1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

করোনায় ভালো নেই বেদেরা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১

পীর জুবায়ের ::
‘কি রে বাপ কিছু লাগবো। দাঁত ব্যাথা করছে না বাত জমছে? আনফর বাপরা আসছে টুল দে আমি শিঙ্গা আনি। তরা আইছিস বাপ ভালা অইছে। মেলা দিন ভালা কিছু নাড়ে পড়ে না। এই ঈদে একটু গোশতের লাগি বহুজনের কাছে গেলাম। কেউ দেয় নাই। নাতিডা গোশত খাওনের লাগি কাঁদছিলো। পরে ছেলে কোত্থেকে গিয়া খাল, চামড়া নিয়া আইছে। কেউ আয়ও না বাপ বুঝলি। পেটে মরি গেছি রে বাপ। খালি জানডি যাওনের বাকি।’
নাকে বড় নাক ফুল, কানে দুল, গলায় বড় মালা ও হাতে রঙ-বেরঙের বড় চুড়ি পরা ষাটোর্ধ জুলেখা বিবি এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।
হাওরের বাতাসের সাথে বোকা নদীতে ঢেউ খেলা করে, সেই ঢেউয়ের উপর দিয়ে মাঝি গান গেয়ে নৌকা বেয়ে যাওয়ায় দৃশ্য, সাথে জেলেদের মাছ ধরা এসব উপভোগ করতে নদীর উপর থাকা ব্রিজে প্রতিদিন বিকেলে হাজির হয়ে থাকেন নানা পেশার মানুষ। এসব দৃশ্য দেখে সবার মুখে ভালো লাগার হাসি ফুটলেও নদীর ঐ তীরে যাযাবরের মত কয়েকটি পরিবার তাদের কাছে নদীর এই সৌন্দর্য্য দেখা ‘অহেতুক’ আর ‘বিলাসিতা’।
সবাই যখন প্রকৃতির রূপ দেখে হাসে আর আনন্দ করে বেদেরা তখন পেটের জ্বালায় হাহাকার করে। করোনা আর লকডাউনের জন্য রুজি রুটিহীন হয়ে জেলার জাউয়াবাজার বোকা নদীর তীরে অবস্থিত ৬টি বেদে পরিবারের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বোকা নদীর তীরে আবর্জনা ছড়ানো ছিটানো জায়গায় পলিথিন দিয়ে বানানো ছোট ছোট ‘হুড়া’ রয়েছে। দূর থেকে মুরগী রাখার ঘর মনে হলেও এখানে পরিবার নিয়ে বাস করছে প্রায় ২০জন মানুষ। আর এসব হুড়ার ভিতরেই রান্না করা, খাওয়া, ঘুমানোসহ চলছে জীবনযাপন।
স্থায়ী বাসিন্দা বা ভোটার না হওয়ায় সরকারি ত্রাণ, অনুদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বাইরে থাকতে হচ্ছে তাদের। ফলে করোনায় এই পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনের যেন শেষ নেই। বেদে মহিলারা বেশির ভাগ শিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা ফালানো এসব করে জীবিকা নির্বাহ করাসহ কিছু মহিলা মেয়েদের চুড়ি, ফিতা বিক্রি করে থাকেন। আর বেদে পুরুষরা সাপের খেলা দেখানো ও কড়ি বিক্রি করেন। এভাবেই বেদে পরিবারগুলো কোনো রকমভাবে জীবন-যাপন করে আসছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে তাদের রোজগার এখন বন্ধ হয়ে গেছে। মিলছে না কোনো সহায়তা। করোনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসাসী, সুশীলরা অসহায়দের ত্রাণ দিলেও তা জুটেনি এসকল বেদে পরিবারের কপালে।
বেদে নূর বানু বলেন, আমাগো ছবি তুইল্লা কি হবে, মোরা গেরামে যাইতে পারি না। কোনো কাজ কাম নাই। হাটবাজারে গেলে সবাই খেদাইয়া (তাড়াইয়া) দেয়। বাচ্চা-কাচ্চা লইয়া এহন কি খামু? করুনার (করোনা) ভয়ে মোগো সব রুটি রুজি বন্ধ। ছবি তুইল্লা নেন ভালা কথা সরকারকে কইয়েন মোগো লইগা কিছু চাউল ডাইল (ত্রাণ) ব্যবস্থা কইরা দিতে।
পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, বেদে বলে তো আর সমাজবঞ্চিত না। জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার এ পেশায় যুক্ত তারা দেশের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান খাবারের সন্ধানে। এক সময় জীবন ছিল জলপথে নৌকায় নৌকায়। তাবিজ, ঔষধি গাছ-গাছড়া বিক্রি, সাপের খেলা, শিঙ্গালাগা, পরিমালা বিক্রি করে চলে তাদের সংসার। স্থলপথে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় তাদের। ওই সব গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আহার যোগে। তাই তাদের দাবি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিসহ সমাজের বিত্তশীলরা যেন তাদের একটু খোঁজ-খবর রাখেন, সহায়তায় এগিয়ে আসেন।
জাউয়াবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আছাদুর রহমান জানান, বেদে সম্প্রদায় তাদের কর্ম দিয়ে দেশের অনেক ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। নির্দিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় তারা সরকারি অনুদান, ত্রাণ থেকেও বঞ্চিত থাকেন। তাই সবার উচিত সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশীলরা তাদের প্রতি এগিয়ে আসা।
এ ব্যাপারে জাউয়াবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন জানান, বিষয়টি আপনার কাছ থেকে জানলাম। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে রাখবো। সরকারি কোনো ত্রাণ আসলে আমরা অবশ্যই তাদের জন্য ব্যবস্থা করে দিব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com