1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

মন্দির উচ্ছেদ করে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা!

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

ধর্মপাশা প্রতিনিধি ::
ধর্মপাশা উপজেলার গোড়াডোবা হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের ১৫১ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্থানীয় কালী মন্দির উচ্ছেদ করে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি দাবি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাদের (একাংশ) কথা অনুযায়ী অ্যালাইনমেন্ট (প্রকল্প বাস্তবায়ন রেখা) পরিবর্তন করে মন্দিরের জায়গা দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং কয়েকদিন ধরে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। ২৬০ মিটার কাজের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ প্রকল্পে ১৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের বৈঠাখালি নতুনপাড়া গ্রামের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে ১৫১ নম্বর প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্ট রয়েছে। অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী কাজ করতে গেলে বৈঠাখালি গ্রামের অকিল তালুকদার নামের একজনের ফসলি জমি নষ্ট হয়। অকিল তালুকদারের জমির পশ্চিমপাশ ঘেঁষেই রয়েছে বৈঠাখালি কালী মন্দির। এ মন্দিরে প্রায় বিশ বছর ধরে ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা অর্চনা করে আসছে। কিন্তু কৌশলে অকিল তালুকদারের ফসলি জমি বাঁচাতে গিয়ে অ্যালাইমেন্ট পরিবর্তন করে মন্দিরের উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে মন্দিরের সামনে ও পেছনে মাটি ফেলা হয়েছে। এতে করে ওই গ্রামের আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির ক্রয়কৃত জায়গাও বিনষ্ট হয়েছে। আব্দুল্লাহ মন্দিরের পার্শ¦বর্তী কিছুটা জায়গা অকিল তালুকদারের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন।
আব্দুল্লাহ বলেন, অকিল তালুকদারের ফসলি জমি বাঁচাতে আমার জায়গার উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তবে অকিল তালুকদার দাবি করেন, তিনি আব্দুল্লাহর কাছে জমি বিক্রি করেননি।
প্রকল্পের সভাপতি পিংকু তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, গ্রামের পাশে যখন কাজ শুরু হয় তখন গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মধ্যনগরের একাংশের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতারা অফিসের সাথে কথা বলে স্থান পরিবর্তন করে পশ্চিমপাশ দিয়ে কাজ করতে বলায় তিনি এভাবে কাজ করছেন।
বৈঠাখালি নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সনাতন দাস, অমৃত জ্যোতি রায় সামন্ত, লিটন দাসসহ অনেকে জানান, বাঁধের অ্যালাইমেন্ট পরিবর্তন করায় মন্দির ভাঙার উপক্রম হয়েছে। মন্দিরটি অক্ষত রেখে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন, আমার সংগঠনের কেউ এমন কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে না। সরকার দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ এমনটি করলে তা অবশ্যই দুঃখজনক।
ধর্মপাশা পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, অ্যালাইমেন্ট পরিবর্তন করে কাজ করার সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com