1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

৬ বছর ধরে মসজিদে তালা

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আশিস রহমান ::
দেখভাল না থাকায় বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে মসজিদ। আশেপাশে গজিয়ে উঠেছে আগাছা ও ঝোপঝাড়। মসজিদে শ্যাওলা পড়ে আছে। দেখে মনে হবে এটি কোনো পরিত্যক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। কিন্তু আসলে এটি তা নয়। এটি দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের হকনগর শহীদ স্মৃতিসৌধ পর্যটন এলাকার মসজিদ।
২০১৩ সালে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর দুই বছর মসজিদটি ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর প্রায় ৬ বছর ধরে এই মসজিদে আজান হয় না, তালাবদ্ধ থাকায় মসজিদটি আশপাশের মুসল্লীদেরও কোনো কাজে আসছে না। শুধু আশাপাশের মুসল্লীরাই নয়, বাইরে থাকা আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এখানে এসে নামাজ আদায় করতে পারছেন না মসজিদ তালাবদ্ধ থাকায়। মসজিদের আঙিনা থেকে হতাশ হয়ে ফিরছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, হকনগর রেস্টহাউজের পাশে প্রায় আট বছর আগে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে রেস্ট হাউজের একজন কেয়ারটেকার টানা দুই বছর এই মসজিদে নিজ দায়িত্বে নামাজ পড়িয়েছেন। পরবর্তীতে ওই কেয়ারটেকার রেস্টহাউজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় পর সেই থেকে আজোবধি প্রায় ৬ বছরেও এই মসজিদে নিয়োগ দেয়া হয়নি ইমাম-মুয়াজ্জিন। অবহেলায় ও যত্নের অভাবে তালাবদ্ধ মসজিদটি এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।
দশনার্থী মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী বলেন, এখানে ঘুরতে এসে মসজিদ তালাবদ্ধ দেখে হতাশ হয়েছি। আমার মনে হচ্ছে এটা কর্তৃপক্ষের অবহেলা। মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন না থাকায় আজান ও নামাজ হচ্ছে না। দূরদূরান্তের দর্শনার্থী ও মুসল্লীরা নামাজ আদায় করতে পারছেনা। তাহলে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে এই মসজিদ নির্মাণের কোনো মানেই হয় না।
বাঁশতলা চৌধুরী পাড়া এলাকার বাসিন্দা এম এ মোতালিব ভূঁইয়া বলেন, মসজিদটি বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ। দেখার কেউ নেই! যত্নের অভাবে মসজিদের মূল্যবান স¤পদ নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ধন মিয়া বলেন, আগে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে একজন লোক দিয়ে এই মসজিদটি পরিচালনা করা হতো। এখন এখানে কোনো লোক নেই। আমরা বেশ কয়েক বার মসজিদটি চালু করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জসিম আহমেদ চৌধুরী রানা বলেন, মসজিদ নির্মাণের পর তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীকের সহযোগিতায় আমরা স্থানীয় একজনকে রেস্টহাউজের কেয়ারটেকার কাম মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলাম। তখন উপজেলা পরিষদ থেকে এর ব্যয়ভার বহন করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এটি বন্ধ করে দেন। উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি একাধিক বার আলোচনা করেছি। কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুইজন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে রেস্টহাউজের দেখাশোনা করা হচ্ছে আর মসজিদটি তালাবদ্ধ অবস্থাতেই আছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে দুইজন লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে আলাপ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুর রহিম বলেন, এবিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com