1. [email protected] : admin2017 :
  2. [email protected] : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:২২ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602
সংবাদ শিরোনাম
তাহিরপুরে প্রকল্প বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা : এক বাঁধে অর্ধকোটি টাকার বরাদ্দ বাংলাদেশ ভারত আন্তসম্পর্ক-৩ করোনাকালে বাংলাদেশের পাশে ভারত ২৮ দিন পর বই পেয়ে পৃষ্ঠা ওল্টিয়ে বিস্মিত শিশুরা আমার নির্বাচনী এলাকা আর অবহেলিত থাকবে না -পীর মিসবাহ এমপি  প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শীতবস্ত্র বিতরণ অর্ধশত গাছ কেটে বাঁধ মেরামত! প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ছাতকে পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু পীরপুর বাণীতলায় অষ্টপ্রহর ব্যাপী নাম ও লীলা সংকীর্ত্তণ সমাপ্ত অসহায় পরিবারের মাঝে আর্ন এন্ড লাইভ সংস্থার ছাগল প্রদান ১-৭ মার্চ মোবাইলে কল করলেই শোনা যাবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

শাল্লায় উপহারের ঘরে ফাটল

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১

জয়ন্ত সেন ::
মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ আশ্রয়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় শাল্লা উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দেওয়া বেশ কিছু ঘরে দেখা দিয়েছে ফাটল। হস্তান্তরের আগেই কোনো কোনো ঘরের রান্নাঘর ও বাথরুমের অংশ ধ্বসে পড়েছে। খসে পড়ছে দরজা-জানালাও। গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে উপজেলার ভেড়াডহর, সেননগর, মুজিবনগরসহ অন্যান্য গ্রামে। অন্যদিকে বেশকিছু ঘরের কাজ অস¤পূর্ণ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সুবিধাভোগী বাসিন্দারা। রাজমিস্ত্রিদের অদক্ষতায় বাড়তি সিমেন্ট কিনেছেন অনেকই। কাঠও কিনতে হয়েছে। অনেকে আবার ঘরের ফ্লোর করতে ইটের সংকটের কথাও বলেছেন।
বাহাড়া ইউনিয়নের ভেড়াডহর গ্রামের উপকারভোগী বেণু বৈষ্ণব বলেন, ঘরের কাজ এখনো শেষ হয়নি। সড়কে থাকছি এতোদিন। এখন অন্যের বাড়িতে গেছি। আমরারে যে কষ্টের মাঝে ফালাইছে ভাষায় প্রকাশ করার মত না।
নগেন্দ্র বৈষ্ণব বলেন, আমি গরিব মানুষ। টুকরি দোকানদারি কইরা খাই। এই কয়টা মাস আমার ৩টা ছোট বাচ্চা লইয়া সীমাহীন কষ্ট করছি। আমার ঘরে টিন লাগাইতাছে। আমার মূল ঘরের সামনের অংশ ফাইট্টা গেছে। এখন জোড়াতালি দিতাছে। আমি মানতাম না। এই ঘর যদি ভাইঙ্গা পড়ে? আমার ঘর আবার নতুন কইরা বানাইয়া দেউক।
নির্মল বৈষ্ণবের স্ত্রী বলেন, ৪টা মাস পরের ঘরে থাকতাছি। আমার স্বামী অসুস্থ। আরও সিমেন্ট লাগে। কই পাইমু টাকা? ভাত খাইতেই কষ্ট অইতাছে।
ওই গ্রামের অলি বৈষ্ণব বলেন, আমার ঘরেও ফাটল দেখা দিছে। তিনি বলেন, শুধু আমার ঘরে নয় পূর্বহাটি ও টুকের হাটিতেই এমন ১০টা ঘরে ফাটল দিছে। এগুলো কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে প্লাস্টার করতাছে। ব্যবহারের আগেই এই অবস্থা! আর ব্যবহার করলে একটা ঘরও টিকতো না। তিনি আরও বলেন, মৃত যোগেশ বৈষ্ণবের স্ত্রী সীতা রাণী বৈষ্ণবের ঘরটায় ফাটল দেখা দিছে। এই মহিলার ঘরটা যদি ধসে পড়ে-তাহলে জীবনে আর ঘর বানাইত পারত না। দুইটা সন্তান নিয়া অসহায় অবস্থায় আছে ওই বিধবা মহিলা। আবার প্রায় ঘরের দরজা জানালা খসে খসে পড়তাছে।
শাল্লা সদরের অদূরে শান্তিপুর গ্রামের মানিক মিয়া বলেন, শান্তিপুর গ্রামের খায়রুল মিয়া ও রুবেল মিয়ার ঘরে বড় ফাটল দেখা দিছে।
অন্যদিকে সেননগরের কেনু মিয়া বলেন, দরজা জানালা ছুইট্যা গেছে। দরজাটা ঠিক করছি। জানালাটা পারছি না।
উপকারভোগী জাহির আহমদ বলেন, আমার জানালাও খুইল্যা পড়ছে। আমার বারান্দায় এখনো টিন লাগানোর বাকি আছে। কাঠ আমি কিন্না আনছি।
মুজিবনগরের তোয়াহিদ মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে ঘর ভিজে যায়। মোশারফ মিয়া বলেন, বৃষ্টি অইলে ঘরে পানি জমে। ইউনুস আলীর স্ত্রী জানান, দুয়ার দিয়া পানি ঢুকে। রান্নাঘরের চালের উপর দিয়াও পানি পড়ে। তিনি আরও বলেন, আমার ঘরেও ফাটল।
নূর উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, বৃষ্টি অইলেই ঘর ভাইস্যা যায়। আমার ঘরও ফাইট্টা গেছে।
অঞ্জু বিবি বলেন, বৃষ্টি আইলে ঘরে রান্না করতে পারিনা। আমার ঘরের পালা ফাটছে।
আলী নওয়াজ বলেন, আমার ঘরে ফাটল আছে। নূরুজ্জামান, জয়নাল মিয়ার ঘরেও ফাটল। উত্তর পূর্বে অংশেও অনেক ঘরে একাধিক ফাটল দেখা গেছে।
সরেজমিনে এমনও দেখা গেছে কোনো কোনো ঘরের রান্নাঘর ও বাথরুমের অংশ স¤পূর্ণ ধ্বসে পড়েছে। অনেক ঘরের দরজা জানালাও খসে পড়তে দেখা যায়। আবার ফাটল জায়গায় প্লাস্টার করে রং করতেও দেখা গেছে।
সাগর নামের এক যুবক বলেন, আমরা ২৫-২৬টি পরিবার মুজিবনগরে এসেছি। অনেকই জানান বাকিরা ঢাকা সিলেটে আছেন বিভিন্ন কাজে।
জানা যায়, মুজিবনগরে ঘর দেওয়া হয়েছে ১০৫টি। স¤পূর্ণ নতুন মাটির উপরে নির্মাণ করা হচ্ছে শতাধিক ঘর। ফলে বহু ঘরেই দেখা দিয়েছে ফাটল। আবার বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যায় ঘরের মেঝে। এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম সর্দার বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে ছিলাম। আপনি একটু ইউএনও স্যাররে জানান।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদির হোসেন বলেন, আমরা যতটুকু পারি ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে বলে সেভাবে কাজ করছি। যদি ইঞ্জিনিয়ার বলে- না, এটা-ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তাহলে সেভাবে করবো আর যদি বলে না, এটা ভেঙে নতুন করে করতে হবে তাহলে নতুন করে করবো। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘরে জোড়াতালি দিয়ে দেওয়া যাবে না। দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে দেশের সর্বোচ্চ ১৬শ ঘর শাল্লার ভূমিহীনদের দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে মাত্র ১৪৩৫টি ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এখনো অনেক ঘরের কাজ অস¤পূর্ণ রয়েছে। সরেজমিনে ৩টি গ্রামের অনন্ত ২৫টি ঘরে ফাটলের চিত্র দেখা গেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com