1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দেশকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার প্রত্যয়

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

:: দীপক চৌধুরী ::
সত্যাসত্য বিচার ছাড়াই আমরা অনুমান করে, ধারণা করে, আন্দাজ করে নানা কথা বলি। সহজ বিষয়কে আমরা জটিল করি। আবার আইন প্রয়োগের নামে ‘সর্বগ্রাসী’ ক্ষমতা দেখাই। সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এসেছে বগুড়ার একটি উপজেলায় ‘উপজেলা ফুলবাগানে’ ছাগল কর্তৃক ফুলগাছ খেয়ে ফেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ইউএনও কর্তৃক দু’হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ছাগল মালিক এত টাকা জরিমানার বিনিময়ে ছাগল ছাড়িয়ে নিতে উপজেলায়ও আসেন না। অবশেষে ইউএনও খবর নিয়ে দেখেন আসলে মালিকের সে রকম অর্থও নেই যে, জরিমানা পরিশোধ করে ছাগল ছাড়িয়ে নেবেন। শেষ পর্যন্ত ইউএনও জরিমানার দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
পৃথিবীব্যাপী চলমান এই দুঃসময়ে জরুরি প্রয়োজনে যেখানে বাইরে যেতে মানা করা হয়, আর জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলেও নিজের ও সবার নিরাপত্তার জন্য ফেস মাস্ক পরার জন্য সরকারী অর্থ খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে, সেখানে ছাগল মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা কি আদৌ জরুরি ছিল? এর আগে তার অর্থবিত্তের ক্ষমতা কতটুকু তা জানা তো জরুরি। করোনার জন্য খেটে খাওয়া অতি সাধারণ ও সাধারণ মানুষ কি রকম আর্থিক কষ্টে আছে এটা কি এখন আর কারও অজানা? গত বছর করোনাকালে ত্রাণ বিলানোর বদলে দুজন বৃদ্ধকে অসম্মান করার পরিণতি কিন্তু আমরা ভুলিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের এক মহিলা কর্তাব্যক্তিই দায়ী ছিলেন। এ তো গেল একদিক। অন্যদিকও আছে। আমরা এমনই এক দুর্ভাগা জাতি যে, কিভাবে প্রতিপক্ষকে ছোট করা সম্ভব সেটাই চিন্তা করে থাকি। একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা-আমলার কাজই যেন এটি। অথচ হওয়া উচিত, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া। যারা মানুষের জন্য রাজনৈতিক বয়ান দেন তারা সময়-সুযোগে মানুষের বিরুদ্ধেই যান। এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। প্রতিপক্ষকে কিভাবে ঘায়েল করা যায়! আমরা দেখছি, জানি বা গণমাধ্যমেও খবরগুলো আসে এভাবে যে, মন্ত্রীকে ঘায়েল করতে জেলার এমপিরা একজোট। দলের হলেও রেহাই নেই। তখন অনুপস্থিত থাকে আদর্শ। কে কোন দলের বা কোন ব্যক্তির লোক সেটা মুখ্য থাকে না। খোদ দলের ভেতরই এ রকমটি হয়ে থাকে। মূলত ব্যক্তিস্বার্থের মধ্যে যখনই বনাবনির বিরোধ বাঁধে তখনই সমস্যা। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল সবসময়ই ক্ষমতাসীনদের তুলোধোনা করায় ব্যস্ত থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ায় এটা বেশি। আর বাংলাদেশ হচ্ছে এই চরিত্র বৈশিষ্ট্যের সূতিকাগার। অনেকেরই মনে থাকার কথা, করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কি রকম তুলকালাম ঘটে গেছে। ইন্ডিয়ার সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড নিয়ে শুরুতে নানা কথা বলে ভয়ঙ্কর উত্তাপ ছড়ানো হয়েছিল। আর এখন টিকা পাচ্ছি না কেন, কেন মাত্র একটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল, এটা নিয়ে প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করা হচ্ছে। কী বিচিত্র দেশ!
এটা প্রমাণিত সত্য, আসলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও অগ্রগতির কিংবদন্তি। এদেশে যা কখনও সম্ভব হতো না, দরিদ্রদের পক্ষে যা ছিল অসম্ভব, তা-ই সম্ভব করেছেন শেখ হাসিনা। দেশে চলমান উন্নয়নের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, দেশে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সব ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর মুজিববর্ষে ছিন্নমূল ও দুস্থ ভূমিহীন-গৃহহীনদের আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এটা প্রমাণিত, দেশের সরকার এমন হতদরিদ্রদের পাশে সব সময়ই থাকে। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবার নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টির উদ্যোগ।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয় এবং একই সঙ্গে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৯ লাখ পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ই¯পাত কঠিন মনোবলে পর্বতসম বাধা ডিঙ্গিয়ে ক্রমেই এগিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পেছনে নানা ষড়যন্ত্রও চলেছে। এই কদিন আগেও একটি ষড়ষন্ত্র আমরা দেখলাম।
‘গোল্ডেন মনির’ কি একদিনে তৈরি হয়েছিল? বর্তমান সরকারের আমলের ১২ বছরের মাথায় তার কাহিনী বের হলো। কেন? আরও অনেক আগেই তার শত শত কোটি টাকা ও অপকর্মের তথ্য বের হওয়ার কথা। এতদিন কি ‘ভূতের মতো’ হাওয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে, তাকে দেখা যায়নি? জি কে শামীম কি হঠাৎ বেড়ে উঠেছিল? এসব খবর এখন ঘন ঘন সামনে চলে আসছে যা মানুষকে বিস্মিত করছে। এটি এখন ভয়েরও বিষয়। বিনাবিচারের প্রসঙ্গও উঠেছে। পুলিশের গুলিতে অব. মেজর সিনহা হত্যার পর এ প্রশ্নটা জোরালোভাবে আসে। দুদকের পরিচালক কিভাবে ঘুষের বিনিময়ে ডিআইজিকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয় তা শুনে অনেকেই এখন বিস্মিত। দুর্নীতি করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক এনামুল বাছিরের জেল হয়েছে। পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান কারাবন্দী এখন। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারও এখন কারাবন্দী। যদিও এ প্রশ্ন উঠছে যে, এতদিন গ্রেফতার হলেন না কেন বাবুল আক্তার? ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদ সীমাহীন ঘুষ বাণিজ্যে নিমগ্ন থাকায় এখন কারাগারে। তারা এখন বিচারের মুখে। কারা কর্মকর্তাদের সীমাহীন অপকর্ম ও দুর্নীতি কি একদিনে হয়েছে? ভয়াবহ ক্যাসিনো বাণিজ্যের সূত্রে রাজধানীর নারিন্দায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা দুই ভাই এনু-রুপমের টাকার গুদাম, পুরান ঢাকায় টাকার জোরে অখ্যাত ব্যক্তির ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোনয়ন পাওয়া, যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মাস্ক টেন্ডারিং, আরেক যুবলীগ নেত্রী পাপিয়ার প্রতিদিন তিন লাখ টাকা হোটেল মনোরঞ্জনের বিল- ভাবা যায়? দুর্নীতি কোথায় পৌঁছেছে? পাপিয়ার সঙ্গে সংসদ সদস্য, দলের প্রভাব সৃষ্টিকারী নেতার দহরম মহরমের খবর তো সরকারি দলের জন্য পীড়াদায়ক। অনিয়ম করে ব্যাংক কর্মকর্তার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। অবশ্য তদন্তও হচ্ছে।
আমাদের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ডলার। প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশের স্থান সপ্তম। রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার। এসব সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার জন্য। কিন্তু বুকের ছাতি ছোট হয়ে যায় দুর্নীতিবাজদের কারণে। বর্ধিত সময়েও শেষ হয় না কোন সেতুর কাজ, সড়ক যোগাযোগের কাজ। কখনও কখনও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলে, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, বাঁধ পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থ সহায়তা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাব যখন পাস হয় তখন মানুষ জানেই না। স্বাভাবিক সময়েই জীর্ণ, ভাঙ্গাচোরা বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢোকে, কিন্তু মেরামত হয় না। এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। যখনই দেশে বড় কোন ঝড়-জলোচ্ছ্বাস হয়, তখনই এসব বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়-তুফান থেমে গেলে আলোচনাও থেমে যায়। দক্ষিণাঞ্চলের বা উপকূলের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে যারা খোঁজ রাখবেন তারা ব্যস্ত থাকেন নিজেদের ধান্দায়। এ কারণে বাঁধগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দরিদ্রের পক্ষে শুধু পানিস¤পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম চাইলেই কি সবকিছু হবে! তার দেশপ্রেম আছে, মানুষ ও দলের জন্য ভালবাসা আছে। কিন্তু এ সেক্টর চালানোর মতো কঠিন কাজ কমই আছে দেশে। একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারের কৌশল আর চালাকির কাছে সৎ মানুষ অসহায় এমনকি মন্ত্রীও!
চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েক মাস আগে বলেছেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, কিছু কিছু লোক থাকে, সবকিছুতেই একটা নেতিবাচক মনোভাব তারা পোষণ করে। যতই ভাল কাজ করেন, সবসময় তাদের কিছু ভাল লাগে না। এ রকম ‘ভাল না লাগা’ রোগে ভোগে তারা। এ রোগের কি চিকিৎসা আছে আমি জানি না।’ তবে এটাও সত্য, সরকারে থাকা কিছু ব্যক্তির দুর্নীতি, কিছু আমলার দুঃসাহস ও অবিনীত আচরণ, একশ্রেণির এমপির অপকর্ম, কতিপয় মন্ত্রীর অযোগ্যতাই শেখ হাসিনার সুবিশাল অর্জন ম্লান করার জন্য যথেষ্ট। এ সরকার টানা সাড়ে বারো বছর ক্ষমতায়। এ সময়ে আওয়ামী লীগে হাইব্রিডদের উত্থান ঘটেছে। তাদের পোয়াবারো। অথচ দলের কঠিন মুহূর্তে, দুঃসময়ে-আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জীবন দিলেও এখন তারা নেই। ইতিহাস বলে, দুঃসময়ে ‘হাইব্রিডদের’ খুঁজেও পাওয়া যাবে না। অবশ্য এ বিশ^াস মানুষের মধ্যে জন্মেছে যে, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক তার এখন ছাড় নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতিমুক্ত দেশ রাখার প্রত্যয়ের প্রভাব পড়বেই।
লেখক : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com