1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

সুনামগঞ্জ পুলিশের তৎপরতা : ৯ মাসে ৮ ক্লুলেস হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১

শহীদনূর আহমেদ ::
হাওরে ভেসে থাকা আগুনে পোড়া ঝলসানো লাশ, পতিত জমিতে পড়ে থাকা বিকৃত পোকা ধরা লাশ, বিছানায় পড়ে থাকা রক্তাক্ত মৃতদেহ, নির্জন ধানি জমিতে পচাগলা মরদেহ, নদীতে ভাসমান বস্তাবন্দি লাশসহ বিভিন্ন উপায়ে করা হয়েছিল এমন একাধিক হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডের রহস্য ও আলামত নষ্ট করতে নানা উপায় অনুসরণ করে খুনিরা। যার ফলে হত্যার কারণ ও হত্যাকারী স¤পর্কে ধোঁয়াশার মধ্যে পড়তে হয়েছিল স্বজনহারা পরিবার ও মামলার তদন্তে নিয়োজিত পুলিশকে।
‘খুনের সাক্ষী বনে দেয়’ গ্রাম্য এই প্রবাদের বাস্তবিক রূপ পেয়েছে সুনামগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে। কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই কেবল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অন্তত ৮টি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যাকারীর গতিবিধি লক্ষ করে এসব হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের এমন অর্জনকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যা পুলিশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮টির বেশি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২৩ জনকে গ্রেফতারও করেছে।
জানা যায়, ৩০ জানুয়ারি শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন বরাম হাওরের কান্দা থেকে আগুনে ঝলসানো এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই যুবককে শ্বাসরোধে হত্যা করে দাহ্য পদার্থ দিয়ে মৃতদেহ পুড়িয়ে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে হত্যার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
৪ মার্চ ছাতক পৌরসভার বাগবাড়ি এলাকায় পতিত জমিতে মুখমণ্ডল বিকৃত গলায় ক্ষত অবস্থায় পোকা ধরা ১৮-২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খুনের আলামত গুম করতে একই কায়দায় দাহ্য পদার্থ দ্বারা আগুন দিয়ে মৃত ব্যক্তির মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসানো হয়। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে এমনটা করা হলেও ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য সাফল্যের সাথে উদ্ঘাটন করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
২২ এপ্রিল সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন এলাকায় বিছানায় এক মহিলার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মীয়ের বাড়িতে হত্যার শিকার মধ্যবয়সী নারীর হত্যা মামলায় নানা ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
১১ মে জামালগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে সিকন্দর আলী নামে এক অটোরিকসাচালক খুন হন। মাধুখালী হাওরের নির্জন ধানি জমি থেকে ভিকটিমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারালো অস্ত্রের ধারা সিকন্দর আলীকে খুন করা হলেও প্রথম দিকে কোনো ক্লু ছিল না। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটির রহস্য খুব অল্প সময়ে উদ্ঘাটন করে প্রশংসিত হয় পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
৩ জুন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জিরারগাঁও এলাকায় ধানি জমির কাদায় পড়ে থাকতে দেখা যায় নূর আলম নামে এক যুবকের লাশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের আগে পরে ঘটনার সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকারী শনাক্ত করে পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া ১৯ জুলাই শাল্লা উপজেলার দারাইন নদীতে ইটের সঙ্গে বস্তায় বাঁধা অবস্থায় ৩০-৩৫ বছরের এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডটির রহস্য দ্রুতসময়ে উদঘাটন করে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯ আগস্ট মধ্যনগর এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুভাষ চন্দ্র সরকার নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার একদিন আগে নিখোঁজ হওয়া সুভাষের লাশ উদ্ধার করলেও হত্যার রহস্য নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ক্লুলেস এ হত্যার রহস্য উদঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেয় পুলিশ। রহস্য উদঘাটন করে হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ীর লাশ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইরগাঁও-পীরপুর রাস্তার পাশে ধানি জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্যও খুব দ্রুত সময়ে উদঘাটন করে পুলিশ। এ হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ক্লুলেস হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের এমন তৎপরতা ও আন্তরিকতাকে ইতিবাচক দেখছেন সচেতনমহলসহ বিশিষ্টজনরা। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ স¤পাদক আক্তারুজ্জামান সেলিম বলেন, আগের চেয়ে পুলিশ এখন অনেক তৎপর ও গতিশীল। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ যেমন ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন ভূমিকা ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী হোসেন তওফিক চৌধুরী বলেন, পুলিশের এমন গতিশীলতা শুভদিক। পুলিশকে আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখতে হবে। কেবল ঘটনা শনাক্ত আর জড়িতদের গ্রেফতার করলেই হবে না দোষী ব্যক্তি যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চার্জশিট করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। কেননা, বিচার বিলম্বতা বিচার না পাওয়ার শামিল।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে যতটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার বেশির ভাগেরই রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের আওতায় আনা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য ও পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতায় এসব ঘটনা রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। অপরাধ প্রবণতা দমনে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com