1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন মৎস্যচাষীদের

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

আশিস রহমান ::
মাছ চাষ করে গত বছর আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন টেংরাটিলা গ্রামের মৎস্যচাষী শের মাহমুদ ভুঁইয়া। বাড়ির পাশে ৪০ একর জমির একটি বিশাল পুকুরসহ ছোটবড় ৬টি বাণিজ্যিকভাবে চাষকৃত পুকুর রয়েছে তার। আগের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ধার দেনা করে পুকুরে আবারও বিনিয়োগ করেছেন। এখনো লাভের মুখ দেখেননি। কিন্তু এক বছরের মাথায় এখন আবার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের এই মৎস্যচাষী। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে হাওর-নদীর পানি বাড়তে থাকায় রাত জেগে পুকুর পাহারা দিতে হচ্ছে তাকে। পুকুর পাড় মেরামত, নেট দিয়ে পাড় ঘেরাওয়ের কাজসহ মাছ চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের মৎস্যচাষী শেখ মাহমুদ ভুঁইয়া-ই নয়, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর একই গ্রামের তাজুল ইসলাম, আলীপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, নুরুল ইসলাম, আব্দুস শহীদ, হাবিবুর রহমান, সোহেল আহমদ, আমজাদ হোসেন, সিরাজ মিয়াসহ হাওরপাড়ের অন্যান্য মৎস্যচাষীরা। তাদের সবাই গত বছরের বন্যায় লোকসানের শিকার হয়েছেন। মৎস্যচাষ ও ব্যবসায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিরূপ প্রকৃতির সাথে এক অসম সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছেন তারা। গেল বারের বন্যার ধাক্কা সামাল দিতে এবার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন হাওরপাড়ের মৎস্যচাষীরা।
সরেজমিনে গিয়ে মৎস্যচাষীদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুকুর পাড়ের চারপাশ জাল দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছেন অনেকেই।
আলীপুর গ্রামের মৎস্যচাষী আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের এখানে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয় এই বৃষ্টিতে পুকুর তলিয়ে যায়না, ভয় হয় পাহাড়ি ঢল নিয়ে। আমাদের এদিকে বৃষ্টিপাত না হলেও দেখা যায় পাহাড়ে ঢল নামলে আমরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাতারাতি আকস্মিক বন্যায় পুকুর তলিয়ে যায়। ঢলের প্রবল বেগে পুকুর পাড় ভেঙে যায়। আমাদের কোনো ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থাকেনা।
একই গ্রামের মৎস্যচাষী সোহেল আহমেদ বলেন, গত বছর কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই আকস্মিক বন্যায় একযোগে সব মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। বন্যার পানির স্রোতের কারণে জাল দিয়ে ঘেরাও করেও মাছ আটকানো যায়নি। অনেক পুকুরের পাড় ভেঙে গেছে। করোনা পরিস্থিতি ও বন্যায় সব মিলিয়ে পুঁজি শূন্য হয়ে পড়েছেন মৎস্যচাষীরা। এবার হাওরে পানি পরিমাণ শঙ্কাজনক না হলেও আমরা আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি। বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে গতবারের ক্ষয়ক্ষতি এবার কাটিয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী হাওরপাড়ের মৎস্যচাষীরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মণ বলেন, আমাদের তালিকায় পুরো উপজেলায় ৪,৬৬৬টি চাষযোগ্য পুকুর রয়েছে। গত বছর বন্যায় অনেক মৎস্যচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এবার এখনো পর্যন্ত কোনো পুকুর তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা সকল মৎস্যচাষীদেরকে পুকুর পাড় মেরামতকরণ ও জাল দিয়ে পাড় ঘেরাও করে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com