1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

শ্মশানের উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ!

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

শহীদনূর আহমেদ ::
ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নে শ্মশানের উপর দিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদী তীর দিয়ে বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন রেখা (অ্যালাইনমেন্ট) হওয়ার কথা থাকলেও ২৪নং পিআইসি বাঁধ শ্মশানের উপর দিয়ে এবং গ্রামের পাশ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করায় এর যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়াও কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ এর অনুযায়ী বাঁধ সংশ্লিষ্ট হাওরের কৃষককে পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও এই প্রকল্পে তা মানা হয়নি। বাঁধের উচ্চতা, দৈর্ঘ্য, স্লোভ, দুরমুজসহ কাজের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন কাইল্লানী হাওরপাড়ের কৃষকরা।
এদিকে, পারিবারিক শ্মশানের উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ না করে নদীর তীর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করতে সংশ্লিষ্টদের কাজে বার বার লিখিত আবেদন জানানো হলেও কাজের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শ্মশানের জায়গার মালিক পরিমল মজুমদার।
গত বুধবার উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের শানবাড়ি এলাকার ২৪নং কাইল্লানী উপ প্রকল্প সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাঁধের হাল চিত্র। ১ কিলোমিটার বাঁধটির বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। ফসলরক্ষা বাঁধটি নদীর পার দিয়ে নির্মাণ করার কথা থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই একটি পারিবারিক শ্মশানের উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধের কয়েক’শ মিটার স্থান শানবাড়ী গ্রামের প্রবেশদ্বারে নেয়া হয়েছে অযৌক্তিকভাবে। গ্রামের উপর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশের নজির নেই বলে জানান অনেকেই। বাঁধের ফলে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গ্রামবাসীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে বলে জানাযায়।
এদিকে নীতিমালা অনুযায়ী, বাঁধের সংশ্লিষ্ট হাওরের কৃষকদের পিআইসি করার কথা থাকলেও ২৪নং পিআইসির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো জমি নেই বলে জানান স্থানীয়রা। তাহলে কিভাবে তাদের পিআইতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো এমন প্রশ্ন অনেকেরই।
অপরদিকে চলমান বাঁধের কাজে নানা অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। অক্ষত বাঁধের কয়েক অংশে কয়েক ইঞ্চি মাটির প্রলেপ দেয়া হয়েছে। পুরাতন মাটির স্তর দেখে সহজেই অনুমেয় হবে যে কিভাবে নামমাত্র মাটি ফেলে বরাদ্দ হজম করা হয়েছে। বাঁধ স্লোভের নিয়ম মানা হয়নি। বাঁধের গোড়ায় ঘাস লাগানোর কথা থাকলেও ঘাসের চিহ্ন মাত্র পাওয়া যায়নি। বাঁধের কাজের নানা অনিয়মের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
মো. আব্দুস সত্তার নামে এক বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক বলেন, অযৌক্তিকভাবে শ্মশানের উপর দিয়ে বাঁধ করা হচ্ছে। বাঁধ নদীর পাড় দিয়ে হওয়ার কথা। কোনো কারণ ছাড়া অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন করে মালিকানা জায়গা দিয়ে বাঁধ নেয়া হচ্ছে। গ্রামের কাছ দিয়ে বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে গ্রামের মানুষের অনেক সমস্যা হবে।
কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন, সম্রাট চৌধুরী সাত থেকে আট শত মিটার ও পরিমল বাবুর চার শত মিটার স্থান দিয়ে বাঁধ নেয়া হয়েছে। গ্রামের অনেক কৃষকের জমির উপর দিয়ে বাঁধ নেয়া হয়েছে। জমি যার বাঁধ তার নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, শ্মশানের উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। শ্মশানের পাশ দিয়ে মালিকানা জায়গা দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নীতিমালার কোনা লঙ্ঘন করা হয়নি। যাদের জমি বাঁধের নিকটে আছেএ তাদেরকেই পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com