1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

উপহারের ঘর, নতুন জীবনের স্বপ্ন

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি ::
তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট শিমুল বাগান। পাশেই রূপের নদী যাদুকাটা ও মাহারাম। ওপারে ভারতের সীমান্ত পাহাড়ঘেরা। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের অগণিত পর্যটক শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদী ও সীমান্তের পাহাড় দেখতে ভিড় করেন। করোনাভাইরাস জনিত কারণে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় ও স্থানীয় প্রশাসন কঠোর থাকায় লোকজন আসা বন্ধ। মানিগাঁওয়ের শিমুল বাগানের ঠিক পাশেই মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭০টি পাকা ঘর নির্মাণ করে ৭০টি গৃহহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ দেয়া হয়েছে। পাশের ঘাঘটিয়া গ্রামে ও আরও ৭৬টিসহ মোট ১৪৬টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিবারগুলো বসবাস করছেন বেশ ভালোভাবেই। দুটি জায়গাতেই প্রায় ৭/৮ শত মানুষ তাদের স্বপ্নের ঠিকানায় পরম আনন্দের সাথে বসবাস করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ছিল কোন লোক গৃহহীন থাকবে না। তারই ফল স্বরূপ সারাদেশের মতো সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৪ হাজার ঘর বরাদ্দ প্রদান করেন। প্রতিটি ঘরের জন্য দুই শতক জায়গার উপর প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘর নির্মাণ করে দলিলসহ তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। সাথে নলকূপ ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা।
শিমুল বাগানের পাশের মানিগাঁও ৭০টি ঘর সরেজমিন পরিদর্শন করে বসবাসকারীরা জানান, তারা পরম সুখে আছেন। নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছেন। এখানকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল মালেকের স্ত্রী বৃদ্ধা সাদল বানু জানান এতো সুন্দর বাড়ি নিজের হবে কোনদিন চিন্তাই করিনি। আগে ভাড়া না হয় অন্যের বাড়িতে থাকতেন। প্রায় দুই মাস আগে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। তিনি জানান, খাবার পানিসহ সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। শুধু বিদ্যুতের সংযোগ লাগেনি তবে ঘরে ওয়ারিং করা হয়ে গেছে। সাদল বানু প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রতিদিন দোয়া করেন।
কথা হয় পাশের ঘরের বাসিন্দা কুদরত আলীর স্ত্রী কল্পনা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে এখানে এসেছি। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে এর আগে বারেকের টিলায় ভাড়া থাকতেন। স্বামী যাদুকাটা নদীতে বালু-পাথর উত্তোলনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এখন তারা খুব ভালো আছেন, নিজের বাড়িতেই থাকছেন। কল্পনাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘর উপহার না দিলে সারাজীবন অন্যের বাড়িতেই থাকতে হতো।
মৃত কালা মিয়ার পুত্র কবির মিয়া (৪০), মৃত আব্দুল সালেকের পুত্র আব্দুর রশিদ, মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র আব্দুল মতিন ও তাদের ছেলে মেয়ে সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে একইভাবে বসবাস করছেন। তারা সবাই স্বপ্নের ঠিকানার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গর্ববোধ করেন।
তারা জানান, আমরা যুগ যুগ ধরেই ভিটেমাটি ছাড়া। এতোদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার মুজিববর্ষের ঘর পেয়ে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করি শেখ হাসিনা যেন দীর্ঘজীবী হোন। তারা জানান, বিদ্যুতের সংযোগ এখনও লাগেনি তবে ঘরের ওয়ারিং করা হয়ে গেছে। তাদের জানানো হয়েছে খুব শীঘ্রই সংযোগ দেয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির জানান, মুজিববর্ষের উপহার স্বরূপ ঘর প্রথম পর্যায়ে ৭০টি মানিগাঁও এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘাঘটিয়ায় নির্মাণ করে গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে গেছে। তারা এখানে বসবাস করছেন। নলকূপসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বিদ্যুতের সংযোগ হয়নি। ঘরগুলোর ওয়ারিং শেষ। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ খুব শীঘ্রই সংযোগ দিয়ে দেবে।
ইউএনও আরও জানান, এই এলাকাটি আরও দৃষ্টিনন্দন করতে আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে। ঈদুল আজহার সময়ে তাদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্যসামগ্রী দিয়েছি। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে আমাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, ঘর পেয়ে এই পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে। এর সকল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর কোন কোন জায়গায় নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় কাজ চলমান রয়েছে। যেসব জায়গায় কিছু ত্রুটি আছে এগুলোও দ্রুত সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com