1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১২:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

একাত্তরেও এমন তাণ্ডব দেখেনি নোয়াগাঁওবাসী

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

জয়ন্ত সেন ::
১৭মার্চ সকালে দিরাই উপজেলার নাছনীপুর গ্রাম থেকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউপির স¤পূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা করার জন্য। ওই গ্রামের অনেকই জানান সকাল সাড়ে ৮টার দিকেন নাছনী, চণ্ডীপুর, কাশিপুর থেকে হাজার হাজার হেফাজতপন্থীদের বিরাট দল মিছিল সহকারে নোয়াগাঁও গ্রামের দিকে আসতে থাকে। মানুষের দল ধেয়ে আসতে দেখে হিন্দু নারী-পুরুষ দিগি¦দিক ছুটাছুটি করে পালাতে থাকেন।
গ্রামের এক মুদি দোকানী নারী জানান, নাছনীর স্বাধীন মিয়া, ফক্কন মিয়া ও তার ছেলেকে তিনি চিনেছেন। তারা ওই নারীর দোকানে বিভিন্ন সময় মালামাল ক্রয় করতে আসতো। সেই সুবাদে তিনি তাদের চিনতে পেরেছেন। তিনি বাড়িতে এসেই তাদের দেখেছেন। ওই নারী আরও বলেন, তার মন্দির, মেশিন ও দোকানঘরে হামলা করে সব তছনছ করে দিয়ে গেছে।
গ্রামের শৈলেন দাস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার ঘরে পিআইসির টাকা ছিলো। আলমারি ভাইঙ্গা সব লইয়া গেছে। ৪০ হাজার টাকার কাপড়ই নিয়ে গেছে। ঘরের স্বর্ণালঙ্কারও সব লইয়া গেছে। ঘরবাড়ি সব ভাংচুর করছে। আমি বউ বাচ্ছা লইয়া হাওরে পালাইয়া জান বাঁচাইছি।
গ্রামের বরুণ দাস বলেন, আমার বউয়ের সব সোনাদানা লইয়া গেছে। ২০হাজার টাকা নিছে, মোবাইল নিছে, বাড়িঘর ভাঙছে।
নারায়ণ দাস বলেন, সব ভাইঙ্গা শেষ কইরা শেষে টাকা-পয়সা, মহিলাদের স্বর্ণালঙ্কারও নিয়া গেছে। আমরা বাড়িতে থাকলে মাইরা ফালাইলনে।
অসীম চক্রবর্তী বলেন, আমার বিষ্ণু মন্দিরে একটিকষ্টিপাথরের দেড়কেজি ওজনের মূর্তি ছিল। সেটা নিয়া গেছে। বাড়িঘর ভাংছে। এই গ্রামের সবার বাড়িতেই লুটপাট করছে এরা।
আক্রমণের ঘোষণা মসজিদের মাইকে শুনতে পান নোয়াগাঁও গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, আমার ঘর তছনছ করছে ওরা, আমারে মারছে। পরে ২৫ হাজার টাকা দিয়া আমি জান বাঁচাইছি। আমার ছেলের জান বাঁচাতে আরও ৪ হাজার টাকা দিছি। এরপরও আমার সব শেষ কইরা গেছে। গ্রামের ৭ জন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট করে দুষ্কৃতিকারীরা। শুধু তাই নয়, গ্রামের ৮৮টি বাড়িতে এমন লুটপাট চালায় বলে জানান নওয়াগাঁও গ্রামের নিরীহ হিন্দু মানুষগুলো। হামলার পূর্বে উপজেলার ভান্ডাবিল হাওরে আত্মরক্ষার জন্য ধান ক্ষেতে লুকিয়ে পড়ে গ্রামের শতশত নারী-পুরুষ ও শিশুরা। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্যই জানা যায়।
গ্রামবাসী জানান, এমন সাম্প্রদায়িক হামলা ১৯৭১ সালেও দেখেনি তারা। তারা জানান, উপজেলা সদরেও হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল দুষ্কৃতিকারীরা। এসময় ডুমরা ও ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের যুব সমাজ রুখে দাঁড়ানোয় সেখানে আর হামলা ও লুটপাটের সাহস পায়নি হেফাজতিরা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com