1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা : ঝুমন দাসের মুক্তি চান গ্রামবাসী

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টকাণ্ডসহ দেশব্যাপী ভাঙচুর, হামলা এবং নাশকতার ঘটনায় কারাগারে আটক হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটূক্তিমূলক পোস্ট প্রদানের অভিযোগে কারাগারে থাকা শাল্লার ঝুমন দাস আপনের মুক্তি দাবি করেছেন গ্রামবাসী। একই সঙ্গে হামলাকারীরা এখনো প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরলেও তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে ঝুমন দাস নিজে এবং তার পরিবারের সবাই শুরু থেকেই দাবি করে আসছে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়েছিল। ফেসবুকে ঝুমনের ওই পোস্টের জের ধরে গত ১৭ মার্চ দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ৬টি গ্রামের মসজিদ থেকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে নোয়াগাঁও গ্রামে হাজারো মানুষ হামলা করে। তারা ৮৮টি বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, ৬টি পারিবারিক মন্দির ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় ৭২ জনের নাম উল্লেখসহ তিনটি মামলায় অন্তত দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ঝুমনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেছে।
গত ২২ এপ্রিল নোয়াগাঁও গিয়ে দেখা যায়- হামলা ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামে প্রশাসন প্রদত্ত নতুন টিন দিয়ে ভাঙাঘর সংস্কার করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। বর্তমানে বোরো মৌসুম থাকায় নারী-পুরুষ সবাই হাওরে কাজ করছেন। শিশুরা দৌড়াদৌড়ি করছে গ্রামে। পাশের স্কুলে আটজনের পুলিশ দল ঘটনার পর থেকেই অবস্থান করছে। ঝুমন দাস আপনের ঘরে প্রবেশ করে দেখা গেল ঝুমনের ৭ মাস বয়সী শিশু সন্তান ঈশান দাস সৌম্যকে কোলে নিয়ে বসে আছেন তার মা নিভা রাণী দাস। স্ত্রী সুইটি রাণী দাসের হাত ভেঙে দিয়েছিল হামলাকারীরা। এখনো স্বাভাবিক হননি তিনি। বিছানায় বসে দুশ্চিন্তারত।
নিভা রাণী দাস বলেন, আমার ছেলে ঝুমন কোনো অপরাধ করেনি। বিনা অপরাধে জেলে আছে। তার শিশুপুত্র ও স্ত্রী তার চিন্তায় অস্থির। আমরা এখনো হুমকি-ধমকির মধ্যে আছি। চলতে ফিরতেও আমাদের সমস্যা হচ্ছে। আমরা ঝুমনের মুক্তি চাই।
নোয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাস বলেন, ঝুমন কোনো ধর্ম, রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয় নাই। সে একজন ব্যক্তির সমালোচনা করেছে। এ কারণে তাকে তথ্য-প্রযুক্তি মামলা দিয়ে জেলা রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। আমরা তার মুক্তি চাই এবং যারা আমাদের গ্রামে হামলা ও লুটপাট করেছিল সবার গ্রেপ্তার চাই। পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার না করায় আমরা এখনো আতঙ্কে আছি।
গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে সমাবেশ করে সংখ্যালঘুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন মামুনুল হক। এ ঘটনায় মামুনুলের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন ঝমুন দাস আপন। ১৬ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই দিরাই উপজেলার নাচনি, চণ্ডিপুর, সরমঙ্গল, সন্তোষপুর, ধনপুর এবং শাল্লা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মসজিদের মাই ব্যবহার করে ধর্ম অবমানার অভিযোগ এনে আন্দোলনের ডাক দেন হেফাজতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। রাতে তারা নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা করতে উদ্যত হলে প্রশাসন তাদের নিবৃত করে। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে ৬টি মসজিদ থেকে আবারও ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মাইকিং করেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ। ৬টি গ্রামের হাজারো মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সকালে হামলা করে নোয়াগাঁও গ্রামে। হামলাকারীরা ফেসবুকে লাইভ দিয়ে হামলায় অংশ নেয় এবং হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখায়। তারা মামুনুল, বাবুনগরী ও হেফাজতের অ্যাকশন বলে স্লোগান দিয়ে হামলায় অংশ নেয়। যা এখনো প্রশাসন ও স্থানীয়দের সংরক্ষণে আছে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৩ এপ্রিল) সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
শাল্লা থানার ওসি মো. নূর আলম বলেন, আমরা এ ঘটনায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা যারা ছিল তাদের তথ্যও সংগ্রহ করছি। ডিআইজি স্যার আবারও গ্রামে এসেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com