1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মে মাসে ১০ খুন

  • আপডেট সময় সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

শহীদনূর আহমেদ ::
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বিরাজ করছে। চলতি মে মাসে খুন হয়েছেন ১০ জন। আর গত আড়াই মাসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২০টি। এছাড়া প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে তিন শতাধিক মানুষ।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানাযায়, চলতি মে মাসে খুন হয়েছেন অন্তত ১০ জন। সর্বশে শনিবার (২৯ মে) পৃথক ঘটনায় খুন হয়েছেন ২ জন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে শাহীন আলী (৩৫) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজারে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামের ছিদ্দিক আলী (৫৫) আরেক জন নিহত হন। এই ঘটনায় ২ জনকে আটক করে পুলিশ। এর আগে ২৩ মে সকালে তাহিরপুর উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের শান্তিপুরের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলম (২৩) নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ছাতকে চাচাতো ভাইয়ের হামলায় মোস্তফা আনোয়ার এনাম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ২০ মে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নিহত যুবক পৌরসভার নোয়ারাই এলাকার বাসিন্দা। ১১ মে দিবাগত রাতে খুন হন জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের ইজিবাইক চালক সিকান্দার আলী (৩০)। দুর্বৃত্তরা হত্যা করে লাশ গ্রামের পাশের হাওরে ফেলে রেখে যায়।
গত ৯ মে শিশুদের ঝগড়া নিয়ে বিরোধের জেরে জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নে আলীপুর গ্রামের স্বামী-স্ত্রী খুন হন। স্বামী আলমগীর ও স্ত্রী মোর্শেদাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন চাচাতো ভাই রাসেল। এছাড়া সুনামগঞ্জ পৌর শহরে পাওনা টাকার জেরে ৮ মে শুকুর আলী (২০) নামে এক রিকসাচালক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় ছালিক মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে, গত ৬ মে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নে সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি চুরিতে বাধা দেয়ায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় আব্দুর রউফ (৫০) নামের এক গ্রামপুলিশ সদস্যকে। এ ঘটনায় ৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া ১ মে দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামের বিল থেকে দুদু মিয়া নামে এক ব্যক্তির ৬ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
এছাড়াও এপ্রিল ও মার্চ মাস দেড় মাসের ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে আরও ১০ জন খুন হয়েছেন। ২৮ এপ্রিল ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ছাতারপই গ্রামে জবা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জবা বেগমকে নির্যাতন করে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন মেয়েটির পরিবার। এই ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী আমীর আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে, গত ২৮ এপ্রিল ছাতকে সানি সরকার (২২) নামে এক তরুণ খুন হন। ওইদিন সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ছাতক পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শোয়েব আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এছাড়া ২৭ এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলার জৈতাপুর গ্রামে শাশুড়ির সহযোগিতায় ধর্ষণের পর আজমিনা নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শাশুড়িসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল বাড়ির রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন জগন্নাথপুর উপজেলার মাসুম আহমদ নামে এক যুবক। ৮ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধের জেরে খুন হন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামে আব্দুল তাহিদ (৬০) ও রিপন মিয়া (৪০)। তারা আপন চাচা-ভাতিজা।
এদিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে একই উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামোধরতপী গ্রামে দুলাভাইয়ের হাতে নিহত হন শ্যালক রাসিক মিয়া। এই ঘটনায় দুলাভাই নাইজুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৮ মার্চ সুনামগঞ্জ পৌরশহরের কোর্ট এলাকায় নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের নিচতলা থেকে অনিক নামে এক স্কুল ছাত্রের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত স্কুল ছাত্র সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ২৩ মার্চ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের মুক্তাখাই গ্রামে এক রাজমিস্ত্রীর দোকানে ইমন নামে এক ১২ বছরের শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে ১৩ মার্চ পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামে শাহমুল্লুক নামে একজন নিহত হন। এসব ঘটনাসহ সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন তিন শতাধিক লোক।
এ অবস্থায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। কঠোর হস্তে বিশৃঙ্খলাকারীদের দমন না করলে দিন দিন পরিস্থিতি অবনতির দিকে গড়াবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. চাঁন মিয়া বলেন, সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ের কারণে মানুষে মানুষে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। মানুষের মানবিক উন্নয়ন প্রয়োজন। গ্রাম-গঞ্জের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পুলিশকে ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পুলিশকে আরও কাজ করতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট হোসেন তওফিক চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করছে। বিষয়টি এখনই গুরুত্ব সহকারে না দেখলে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তিনি বলেন, ঘটনার পর কেবল অপরাধীদের গ্রেফতার করলেই হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে। পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা কম। তারপরও আমরা পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি জন্য অ্যাডভোকেসি করে যাচ্ছি। যে সকল ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তড়িৎ গতিতে আসামিদের গ্রেফতার করেছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী গ্রহণ করেছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সকল ক্ষেত্রে পুলিশ কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সকল স্তরের জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com