1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরের স্কুলে থাকবে না বিশুদ্ধ পানি সংকট

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি ::
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের সরকারি দেড় হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারের সুযোগ আর থাকছে না। ২০২৩ সালের মধ্যেই জেলার সবগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর নলকূপ স্থাপন ও পয়োনিষ্কাশনের জন্য দ্বিতল বিশিষ্ট ওয়াসরুম নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৪ (পিইডিপি-৪) প্রকল্পে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে জেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এ কাজ হয়ে গেলে হাওরাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশুদ্ধ পানি পান ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এই সমস্যার সমাধান কল্পে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে এসব বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের সাধারণ নলকূপ কোন প্রতিষ্ঠানেই আর থাকবে না। প্রথম দফা ৩০০টি গভীর নলকূপ ও ২০০টি দ্বিতল বিশিষ্ট ওয়াসব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৯০টি স্কুলে গভীর নলকূপ ও ৬০টি স্কুলে ওয়াসব্লক নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ে কাজ চলমান আছে। এই প্রকল্পের অধীনে জেলার সবগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ২০২৩ সালের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণের কাজ শেষ হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৩শটি গভীর নলকূপ স্থাপনে ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ও ২০০টি দ্বিতল বিশিষ্ট ওয়াসব্লক নির্মাণে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রথম বরাদ্দের কাজ দ্রুত চলছে। এই কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট বিদ্যালয়ের কাজেরও বরাদ্দ আসবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
হাওর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, হাওরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা এই সমস্যার কারণে অনেকে সামান্য অসুস্থতার সময় বিদ্যালয়ে আসেনা। ওয়াসব্লক না থাকায় ছাত্রীদের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়। ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বিভিন্ন সময় কমে যায়। এই কাজ শেষ হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তাহিরপুর সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সরোয়ার বলেন, গভীর নলকূপ ও ওয়াসব্লক বিদ্যালয়ের জন্য খুবই জরুরি। আগে এই ব্যবস্থা না থাকায় নানা কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকতো। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নির্মাণের পর এতে কিছুটা হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও বাড়বে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোলেমান মিয়া বলেন, বেশ আগেই আমাদের জেলায় গভীর নলকূপ ও দ্বিতল বিশিষ্ট ওয়াসব্লক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এটা শিক্ষার্থীদের খুবই কাজে দিচ্ছে। কারণ আগে অধিকাংশ বিদ্যালয়েই আগে এই ব্যবস্থা ছিল না। এতে বিশুদ্ধ পানি সংকটের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারেরও সমস্যা ছিল। এখন ধীরে ধীরে এই সংকট কেটে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, ২০২২ সালের মধ্যে হাওরের সবগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিশুদ্ধ পানি সংকট ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানার ব্যবস্থার কাজ শেষ হবে। এই কাজ দ্রুত চলছে। এখন থেকে আর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা হবে না। কাজগুলোর গুণগত মান যাতে ভালো হয় সেদিকে আমাদের নজরদারি রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com