1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

চিনাবাদাম হাসি ফুটিয়েছে চাষীর মুখে

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

শামস শামীম ::
পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা পলি ও বালুতে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকার ভরাট কিছু জমি এখন কৃষকের কাছে আশীর্বাদ। সেখানে চিনাবাদাম ফলিয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষক। মওসুমে পানি জমেনা এমন জমিতে বাদাম চাষ করে পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা। তাদের চোখে-মুখে এখন হাসি হাসি করছে সুখ। দেখাদেখি অন্যরাও বাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছে। কৃষকরা জানালেন, বাজারের বীজ দোকানিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তারা বাদাম চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করে আরো বেশি উৎপাদন করতে পারবেন বলে জানান।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় চিনাবাদাম চাষ হয়। আরও তিনটি উপজেলায়ও কিছু কৃষক পরীক্ষামূলক বাদাম চাষ করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বাদাম চাষ হচ্ছে তাহিরপুর উপজেলায়। জেলায় ২০২০-২০২১ আবাদ বছরে মোট ১ হাজার ৪১০ হেক্টর জমির মধ্যে ১ হাজার ১৮৫ হেক্টর বাদামই চাষ হয়েছে তাহিরপুরে। তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটা, রক্তি, বৌলাইর তীরঘেঁষা জনপদগুলোতেই বাদাম চাষ করছেন চাষীরা। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৫ হেক্টর, দোয়ারাবাজারে ৬৫ হেক্টর, বিশ্বম্ভরপুরে ৬৬ হেক্টর, জামালগঞ্জে ৫৫ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ হয়েছে। সম্প্রতি ধর্মপাশা, ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলার কিছু কৃষকও বাদাম চাষ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে মতে, সুনামগঞ্জের বাদাম চাষীরা দুই পর্যায়ে চাষ করেন। একটির বীজ দিয়ে আরেকটি ফসল ফলান। প্রথম দফা অক্টোবর মাসে বাদাম চাষ করা হয়। পরে এই বাদামের বীজ দিয়েই দ্বিতীয় দফা জানুয়ারিতে আবারো চাষ করেন। ৮০-৯০ দিনের মধ্যেই বাদাম উত্তোলনের উপযোগী হয়। বর্তমানে তাহিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চাষীদের বাদাম তুলতে দেখা গেছে। যারা বাদাম তুলে সহযোগিতা করেন তাদেরকেও ১১টি ভাগ করে একভাগ প্রদান করেন কৃষক। ফলে সহজেই এলাকার মানুষ কৃষককে এভাবে বাদাম তোলায় সহযোগিতা করে নিজেরাও লাভবান হচ্ছেন।
কৃষক ও কৃষিবিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিঘাপ্রতি ৫-৬ মণ বাদামের ফলন পাওয়া যায়। প্রতি মণ বাদাম সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করেন কৃষক। প্রতি বিঘায় তাদের খরচ হয় ৮-৯ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করা যায়।


সুনামগঞ্জের বাদাম চাষী ও কৃষি বিভাগের মতে সুনামগঞ্জের চাষীদের বাদামক্ষেত সবুজময় হলেও ফলন কম হয়। কারণ তারা নিয়মানুযায়ী পরিচর্যা করেন না। যার ফলে গাছগুলোর বৃদ্ধি দেখা গেলেও ফলন কম হচ্ছে। মূলত জিপসাম ও টিএসপি সার সময় ও পরিমাণ মতো না দেওয়ায় ফলন কম হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষিবিভাগ।
তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি গ্রামের সফল বাদামচাষী ফুল মিয়া (৫৫)। যাদুকাটা ও বৌলাই নদীর তীরের জমিতে এক সময় অগ্রহায়ণ মাসের বাইন (লম্বা বিছানো ধান) চাষ করতেন। তার জমিগুলো পাহাড়ি ঢলে বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে যাবার পর গত ২০ বছর ধরে নিজ থেকেই বাদাম চাষ শুরু করেন। এবছরও ১৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। এতে তার এক লাখ টাকার উপর খরচ হয়েছে। আশা করছেন দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার বাদাম বিক্রি করবেন। ফুল মিয়া বলেন, ‘ইবার চিনা বাদাম করলাম ১৮ কিয়ার জমিনো। নিজের প্রশিক্ষণে করতাছি। যা বাদাম অয় ভালাই অয়। সরকারি কুনু প্রশিক্ষণ টশিক্ষণ পাইনা। পাইলে ভালা অইতো’।
একই গ্রামের কৃষক সাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরার গেরামো ৬০-৭০ পরিবার বাদাম লাগায়। আমিও ইবার দেড় কিয়ার জমিনো বাদাম লাগাইছি। আমরা সবাই বাদাম লাগাইয়া লাভবান অইছি। আমরার গেরাম এখন বাদাম কইরা উন্নত।’ ধান থেকে বাদামের ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকরা চাষে ঝুঁকছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বাদাম তোলার মওসুমে কৃষকদের ফলন মাঠে রেখে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। ভাগে বাদাম তুলে দেন এলাকার মানুষরা। ১১ টুকরি বাদাম তুললে এক টুকরি বাদাম পান উত্তোলনকারীরা। তাই এখন কৃষকের ক্ষেতে এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষ সন্তানদের নিয়ে বাদাম তুলে দিতে দেখা যাচ্ছে।
বালিজুরি গ্রামের কৃষক ফুল মিয়ার ক্ষেতে ভাগে বাদাম তুলে দিতে ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে এসেছেন একই গ্রামের রাজিয়া বেগম। তার মতো গ্রামের আরও অন্তত ১৫টি পরিবারের নারীরা সন্তানদের নিয়ে ক্ষেতে এসে ভাগের বিনিময়ে বাদাম তুলে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা এলাকাত বাদম খেত বালা অয়। সবাই তুইল্যা দেয়। গিরস্তে আমরারেও কিছু দেয়। আমরাও লাভ অয়।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, সীমান্ত এলাকার নদী তীরবর্তী বালুভূমিরকম ভূমিতে যেখানে পানি জমেনা সেই জমিতে বাদাম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধানের তুলনায় বাদাম চাষে লাভ বেশি। তবে সুনামগঞ্জের চাষীরা পর্যাপ্ত পরিচর্যা করতে না পারায় কাক্সিক্ষত ফলন পাননা। তিনি বলেন, আমরা রবি মওসুমে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে আমাদের মাঠ পর্যায়ে লোকবল না থাকায় সবার কাছে পৌঁছা সম্ভব হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com