1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বিদায় বীর যোদ্ধা মালেক পীর

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সদস্য সচিব, হাওর আন্দোলন নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর (৬৮) আর নেই। সোমবার বেলা ১১ টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী তেঘরিয়া পীর বাড়ির মছব্বির হোসেন পীর ও গুলচেরা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন মালেক হুসেন পীর। তাঁর মৃত্যুতে সুনামগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর সহযোদ্ধারা জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ছিলেন বালাট সাব-সেক্টরের প্রথম ব্যাচের একজন গেরিলা যোদ্ধা। দেশ স্বাধীনের পর সরকারি দপ্তরের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর থাকতেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন-আদালতের দ্বারস্থ হতেন নিজ পকেটের টাকা ব্যয় করে।
মালেক হুসেন পীরের ঘনিষ্ঠজন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, সুনামগঞ্জে যেখানেই জনস্বার্থের বিরুদ্ধে বড় কোনও অনিয়ম-দুর্নীতি হতো সেখানেই প্রতিবাদ করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর। আইনজীবী হিসেবে তাঁকে আইনী সহায়তা দিতাম। তিনি জানান, ২০০১ সালে একটি জলমহাল ইজারা প্রদানের সময় পছন্দের পক্ষকে পাইয়ে দিতে ইজারাচুক্তিতে কাটছাঁট করেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আদালতে যান মালেক পীর। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে পরাজয়ের পরও দমে যাননি তিনি। ১০ বছর জনস্বার্থে মামলা চালানোর পর আপিল বিভাগ থেকে ২০১০ সালে তার পক্ষে রায় আসে। পরে সুনামগঞ্জে হাজিরা দিতে আসলে মামলার আসামি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন ও তৎকালীন আরডিসি মনির হোসেন (সেই সময়ের যুগ্ম সচিব) করাভোগ করেন। এই মামলার রায় ডিএলআরভুক্ত হয়।
এদিকে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে ব্যাপক প্রশংসা পান মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী-সন্তানদের অধিকার, হাওরের কৃষকদের দাবি-দাওয়া নিয়েও সর্বদা সোচ্চার থাকতেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
জেলাব্যাপী একজন প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছিলেন মালেক হুসেন পীর। তিনি স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামলে চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মিছিল করে গ্রেপ্তার হন। জেলা আওয়ামী লীগের দুইবারের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে প্রতিবাদ জারি রেখেছিলেন তিনি। শেষ বয়সে অভাব-অনটনে দিন কাটত তাঁর। ভাঙা ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।
সোমবার এশার নামাজের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরের জানাজার নামাজ লক্ষণশ্রী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। পরে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরকে তেঘরিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোমবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) অসীম চন্দ্র বণিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রী সম্মান জানায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জয়নাল আবেদীনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সহ-সাধারণ স¤পাদক নির্মল ভট্টাচার্য্য, যুগ্ম স¤পাদক সালেহিন চৌধুরী, দপ্তর স¤পাদক আনোয়ারুল হক, জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব বখত বাহলুল, সদস্য অরুণ চন্দ্র দেব, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার দাস, সহ-সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ স¤পাদক শহীদনূর আহমদ, সদস্য মঙ্গল রায় প্রমুখ।
এদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, জেলা আ.লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল, সিনিয়র সাংবাদিক ম ফ র ফোরকান, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. স্বপন কুমার দাস রায়, সহ-সভাপতি সিলেটের ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জের সুখেন্দু সেন, চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সহ-সভাপতি হবিগঞ্জের জাফর ইকবাল চৌধুরী, কিশোরগঞ্জের ইবাদুর রহমান, নেত্রকোণার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন, মৌলভীবাজারের শাহাদাৎ হোসেন, সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায়, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক নির্মল ভট্টাচার্য্য, সালেহিন চৌধুরী শুভ, সাংগঠনিক স¤পাদক একে কুদরত পাশা (সুনামগঞ্জ), কাওসার চৌধুরী (সিলেট-মৌলভীবাজার), হানিফ উল্ল্যাহ (কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোণা), শামীম আহমদ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-হবিগঞ্জ), অর্থ স¤পাদক আলহাজ সামছুল হক, দপ্তর স¤পাদক প্রভাষক দুলাল মিয়া, প্রচার স¤পাদক আনোয়ারুল হক, বাঁধ বিষয়ক স¤পাদক রাজু আহমদ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক স¤পাদক মো. জাকির হোসেন, আইন বিষয়ক স¤পাদক অ্যাড. সবিতা চক্রবর্তী, নির্বাহী সদস্য অ্যাড. শহীদুজ্জামান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আহমদ, জালাল উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন, মিসবাহুল বারী চৌধুরী লিটন, মিসবাহ উদ্দিন, অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস, বজলুল হাসান চৌধুরী রুহেল, এমরানুল হক চৌধুরী, কাজী নুরুল আজিজ, আব্দুল হালিম, প্রদীপ পাল, ওবায়দুল হক মিলন, শহীদনুর আহমেদ, মিজানুর রহমান রিপন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com