1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ভাঙে বাঁধ, বাড়ে বরাদ্দ : উপেক্ষিত থাকে কৃষকের দাবি

  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আশিস রহমান ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের জোড়খলা আবোড়া বেড়িবাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাভুক্ত এই বাঁধটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ কাম সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে প্রায় দুই যুগ ধরে। কিন্তু পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় বাঁধটি কোনো উপকারে আসছে না। প্রতিবছর ভাঙনের ফলে বাঁধের মাটি সরে গিয়ে পলিমাটি ও বালুতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে শত শত হেক্টর আবাদি বোরো ফসলি জমি। এতে হাওরের বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে ভাঙনে বিপরীতে বাঁধ পুনঃনির্মাণে বাড়ছে বরাদ্দের টাকার পরিমাণ। দুই যুগ ধরে শুধু বাঁধ নির্মাণ ও পুনরাকৃতি করেই সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা বাঁধ ভেঙে ভেসে যাচ্ছে জলে। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাওরের কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা, অন্যদিকে সরকারি কোষাগারের টাকার অপচয় হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সোনাপুর থেকে নূরপুর, আলীপুর হয়ে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর পর্যন্ত জোড়খলা ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ২০১৮ সালে বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ২০ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে একই বাঁধের ফোল্ডার-২ এর ভাঙ্গন রোধকল্পে ও পুনরাকৃতিকরণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩০ টাকা, ২০২০ সালে একই বাঁধ পুনঃনির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয় ২৪ লাখ টাকা, চলতি বছর একই বাঁধ নির্মাণে তিনটি পিআইসিতে সর্বমোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৩ লাখ টাকা। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় এই মোটা অঙ্কের বরাদ্দও কোনো কাজে আসেনি। এবার বাঁধের নূরপুর, আলীপুর ও সুলতানপুর এলাকার চার অংশে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সামনে বরাদ্দের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোড়খলা বেড়ি বাঁধে দীর্ঘ দিন ধরে স্লুইস গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন হাওরের কৃষক ও স্থানীয়রা। এনিয়ে একাধিক বার মানববন্ধন, সভা সমাবেশও হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের দাবি আজোবধি উপেক্ষিত। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রাকৃতিকভাবে জোড়খলা বেড়িবাঁধ এলাকা দিয়ে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি হাওরে প্রবাহিত হয়। বাঁধের কারণে পানি প্রবাহের রাস্তা বন্ধ থাকায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যার স্রোত সরাসরি জোড়খলা বেড়িবাঁধে এসে আঘাত হানে। এতে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন সৃষ্টি হয়ে হাওরের বোরো ফসলি জমি তলিয়ে যায়। শুধু বোরো ফসলই নয়, বাঁধ ভেঙে প্রতিবছরই প্লাবিত হয় সুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, নূরপুর, সোনাপুর, বৈঠাখাই, হাছনবাহার, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বড়কাটা, সুলতানপুরসহ আশপাশের ১৫টি গ্রাম। এদিকে বার বার বাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধের আশপাশের জমিতে গত কয়েক বছর ধরে দেখা দিয়েছে মাটি সংকট। সামনে বাঁধ নির্মাণের জন্য আশপাশের জমিতে মাটি পাওয়া যাবেনা। এভাবে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দ বাড়লেও স্লুইস গেইট না থাকায় কোনোভাবেই টেকানো যাচ্ছেনা এই বেড়িবাঁধটি।
নূরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ জানান, বেড়ি বাঁধ ভেঙে হাওরের শত শত হেক্টর আবাদি বোরো ফসলি জমি ভরাট হয়ে এখন অনাবাদি হয়েগেছে। সরকারের বরাদ্দ কৃষকদের কোনো উপকারে আসছেনা।
আলীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও মনির উদ্দিন জানান, বার বার আমরা স্লুইস গেইট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। স্লুইস গেইট ছাড়া এই বাঁধ টিকানোর আর কোনো বিকল্প নেই।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মামুনুর রশীদ বলেন, জোড়খলা বেড়িবাঁধে স্লুইস গেইট নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি। এখানে স্লুইস গেইট নির্মিত হলে বাঁধ টেকানো যাবে, হাওরের ফসলও রক্ষা পাবে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, আমরা দেখেছি হাওরে বেশিরভাগ বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি গঠনে কৃষকদেরকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধও নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বাঁধ কৃষকদের কোনো উপকারে আসছে না। কৃষকদের দাবি প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশ স্বাভাবিক থাকতো এবং কৃষকরাও উপকৃত হতো।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার উপসহকারী শাখা কর্মকর্তা আবু সায়েম সাফিউল ইসলাম জানান, এখানে স্লুইস গেইট নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি ডিওলেটার আমরা পেয়েছি। এখন জোড়খলা বেড়িবাঁধের ফোল্ডার-২ পেটফোলা নামক অংশে স্লুইট গেইট নির্মাণের ডিজাইনের কাজ চলছে। খুব আশাবাদী আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই এখান একটি স্লুইস গেইটের টেন্ডার হয়ে যাবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com