1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

এবারও বোরো হাসি ফোটাবে কৃষকের মুখে

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

শামস শামীম ::
দেশব্যাপী বোরো ভাণ্ডার খ্যাত সুনামগঞ্জ। জেলার প্রায় আড়াই লাখ চাষী পরিবার বোরো চাষে জড়িত। হাওর থেকে বছরে প্রায় ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অর্ধেকেরও বেশি চাল উদ্বৃত্ত থাকে। তাই কোনো দুর্যোগে হাওরের ফসলহানি ঘটলে জাতীয়ভাবে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। করোনা মহামারিকালে প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগের মধ্যেই কৃষক এবার ধানকাটা শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ৪.৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে বিভিন্ন স্থানে ধানকাটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে হাওরের ধান যাতে দ্রুত কাটা হয় সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৪৩টি ধান কাটার মেশিনসহ বাইরের জেলা থেকে ৪ হাজারেরও অধিক শ্রমিক হাওরে নিয়ে আসা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই হাওরে ধান কাটার ধুম পড়বে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নব্বই দশক পর্যন্ত ধান কাটার মওসুমে সুনামগঞ্জে বাইরের জেলার হাজার হাজার মওসুমি শ্রমিক ধান কাটতে আসতেন। এখন সুনামগঞ্জের চেয়ে তাদের আর্থসামাজিক উন্নতির কারণে শ্রমিক আসা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর করোনা মহামারির কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক নিয়ে আসা হয়। এবারও সরকারিভাবে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পাবনাসহ কয়েকটি জেলা থেকে ৪ হাজার ১০৩ জন শ্রমিক এসেছেন হাওরে। আরও কয়েকটি জেলার শ্রমিকরাও কিছুদিনের মধ্যে এসে হাওরে ধান কাটায় যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। সরকার মহামারি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে যে লকডাউন ঘোষণা করেছে তাকে হাওরের শ্রমিকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো মূল্যেই হাওরের বোরো ধান কাটতে সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে হাওরো বোরো ফসল রক্ষায় তিনি এ বছর ১৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার পর এখন ফসল পাকার উপক্রম হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা অসহায় কৃষকের কষ্টের ধান যাতে শ্রমিকের অভাবে ক্ষেতে নষ্ট না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিনই তার নির্দেশনা মেনে কৃষিমন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা হাওরে ঘুরছেন।
ইতোমধ্যে হাওরের ধান কাটতে সরকারিভাবে ৮৯টি ধান কাটার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। গতবারের বিতরণকৃত আরো ১২৯টি মেশিনও হাওরে কাজ করছে। তাছাড়া কৃষকদের অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো ২৫টি মেশিন হাওরে নামিয়েছেন। স্থানীয় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার শ্রমিকও ধান কাটছেন বিভিন্নভাবে। তাছাড়া স্থানীয় বালু ও পাথর মহাল বন্ধ থাকায় সেখানকার শ্রমিকরাও হাওরের ধানকাটায় এসে যুক্ত হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, এ বছর মওসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধানের ফলন কমেছে। অনেকের ক্ষেতই পরাগায়ণের সময় গরম বাতাসে হয়ে নষ্ট গেছে। তাছাড়া কমবেশি সব কৃষকের জমিই বৃষ্টির অভাবে বাম্পার ফলনে প্রভাব ফেলেছে। তবে কৃষি বিভাগ বলেছে বাম্পার ফলনে এতে বড় কোন প্রভাব পড়বে না। পুরো ফসল গোলায় তোলতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে না।
কৃষি বিভাগের মতো জেলায় চলতি বছর ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর। এর মধ্যে বিআর ২৮ ধান ৬৭ হাজার হেক্টর এবং বিআর ২৯ ধান ৬৩ হাজার হেক্টর। বাকি ধান হাইব্রিডসহ কিছু দেশিয় প্রজাতিও রয়েছে। বর্তমানে বিআর ২৮ ও দেশি প্রজাতির ধান কাটছেন কৃষকরা। দেশি প্রজাতির ধান কেটেই হাওরের চাষীরা ‘নিদান’ দূর করেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরো দমে ধান কাটার ধুম পড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থা সমূহের গাণিতিক মডেল পর্যালোচনা করে পূর্বাভাস দিয়েছে- ১১ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত হবে। হাওরের মাথার উপর অবস্থিত আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়েও বৃষ্টিপাত হবে। এতে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ভারতের মেঘালয়, আসামে ভারী বৃষ্টিপাত হলে সুনামগঞ্জে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাওরে প্রবেশ করে বোরো ফসল ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। যে কারণে হাওরে ফসলহানির আশঙ্কা থাকে। যার ফলে কৃষকরাও উদ্বিগ্ন থাকেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেখার হাওরের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক নূরুল হক বলেন, আমি এক সপ্তাহ আগেই বিআর ২৮ ধান কাটতে শুরু করেছি। ধীরে ধীরে আমার অন্য ক্ষেতের ধানও পাকছে। তবে কাক্সিক্ষত শ্রমিক মিলছে না। তিনি বলেন, এবছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধানে কিছুটা চিটা দেখা যাচ্ছে। এখন দিন ভালো থাকলে আশা করি সব ফসল কাটতে পারব।
শাল্লা উপজেলার উদগল হাওরের রামপুর গ্রামের কৃষক ঝন্টু কুমার দাস বলেন, আমাদের হাওর এখনো প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের মুখে পড়েনি। আমি ৬০ শতক দেশি বোরো ও ৯০ শতক হাইব্রিড ধান কেটেছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমাদের হাওরে ধুম ধান কাটা পড়বে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, ধান কাটতে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক নিয়ে আসার পাশাপাশি প্রায় আড়াইশ ধান কাটার মেশিন হাওরে রয়েছে। এই মাসের মধ্যেই আমরা আশা করছি ৮০ ভাগ ধান কাটা শেষ হবে। তিনি বলেন, বেশি অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টিতে কিছু চিটা হয়। তবে এবার হাওরের গড় ফলনে এতে কোন প্রভাব পড়বে না। শ্রমিকেরও অভাব হবেনা। প্রাকৃতিক বড় দুর্যোগ না এলে এবারও কাক্সিক্ষত ফলন আসবে হাওর থেকে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওরবাসীর প্রতি খুবই আন্তরিক। হাওরের ফসল গোলায় তুলতে সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, এক সময় বাইরের জেলার শ্রমিকরা আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর থেকে তারা আবার আসতে শুরু করেছেন। তাই আমাদের ফসল কাটার উদ্বেগ কমেছে। এবারও হাওরবাসীর মুখে হাসি ফোটাবে বোরো ধান।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com