1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

ধান কাটা হল সারা

  • আপডেট সময় সোমবার, ৩ মে, ২০২১

শামস শামীম ::
রৌদ্রজ্জ্বোল মওসুম। ধানকাটা-মাড়াইকালে কালবৈশাখি ও শিলার যখন তখন চোখরাঙনি ছিল না। অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলের আগ্রাসনের কবলেও পড়েনি কষ্টের বোরো ফসল। তাই এবার দীর্ঘদিন পরে ‘মনের মতো বৈশাখ’ পেয়ে ধান কাটা প্রায় শেষ করেছেন কৃষক। শুধু ধান কেটেই খুশি নন তারা, কাটা ধান শুকিয়ে গোলাজাত করেছেন। গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে কাটা ধানের খড়ও শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করেছেন। হাওরের বাইরে, কান্দার উঁচুতে যে অল্প জমি রয়েছে কাটার বাকি তা নিয়ে চিন্তিত নন তারা। ধান কাটা শেষ করতে পেরে জেলার প্রায় আড়াই লাখ চাষী পরিবারের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। ধানখলায় কৃষক-কিষাণীরা এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে গতকাল রোববার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৯৫.২৬ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এ বছর বোরো থেকে প্রায় ৯ লক্ষ ১ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। এবার ধানের দামেও সন্তুষ্ট কৃষক।
সরেজমিন শনিবার ও রোববার কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা গেছে ধান কাটা প্রায় শেষ। অল্প কিছু জমি হাওরের কান্দায় থাকলেও তা নিয়ে চিন্তিত নন কৃষক। তারা যে কোন সময় এই জমির ধান কাটতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। দেখা গেছে প্রতিটি খলাতেই কৃষকের সঙ্গে তাদের স্ত্রী, কন্যা ও সন্তানরাও ধান শুকানোর কাজ করছেন। শুকানো ধান বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে বস্তায় ভরে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ধানের পাশাপাশি হাওরের কান্দার পতিত ক্ষেতে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে খড় শুকাচ্ছেন। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে তারা কান্দায় তৈরি অস্থায়ী খলাঘরে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তবে ধান কাটা শেষ করতে পেরে সবাই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বাজারে অন্যান্য বছরের চেয়ে দামও একটু ভালো বলে জানিয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩৭টি হাওরে এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৬৫ হেক্টর। হাওরের বাইরে আরো ৫৭ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই মওসুমে আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৩২৩ হেক্টর বোরো জমি। ২ এপ্রিল পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা শেষ হয়েছে ৯৫.২৬ ভাগ। সবচেয়ে বেশি ৯৯ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলায়। সরকারি হিসেবে গতকাল রোববার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮৮ ভাগ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৯৮ ভাগ, দোয়ারাবাজারে ৯৭.০১ ভাগ, ছাতকে ৯০ ভাগ, জগন্নাথপুরে ৯৮.৯৯ ভাগ, দিরাইয়ে ৯৮.৫০ ভাগ, বিশ্বম্ভরপুরে ৯৬ ভাগ, তাহিরপুরে ৮৫ ভাগ, জামালগঞ্জে ৮৮ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওরে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। এদিকে হাওর বহির্ভূত জমির মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট যে অল্প ধান কাটার বাকি আছে তা কাটা শেষ করতে পারলে এবছর হাওরের বোরো ধান থেকে ৯ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে। যার বর্তমান বাজার মূল্য সরকারি হিসাবে অন্তত ৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ জেলায় বছরে বোরো আউশ মিলিয়ে সর্বমোট ১১ লক্ষ ৫১ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে এবছর বোরো থেকে ৯ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদিত হবে। স্থানীয় প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষের বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। এবার বোরো থেকেই প্রায় ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯৫ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকবে।
শাল্লা উপজেলার ভান্ডাবিল হাওরের কৃষক রঞ্জিত দাস বলেন, ‘৩ একর জমিন লাগাইছলাম। দিন মাদান বালা থাকায় কাইট্যা শেষ কইরা ঘরো ধান নিয়া আইছি। ইবার ধান কাটার সময় গরম থাকলেও কাটাছিড়ার লাগি ভালা অইছে। অন্যবার নাইলে বৃষ্টিবাদল অইলে কাটা ধানও নষ্ট অইজিতো। ইবার ধানের দামও বালা আছে।’
একই গ্রামের কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘ইবারের লাখান বছর ২০ বছরেও দেখছিনা। ছাপছফা কইরা ধান কাটছি, শুকাইছি, ন্যাড়াও শুকাইয়াল লাছি খরছি। ইবার আউরো অভাব অইতোনা। করোনাও আমরারে কুন্তা করতে পারতোনা। আমরা খুশি।’
দেখার হাওরের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক ও ইউপি সদস্য মহিনুর রহমান বলেন, আমাদের হাওরে ৯০ ভাগ ধান কাটা শেষ। বাদবাকি যা আছে তা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। কারণ এই ধান যে কোন সময়ই কাটা যাবে। বছরের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার কোন ফসল নষ্ট হয়নি। তিনি বলেন, ধান কাটার জন্য কৃষকদের কাছে যন্ত্রের বিপুল চাহিদা ছিল। সেই চাহিদা পূরণ না হওয়ায় কিছু ক্ষেত কাটার বাকি রয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, চাষাবাদের সময় কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান এবং কাটার সময় ভর্তুকিতে যন্ত্র পেয়েছেন কৃষক। এতে চাষাবাদ ও ধানকাটা সহজ হয়েছে। যার ফলে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, গত মওসুমের চেয়ে এবার আরো ৩৮ হাজার মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন হবে হাওরে। বোরো মওসুমের ধানেই জেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে আরো প্রায় চার লাখেরও বেশি মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com