1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০২:০৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

যাদুকাটার মরণদশায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

  • আপডেট সময় বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি ::
উজান মুখে বালু জমে নাব্যতা হারিয়েছে তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও মাহারাম নদী। পাহাড়ি ঢলের সাথে ধেয়ে আসা বালুর আগ্রাসনে নষ্ট হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এছাড়া বালুর স্তর পড়ে নাব্যতা হারানো নদীর গতিপথ পরিবর্ত হয়ে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার অনেকগুলো হাওর, যাদুকাটা নদীর আশপাশের প্রায় ৪০টি গ্রামের আমন ফসলি জমি ও বসতি ঢলে ভেসে আসা যাদুকাটার বালু স্তর পড়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, যাদুকাটা ও মাহারাম নদীর উজান মুখে বালু জমে নাব্যতা নষ্ট হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের সাথে ধেয়ে আসা বালুতে নষ্ট হচ্ছে তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢলের পানিতে আসা বালুতে চাপা পড়বে আশপাশের ফসলি জমি, বসতি। নদী ভরাট হওয়ার কারণে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনসহ হাওরে পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর। এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। এছাড়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, দুই বছর যাবৎ বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় যাদুকাটায় বালু জমে নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এই বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যে কোন জনপথ নদীগর্ভে বিলীন এবং হাজার হাজার হেক্টর আমন ও বোরো ফসলি জমি বালুর নিচে চাপা পড়ে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় লক্ষ লক্ষ কৃষক শঙ্কিত। অচিরেই ড্রেজিং বা অন্য কোন উপায়ে বালু না সরালে আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান জানান, এ ব্যাপারে মিটিংয়ে আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। জানিয়েছি যাদুকাটার উৎসমুখের বালু খনন করে না সরালে ঐ এলাকার আমন ও বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয় জানিয়েছেন কতিপয় লোকের মামলার কারণে কিছু করা যাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। যাদুকাটা ও মাহারাম নদীর উৎস মুখে বালু জমে বর্তমানে নদীর নাব্যতা হারিয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাস ফ্লাডে বালু পড়ে ওই এলাকাসহ হাওরের ফসলি জমি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, পূর্বে জেলা প্রশাসন ইজারা প্রথার মাধ্যমে যাদুকাটার বালু উত্তোলন করতো কিন্তু বর্তমানে শুনেছি একটি পক্ষ মামলা করে বালুমহাল ইজারা বন্ধ রেখেছে। খনন করে বালু সরানোর বিষয়ে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণাসিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, বোরো ফসলের স্বার্থে হাওরের পানি ধারণ করার জন্য প্রায় ভরাট হওয়া নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনে রক্তি, বৌলাই নদীগুলো সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করে যাচ্ছে। কিন্তু মূল নদী যাদুকাটার উজানে যে পরিমাণ বালু জমেছে তা খনন না করলে খননকৃত রক্তি ও বৌলাই নদী ভরাট হবেই। তাছাড়া ঐসব এলাকার ফসলি জমির উপর বালু পড়ে কৃষি, জানমাল ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন সময় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণের সাথে কথা বলেছি। সকল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নলেজে বিষয়টি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউ পি সদস্য রেণু মিয়া জানান, যাদুকাটার বালু খনন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে আমরা বার বার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও জানান এই যাদুকাটার বালু দিয়ে সমগ্র দেশের উন্নয়ন কাজ চলে। বর্তমানে যাদুকাটায় শ্রমিকরা বালু উত্তোলন করতে পারছে না ফলে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তিনি জানান, যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকদের কাজ করার সুযোগ দিলে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবেনা, শ্রমিকদের বালু উত্তোলনের ফলে এমনিতেই নদীর নাব্যতা পূর্বের জায়গায় ফিরে আসবে। তা-না হলে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা বালু পড়ে হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যাবে, লক্ষ লক্ষ মানুষ এ কারণে শঙ্কিত।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যাদুকাটার বালু সরানোর চিন্তা আমাদের রয়েছে। কিন্তু মামলা থাকার কারণে কিছু করা যাচ্ছে না। যাদুকাটার বালু না সরালে ফসলি জমির ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে মর্মে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য সলিসিটর বরাবরে পত্র প্রেরণ করেছি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com