1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

বেকার লক্ষাধিক শ্রমিক-ব্যবসায়ী : যাদুকাটা বালু মহাল খুলে দেওয়ার দাবি

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

সাজ্জাদ হোসেন শাহ ও রাজন চন্দ ::
মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক জটিলতায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা সুনামগঞ্জ জেলার বৃহৎ কর্মস্থল যাদুকাটা বালু মহাল খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বেকার বারকি শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি এলাকায় যাদুকাটা বালু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ও যাদুকাটা শ্রমিক সমবায় সমিতির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ইউনিয়নের লাউড়েরগড়, ঘাগটিয়া, বাদাঘাট, শাহিদাবাদ, বারিকটিলা, শিমুলতলাসহ যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী ৩০টি গ্রামের হাজারো বেকার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, তাহিরপুর অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ বংশ পরম্পরায় যাদুকাটা নদী থেকে বালু আহরণের পর বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। করোনাকালীন এই দুর্দিনে মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। বৃহৎ এই কর্মক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপার্জনের বিকল্প পথ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বহু কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের লেখাপড়া চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে তাদের।
বক্তাদের অভিযোগ, একটি স্বার্থানেস্বী মহল সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মামলা-মোকদ্দমার বেড়াজাল ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে মহালটি বন্ধ রেখে ফায়দা হাসিল করে চলছে। তাদের এই ষড়যন্ত্রের কারণে করোনাকালীন দুর্দিনে কংর্মসংস্থান না থাকায় স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবন বাঁচাতে যাদুকাটা বালু মহাল খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যথায় এই অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন তাহিরপুর যাদুকাটা বালু ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহীদ, যাদুকাটা শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি সাহেদ মিয়া, ইউপি সদস্য মো. রেনু মিয়া, বালু ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন, শ্রমিক নেতা হাকিকুল মিয়া, মোতালেব মিয়া, রহিছ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, কায়রাত হোসেন, কামাল হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা আরও বলেন, তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর লাউড়ের গড় সীমান্ত এলাকায় তিনটি বালুমহাল আছে। এসব মহালে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অনন্ত ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। পাশাপাশি এই বালু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন এলাকায় হাজারো ছোট-বড় ব্যবসায়ী। এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বালু যায়। কিন্তু ইজারা না হওয়ায় এক বছর ধরে তিনটি বালুমহাল বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি সরকার প্রতিবছর অন্তত ১০ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে তাঁরা চরম দুর্ভোগে আছেন। তার ওপর বালুমহালগুলো বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকেরা। গত এক বছর বালু উত্তোলন না হওয়ায় মহালগুলোতে উজান থেকে ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ বালু জমেছে। এতে নদীর নাব্যতাও কমে গেছে। যে কারণে এবার ঢল এলে নদীর তীর উপচে এলাকার আমন জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যাদুকাটা নদীর শ্রমিক সমিতির সভাপতি সাহেদ মিয়া বলেন, বালুমহাল ইজারা না হলেও এলাকার একটি প্রভাবশালী পক্ষ নানাভাবে বালু উত্তোলন করে সেগুলো বিক্রি করে। বিভিন্ন সময়ে নদীতে প্রশাসনের অভিযান হওয়ায় কারণে অনেকেই রাতে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছেন। এতে এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু মহাল ইজারা হলে তখন এসব অপকর্ম হয় না। মানুষ নিয়ম মেনেই নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন। এতে এলাকার হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিক উপকৃত হন।
এলাকার লামাশ্রম গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জহির মিয়া বলেন, আমরা চাই সরকারের নিয়মনীতি অনুযায়ী মহালগুলো ইজারা হোক। মানুষ যেন নদীর কোনো ক্ষতি না করে বালু উত্তোলন করতে পারে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরাও তাঁদের জীবন-জীবিকা চালাতে পারবেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই বালুমহালগুলো প্রতিবছর জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা দেওয়া হয়। গত বছর ইজারা দেওয়ার সময় একটি পক্ষ সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। যে কারণে প্রশাসন ইজারা দিতে পারেনি। এবার প্রশাসন থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবার মহালগুলো ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলে উচ্চ আদালতের আরেকটি স্থগিতাদেশের কারণে এই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, গত বছর মামলার কারণে এসব বালুমহাল ইজারা হয়নি। এবার আমরা সব প্রক্রিয়া স¤পন্ন করেছি। কিন্তু আদালতের আরেকটি আদেশের কারণে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ থেকে আপিল করা হবে। বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেই বালুমহালগুলো খুলে দেওয়া যাবে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com