1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক বেহাল : দুর্ভোগ মাত্রা ছাড়া

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

সাজ্জাদ হোসেন শাহ্ ::
নাগরিক নানা সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া উপজেলার নাম তাহিরপুর। এ উপজেলায় রয়েছে তিনটি শুল্ক স্টেশন যেখান থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় দুই শ’ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। এ উপজেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট। যেখানে দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে।
এ উপজেলার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখনও এ সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেনি। বর্তমানে সড়কটির টাকাটুকিয়া ব্রিজের পরের অংশ থেকে ইসলামপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা খেয়া নৌকা দিয়ে পার হয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। একটা খেয়া মিস করলে প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকতে হয় খেয়া নৌকা আসার অপেক্ষায়। ফলে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর, বড়দল উত্তর ও বাদাঘাট উত্তর ৩ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষসহ উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে আসা পর্যটকরা গত ৫০ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ৩ ইউনিয়নের স্কুল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্র/ছাত্রীসহ লক্ষাধিক মানুষের সড়কপথে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ পর্যন্ত সড়কটি কয়েকবার সংস্কার করলেও এখন পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা স্থানীয় এলজিইডির উদাসীনতা এবং ঠিকাদারদের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ কার্লভার্ট নির্মাণ এবং ঠিকাদারদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করার জন্যই এখন পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি হয়ে উঠেনি যানবাহন চলাচলের উপযোগী।
উপজেলার বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তাবারক হোসাইন বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা সদরে যেতে হলে প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা ছোট খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড় হতে হয়। শীত মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হলে একাধিক জায়গায় টোল দিতে হয়। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের চাটাইয়ের উপর দিয়ে পথচারী ও যানবাহন পারাপার করতে হয়। এতে অনেক সময় ঘটে অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা। একটু বৃষ্টি হলেই এ সড়ক দিয়ে আর উপজেলা সদরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না।
শিক্ষিকা সালমা আক্তার বলেন, বেতন উত্তোলন করাসহ বিভিন্ন কাজে মাসে একবার হলেও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। ৮কি.মি. সড়কে এতো ভোগান্তি মনে হয় দেশের আর কোথাও নেই। মোটরসাইকেলে যাতায়ত করলে ৮কি.মি. মধ্যে ৪কি.মি. যেতে হয় নৌকা আর পায়ে হেঁটে। বাকি ৪কি.মি. সড়কও চলাচলের অনুপযোগী খানাখন্দ, ভাঙা আর উঁচুনিচু।
বাদাঘাট বাজারের ব্যাবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, গত দুই যুগ ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ চলে কিন্তু বর্ষা মৌসুম আসার আগেই সড়কটি আবার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। সঠিক পরিকল্পনা করে সড়কটি তৈরি করলে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অপব্যয় হতনা।
উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবীর জানিয়েছেন, তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটির সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং নৌকা পারাপারের অংশে একটি ৭শ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণ করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা সদরসহ তিন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি তাহিরপুর- বাদাঘাট সড়কটি যেন যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। তারা অবিলম্বে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে উপজেলা সদরের সাথে তিন ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com