1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

আজ মহান মে দিবস : হাওরে বংশ পরম্পরায় ধান কাটছেন শ্রমিকরা

  • আপডেট সময় শনিবার, ১ মে, ২০২১

শামস শামীম ::
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে বংশ পরম্পরায় ধান কাটছেন শ্রমিকরা। প্রতি বৈশাখে তারা বাড়িঘর ছেড়ে কৃষকের বাড়ি ছুটে আসেন। অবস্থান করেন ‘দেরিঘরে’ (অতিথির জন্য গৃহস্তের পৃথক ঘর)। ধান কাটা সারা হলে ভাগ নিয়ে খুশি মনে ছুটেন বাড়ি। পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রংপুর, বরিশাল, বগুড়া, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল এবং বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা এভাবে বৈশাখে হাওরে ধান কাটতে আসতেন। যাবার সময় নৌকা ভরে ধান নিয়ে যেতেন। স্থানীয়ভাবে এই শ্রমিকদের ‘বেপারি’ বা ‘ভাগালু’ হিসেবে ডাকা হতো। এখন বাইরের শ্রমিকদের আসা বন্ধ হলেও স্থানীয় শ্রমিকরা বংশ পরম্পরায় এখনো হাওরে ধান কেটে থাকেন। এবারও সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন হাওরে মওসুমি শ্রমিকরা ধান কাটতে দেখা গেছে। ধান কেটে অন্তত বছরের ছয় মাসের খোরাক সংগ্রহ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর উপজেলার লামাশ্রম গ্রামের শ্রমিক মধু মিয়া, বিন্নাকুলি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, নূর আলমসহ অনেক শ্রমিককেই নিজ সন্তানদের নিয়ে এবার হাওরে বোরো ধান কাটতে দেখা গেছে। শ্রমিকরা জানালেন, অন্যান্য সময় তারা সীমান্তের বিভিন্ন ছোট নালায় কয়লা, বালু ও পাথর কুড়িয়ে সংসার চালান। বৈশাখ এলে সন্তানদের নিয়ে হাওরে ধান কাটতে ছুটে আসেন। এবার মওসুম ভালো হওয়ায় সহজেই ধান কাটতে পারছেন তারা। ইতোমধ্যে প্রায় হাওরেই ধান কাটা শেষ হয়েছে। ধান কেটে ভাগে যা পেয়েছেন তা দিয়ে অন্তত ছয় মাসের খোরাকি হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর উপজেলার লামাশ্রম গ্রামের ধান কাটা শ্রমিক মধু মিয়া (৫০) গত তিরিশ বছর ধরে হাওরে ধান কাটতে আসছেন। প্রথমে এসেছিলেন তার পিতার হাত ধরে। এখন তার সন্তান আজিজুল হকও গত কয়েক বছর ধরে তার হাত ধরে ধান কাটতে আসছে। গত সোমবার শনির হাওরে গিয়ে দেখা যায় বেপারিদের সঙ্গে তীব্র রোদ মাথায় ধান কাটছেন পিতা ও পুত্র। একই দলে উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) ধান কাটতে এসেছেন ছেলে ফসিউল আলমকে নিয়ে। তিনি চল্লিশ বছর ধরে ধান কাটেন। তার সঙ্গে ছেলে নজরুলও গত দশ বছর ধরে ধান কাটছে। পিতা ও পুত্র মিলে বছরের কয়েক মাসের খোরাকি সংগ্রহ করতে পারেন তারা। পাহাড়ি ঢল, শিলাসহ বন্যায় হাওর না ডুবলে তারা ধান কেটে এই খোরাকি সংগ্রহ করেন বলে জানান। একই গ্রামের নূর আলম (৪৮) কেও দেখা গেল তার ছেলে নজরুল ইসলামকে নিয়ে ধান কাটছেন। তবে নজরুল প্রথম বারের মতো বাবার সঙ্গে ধান কাটতে এসেছে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বছর ভালা অইলে আউরো ধান কাইট্যা ৬ মাসের খোরাক তোলা যায়। ৭ হিস্যায় ধান কাটি আমরা। দশ বছর ধইরা আমার পুতও আমার লগে ধান কাটে। শ্রমিক নূর আলম বলেন, ‘পয়লাবার আমার পুতরে আউরো লইয়া আছি। বৈশাখও ইবার দিন-মাদান বালা। অনে বিদেশের বেপারিরা আয় না। আমরা অখনো আউরো আইয়া ধান কাটি। বছর ভালা অইলে গিরস্তের লগে আমরাও খুশি থাকি।
শ্রমিক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফসিউল আলম বলেন, ‘বাবার সাথে আইছি ধান কাটতে শনির আউরো। দশ বছর ধরি আউরো আইয়া ধান কাটি। বছর ভালা অইলে আমরাও খুশি কৃষকও খুশি।’
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কৃষক আয়ূব আলী (৫৫) বলেন, এ বছর তাহিরপুরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আমার জমির ধান কাটতে ১৮ জন বেপারি এসেছেন। তারা আমার দেরিঘরও আশ্রয় নিয়েছেন। ইতোমধ্যে ধান কাটা শেষ। এখন তারা অন্য কৃষকের ধান কাটছে। তিনি বলেন, কয়েকজন কৃষক আছে ৩০-৪০ বছর ধরে ধান কাটছে। এখন তাদের সঙ্গে সন্তানরাও ধান কাটতে আসে। তারা না আসলে আমাদের কৃষকদের ধান কাটা নিয়ে সমস্যা হতো। কারণ এখন আর অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসেনা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, এ বছর বাইরের জেলা থেকে প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক এসেছেন। তাছাড়া আমাদের জেলায়ও সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখের মতো শ্রমিক হাওরে কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে তারা প্রায় ৯০ ভাগের বেশি ধান কাটা শেষ করেছেন। তিনি বলেন, বংশ পরম্পরায় অনেক শ্রমিককে দেখেছি ধান কাটতে। তারা ধান কাটতে পারলে অন্তত ৬ মাসের খোরাক সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com