1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

দুই মাস ধরে চুনাপাথর আমদানি হচ্ছে না : আয় বন্ধ ৫ শতাধিক শ্রমিকের

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

আশিস রহমান ::
পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের চেলা নদীর খেয়াঘাটে বাঁধা সারি সারি বারকি নৌকা। প্রতিটি নৌকা সাদা রঙে বিভিন্ন সংখ্যায় মার্ক করা। এসব নৌকা শুধু মাত্র ‘ইনপুটের মাল’ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। খেয়াঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে ভারতের সীমান্ত। ভারতে থেকে ইনপুটের মাল হিসেবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এদিকে নৌপথে চুনাপাথর আমদানি করেন। চুনাপাথর আমদানি বন্ধ থাকায় প্রায় দুই মাস ধরে খেয়াঘাটে পড়ে আছে ইনপুটের মালামাল পরিবাহী শত শত নৌকা।
বর্ষা মৌসুমে চেলা নদীতে পানি থাকায় মালামাল পরিবহনের সবচেয়ে সুবিধাজনক ও সহজ মাধ্যম নৌকা। ইনপুটের কাজে ব্যবহৃত নৌকাগুলো কাস্টমস অফিসের লাইসেন্সধারী হতে হয়। একেকজন মালিকের লাইসেন্স করা প্রায় ২০-৩০টি করে নৌকা রয়েছে। তারা মূলত এসব নৌকা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া দেন।
গত ৬ মে সর্বশেষ ইনপুট হয়। ভারতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানকার প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনপুট বন্ধ করে দিয়েছে। এখন সীমান্তের দুপারেই চলছে লকডাউন। এর প্রভাব পড়েছে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাইরগাঁও এলাকায়।
সীমান্তবর্তী এই এলাকার ইনপুট ব্যবসা নির্ভরশীল শ্রমিকদের আয়-উপার্জন থমকে গেছে। ইনপুট বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন এলাকা ও এলাকার বাইরের প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক। সীমান্তের ওপার থেকে এপারে ইনপুটের মালামাল ওঠানামা ও পরিবহনের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ হতো তাদের। এখন তারা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জীবিকার তাগিদে অনেকে ঝুঁকছেন অন্য পেশায়।
সরেজমিনে গেলে চাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিক স্বপন মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, ইনপুট চালু থাকতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতাম। বন্ধ থাকায় এখন বালু উত্তোলনের কাজ করি। আমরার আর কোনো আয়-উপার্জনের উপায় নাই। এইসব কাজ করেই সংসার চালাই। চার সন্তানের মুখে ডাল ভাত দিতে প্রতিদিন কাজ করা লাগে। বেকার থাকলে বউ বাচ্চা ভরণপোষণ কে করব।
একই গ্রামের শ্রমিক আলী হোসেন ও ইকবাল মিয়া বলেন, ইনপুট চালু থাকতে ভোর থেকেই খেয়াঘাটে নৌকার ভিড় জমে থাকতো। প্রতিদিনই নৌকা ভর্তি চুনাপাথর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হতো। সিংহভাগই বিক্রি হতো ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও লাফার্জের কাছে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় এখন শত শত নৌকা খালি পড়ে আছে।
এদিকে ইনপুট বন্ধ থাকায় শুধু শ্রমিকরাই নয়, ইনপুটের ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরাও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সময় মতো গ্রাহকদের নিকট মালামাল সরবাহ করতে পারছেন না তারা। নৌকার মালিকরাও পড়েছেন বিপাকে, ভাড়া দিতে পারছেন না। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।
চুনাপাথর ব্যবসায়ী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী এখানে ইনপুটের চুনাপাথর ব্যবসা করছি। ইনপুট বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের ব্যবসাও বন্ধ আছে। কবে নাগাদ খুলবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।
ছাতক শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোস্তফা আজিজ বসু জানান, গত দুই মাস ধরে ইনপুট বন্ধ রয়েছে। ইনপুট চালুর বিষয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা ভারতের কাস্টমসের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদের ওপর নির্ভর করছে তারা কবে নাগাদ চালু করবে। বাংলাদেশ কাস্টমস চাচ্ছে ইনপুট চালু থাকুক, সরকারও চাচ্ছে রাজস্ব আসুক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com