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মহিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বেলা প্রতিনিধি আল-আমিন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক জসিম উদ্দিন এবং কামার খালের দখল ও পূর্বের অবস্থা নিয়ে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপন করেন বেলার আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহেদা আক্তার। সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমেদ নূর, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু।
সংলাপে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পেশাগতভাবে কামারখালসহ শহরের বিভিন্ন দখল হওয়া খাল নিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত টেবিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। খাল পুনরুদ্ধার অনেকবার উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। অভিযান শুরু হলে অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে সভা-সেমিনারের খাল উদ্ধারে জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন আর অন্যদিকে তাদের বাসা খালের উপরে। এভাবে আর কত?
ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন বলেন, আমি দুই বার উচ্ছেদ অভিযান দেখেছি। দৃশ্যমান খালে এই অভিযান হয়েছে। কিন্তু কামারখাল কোথায় গিয়ে যে শেষ হয়েছে তা বুঝতে পারছি না। হয়তো কোনো অদৃশ্য কারণ রয়েছে। তাই আমরাও দেখতে চাই এই খাল কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে এবং দখলদারের অবস্থা গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে তুলে ধরবো।
দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা কামারখাল নিয়ে কাজ করি, কথা বলি। আরও ৪টি খাল দখল হয়েছে সেটি নিয়ে কথা বলিনা। উদ্ধার অভিযান শুরু হলে মাঝপথে থেমে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় খেটে খাওয়া মানুষ। ক্ষমতাধরদের কিছুই হয় না।
সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম আহমদ বলেন, উচ্ছেদের প্রথম দিকে প্রশাসন তৎপর হয়। পরে অর্ধেক পথেই বন্ধ হয়ে যায়। আমার দেখতে চাই কামারখালের ৮৪ দখলদার কারা কারা। তাদের তালিকা প্রকাশ করুন।
দৈনিক যুগান্তর-এর জেলা প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান পীর বলেন, কামারখাল উদ্ধার করা ফরজ হয়ে পড়েছে। একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। যার মাধ্যমে দখল হওয়া স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহিন চৌধুরী শুভ বলেন, আমাদের মধ্যে খাল নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এছাড়া নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানি না। নগর কিংবা পৌরসভার অভ্যন্তরে যত জলাশয় রয়েছে তার মালিক পৌর কিংবা নগর কর্তৃপক্ষ। পৌর কর্তৃপক্ষের নীরবতায় জলাধার ভরাট হয়, দখল হয়। কোনোভাবেই এর দায় তারা এড়াতে পারেন না।
জেলা পরিষদের সদস্য সেলিনা আবেদীন বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন। আমরা জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় অনেকেই অনেক কথা বলি। জনগণকে শহর সুন্দর করার প্রতিশ্রুতি দেই। কিন্তু কাজের বেলায় কি করা আমরা?
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের বলেন, খাল উদ্ধারে আমাদের সংগঠন থেকে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। প্রতিবেদন দাখিল করেছি। কিন্তু কই কোনো তৎপরতা নেই। আমরা চাই প্রশাসন উদ্যোগী হবেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া বলেন, খাল উদ্ধারে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। অবৈধ স্থাপনার পাশাপাশি আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করা হচ্ছে। দখল উচ্ছেদ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সহ-সভাপতি আলী হায়দার বলেন, তেখরিয়া খাল উদ্ধার করা হয়েছে। তেখরিয়া খালের উপর গরিব মানুষের বাড়িঘর ছিল। কামারখালে বিত্তবানদের ঘরবাড়ি। কাঁচাঘর ভাঙ্গতে পারলে পাকা ঘর কেন ভাঙতে পারবেন না।
সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু বলেন, আমারা ছোটবেলায় ৫-৭ টি খাল দেখেছি। যেখানে সাঁতার কেটেছি। নৌকা দিয়ে ধান বাড়িতে এনেছি। এখন সব দখল হয়েগেছে। পৌরসভায় দায়িত্বরতরা যদি খালের অবৈধ দখলদারের ভোট আশা করেন, তাহলে আমাদের সাধারণের ভোটের আশা ছেড়ে দিতে হবে। আমার চাই সকলের সহযোগিতায় শহরের সকল খাল উদ্ধার হোক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অব্যাহতি নিলে চলবে না। তারা তাদের দায়িত্ব বুঝতে হবে। ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ উন্নয়ন হলো। এখন একটু বৃষ্টি হলেই শহরের সব ঘরে পানি উঠে। এ থেকে পরিত্রাণ চাই। কামারখালসহ পৌরসভার অভ্যন্তরের জলাশয়গুলো উদ্ধার করতেই হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমদ নূর বলেন, শহরের ৭টি খাল উদ্ধারে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে। প্রশাসন ও নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতায় পৌরসভার খাল উদ্ধারে কাজ করবে। এই শহর বাঁচাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভোটের রাজনীতি নয়, শহর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন প্রয়োজন। পরিবেশ সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। সুনামগঞ্জের প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। প্রশাসন সব সময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শহরে যত খাল অবৈধ দখলে রয়েছে সেগুলো উদ্ধারে পৌরসভা যদি চায় তাহলে জেলা প্রশাসন সাহায্য করে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করবে। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন খাল আজ নিশ্চিহ্ন। বিশেষ করে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী কামারখালের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ছিল ৩৫ ফুট। কিন্তু দখলের কারণে খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাছাড়া অন্যান্য খালগুলো ভরাট করে ঘর-বাড়ি, কবর, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে। তা উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসন সবসময় সাহায্য করে যাবে।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, খালগুলো পৌরসভার ভিতরে হওয়ায় এর দায়িত্ব পৌরসভার। আমরা শুধু সাহায্য করতে পারবো। এজন্য খাল উদ্ধারে পৌরসভা আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠালে আমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে নিজস্ব সার্ভেয়ার মাপঝোক করে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবো। পরে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে তা খালি করার আদেশ দেয়া হবে। তারা যদি তা না মানে তখন আমরা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে উচ্ছেদ কার্যক্রম করবো। তবে এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যয় পৌরসভাকে বহন করতে হবে। সেজন্য এই খালগুলো উদ্ধারে পৌরসভাকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তারা চাইলে জেলা প্রশাসন সাহায্য করবে।
তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জ শহরের সকল খালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আশেপাশের মানুষের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। সকলকে সচেতন হতে হবে। পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সক্রিয় রোল প্লে করতে হবে। পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। নদী-খাল বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ হবে না।
সংলাপে অন্যান্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক শাহজাহান চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য ফৌজি আরা বেগম শাম্মী, হিলিপ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com