1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

খাসিয়ামারা নদীর অব্যাহত ভাঙন : হুমকির মুখে বিস্তীর্ণ এলাকা

  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
পাহাড়ি খরস্রোতা খাসিয়ামারা নদী এখন ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর বাজার ও আশপাশের বাসিন্দাদের। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অব্যাহত ভাঙ্গনে বাজারের অর্ধেকেরও বেশি ভিটেমাটি ও দোকানপাট এবং আশপাশের বসতবাড়ি ইতোমধ্যে
নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু আর কিছুদিন দৃশ্যমান থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙন রোধে এখনও কোনো ধরনের উদ্যোগ না নেওয়ায় নদীগর্ভে এখন বিলীন হওয়ার পথে গ্রামের একমাত্র বাজারমগ বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলীপুর বাজারে ব্যবসা বাণিজ্য করে সংসার চলে কয়েক শতাধিক পরিবারের। কয়েক বছর আগেও বাজারে যাদের নিজস্ব ভিটেমাটি আর দোকানপাট ছিল তার কোনোটিরই এখন আর দৃশ্যমান কোনো অস্তিত্ব নেই। সব হারিয়ে গেছে খাসিয়ামারা নদীগর্ভে। শুধু আলীপুর বাজারই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান এখন নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে।
তাঁরা আরও জানান, নদীর পাড় থেকে বেশ দূরে ছিল বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়ার একমাত্র দোকানভিটে। এখানে মুদি দোকানের ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই তার সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ চলতো কোনোরকমে। সামান্য আয়ের একমাত্র অবলম্বন এই মুদি দোকান-ভিটের নদীগর্ভে বিলীন হয়েগেছে। বাজারের নিজস্ব দোকান ভিটে ও গাছগাছালি নদী গর্ভে হারিয়ে এখন অন্যত্র ভারাটে দোকানে মুদিমালের ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন সিরাজ মিয়া। শুধু আলীপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার দোকান ভিটেই নয়, একই গ্রামের জাহের মিয়া, নানু মিয়া, দুলাল মিয়া, ভানু বিবি, ফিরোজ আলীসহ আরও বেশ কয়েকজনের দোকানভিটে ও বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আলীপুর বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মৎস্যচাষী আব্দুর রহিমের বিল্ডিংটি এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এটি। ভাঙন রোধে ব্যক্তিগতভাবে গাইডওয়াল নির্মাণ করেও ভাঙন থামানো যায়নি।
পার্শ্ববর্তী ভানুবিবির বসতবাড়ির সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়েগেছে। ভাঙন রোধে নদীর পাড়ে বাঁশ ও ইকড় গাছ লাগিয়ে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টিলাগাঁও গ্রামের মন্নাফ ডাক্তারের দোকান ভিটে, ফিরোজ আলীর বসতবাড়িটিও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে গাইড ওয়াল নির্মাণ করেও ভাঙন রোধ করতে পারিনি। ভাঙ্গন রোধে এখনই দ্রুত কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে এই বাজারটির অস্তিত্ব থাকবে না।
আলীপুর সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ স¤পাদক জামাল মিয়া বলেন, আমাদের সংগঠনের কার্যালয় এখন নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আমরা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।
মুদি ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, আমার দোকান ঘর, ভিটে হারিয়ে এখন ভাড়াটে দোকানে ব্যবসা করি। ভাঙন রোধে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেওয়া গেলে হয়তো আমার দোকানভিটে নদীতে হারাতে হতোনা।
নদী পাড়ের বাসিন্দা ভানুবিবি বলেন, আমাদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও দোকান ভিটে কয়েক দফা ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এখন সামান্য যেটুকু ভিটেমাটি আছে তাও বিলীনের পথে। আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাই।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মামুনুর রশীদ বলেন, খাসিয়ামারা নদী ভাঙ্গনে আলীপুর বাজার ও আশাপাশের এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দিন দিন যেভাবে ভাঙন বাড়ছে এখনি কোনো পদক্ষেপ না নিলে আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এখানকার নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার উপসহকারী শাখা কর্মকর্তা আবু সায়েম সাফিউল ইসলাম জানান, খাসিয়ামারা নদী ভাঙনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কিছু জানায়নি। তবে ভাঙন কবলিত এলাকা আমরা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com