1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

শতভাগ স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

হোসাইন আহমদ ::
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেড় লক্ষাধিক পরিবারের মাঝে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি লেট্রিন ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৩৩টি গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ৪ হাজার নলকূপ, ৩ হাজার ৬শটি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ল্যাট্রিন ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাতধোয়ার বেসিন স্থাপন করায় গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন সুফল পাবে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ৪টি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ, থানা প্রাঙ্গণ, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্ব পার্শ্বে এসকল হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-০৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানির অভাব নিরসনে ও শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি লেট্রিন স্থাপনে শতকোটি টাকা সরকারের বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় নিয়ে আসতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৫০ কোটি ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস, দরগাপাশা, পাথারিয়া, শিমুলবাঁক, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের হতদরিদ্র ৫টি পরিবারের মাঝে ১টি করে নির্বাচিত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে গভীর নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ল্যাট্রিন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে এবং অনেক পরিবার ইতিমধ্যে সুফল ভোগ করছেন।
জয়কলস গ্রামের আস্তমা গ্রামের হতদরিদ্র খুদেজা বিবি জানান, আমার বসত বাড়ির আশপাশে কোন নলকূপ ছিল না। অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি আনতে হতো, সব সময় পানি আনা যেতো না। বাই (পুরাতন) পানি পান করতে হত। এখন সরকারি নলকূপ পাওয়ায় টাটকা পানি পান করি।
আস্তমা গ্রামের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হতদরিদ্র খোয়াজ আলী জানান, আমি কারো বাড়ির নলকূপে যেতে পারতাম না। আমিসহ আমার পরিবারের কারও কাছে কোন মানুষ আসতো না, তাই বাধ্য হয়ে খালের পানি পান ও ব্যবহার করতে হতো। এখন সরকারি নলকূপ পাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছি।
উপজেলার পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রশিদ জানান, আমি দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বিগত দিনে জনগণের নলকূপের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রকল্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানেটারি ল্যাট্রিন স্থাপনের ফলে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার এর সুফল পাচ্ছে।
দক্ষিণ সুনামসগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি হতদরিদ্র মানুষের যে পরিমাণ উপকার করেছেন, তা স্বপ্নেও কল্পনা করা যেতো না।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষের কথা চিন্তা করেন। বিশেষ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারে মাঝে গভীর নলকূপ ও স্যানেটারী ল্যাট্রিন স্থাপন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের আরও বড় বড় প্রকল্প নিয়ে আসেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি স্যার বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন দেওয়ায় এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (অ.দা) আব্দুর রব সরকার জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি স্যারের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ১শত কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে হতদরিদ্র নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি স্যারের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই সাথে করোনা প্রাদুর্ভাব রুখতে আমরা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করেছি। যার ফলে কারোনাকালে ব্যাপকভাবে মানুষের উপকারে আসছে। প্রতিনিয়তই এই বেসিনগুলোতে সাবান পানি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com