1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

পড়াতে গিয়ে বিপাকে শিক্ষকরা

  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আশিস রহমান ::
করোনা মহামারিকালে দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর খুলেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়মুখী হয়েছে শিক্ষার্থীরা, শুরু হয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ভুলতে বসেছে সাধারণ অক্ষর জ্ঞান। অনেকেই নিজের নাম লিখতে পারছে না। আবার অনেকে ভুলে গেছে বর্ণমালার নাম। কেউ কেউ রিডিং পড়তে পারছে না। এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদেরকে নতুন করে শেখাতে হচ্ছে সবকিছু। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বাড়তি বেগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত দেব বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ঝরে গেছে মনে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অক্ষর জ্ঞানটুকুও নেই। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগ, বর্ণমালা পড়াতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়মুখী করতে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর তালিকা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম ভিজিট করছি। শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে আলাপ করছি। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদী বাড়তি শ্রম দিতে হবে।
পান্ডারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সবুজ মিয়া বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে আমাদেরকে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদেরকে একেবারে নতুন করে হাতেকলমে সবকিছু শেখাতে হচ্ছে। অনেকে নিজের নাম লিখতে ভুলে গেছে। অনেকে বই নষ্ট করে ফেলেছে। পাঠে মনোযোগ ফিরাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও বালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে নতুন করে রিডিং পড়া শিখাতে হচ্ছে। এই সমস্যাটা শুধু আমার স্কুলে একা না, উপজেলার সবকটি স্কুলের শিক্ষকদের এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়মুখী করা এবং রিডিং স্কেল বাড়ানো আমাদের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ।
উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামের বাসিন্দা অভিভাবক হাবীবুল্লাহ হেলালী বলেন, বিদ্যালয় খোলা থাকলে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা বাড়িতে এসে বই নিয়ে বসতো। হোমওয়ার্ক করতো। তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি একটা টান কাজ করতো। কিন্তু প্রায় দুই বছর বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা অভিভাবকরা এই দীর্ঘ সময় ধরে বেশ বিপাকে পড়েছি। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে গেছে। বই ছেড়ে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিভাবক আম্বর আলী বলেন, সারাদিন পেটের দায়ে বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকি। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় প্রাইভেট কোনো শিক্ষক রেখে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারিনি। এতোদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতে ছেলেমেয়েরা একদিনও বই নিয়ে বসেনি।
বাজিতপুর গ্রামের অভিভাবক আলাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা থেকে মনোযোগ কমে গেছে। মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছে। বই নিয়ে বসতে চায় না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কেজি স্কুল রয়েছে প্রায় ৫০টি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার প্রায় ৮০%।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন কুমার সানা বলেন, দীর্ঘদিন প্রাইমারি স্কুল বন্ধ থাকায় আমরা এখন প্রধানত দুইটা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। প্রথমত শিক্ষার্থীরা সাধারণ অক্ষর জ্ঞানটুকু ভুলে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীকে নতুন করে বর্ণমালার সাথে পরিচয় করাতে হচ্ছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নতুন পাঠ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। আশাবাদী নতুন পাঠ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করলে খুব শিঘ্রই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে। দ্বিতীয়ত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে আমরা হোম ভিজিটের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকরা আলাপ করছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com