1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

হাওরে স্বস্তির বৃষ্টিতে শঙ্কার শিলা

  • আপডেট সময় বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি ::
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে নতুন বছরের প্রথম বৃষ্টি হয়েছে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) ভোরে। প্রায় চার মাস পর বোরো মওসুমের এই প্রথম কাক্সিক্ষত স্বস্তির বৃষ্টির জন্য কৃষকরা আকুল থাকলেও সঙ্গে শিলা নিয়ে আসায় ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। শিলাবৃষ্টির আকার ছিল বিশাল পাথর খণ্ডের মতো। ভোর চারটার দিকে ঝরেপড়া শিলার খণ্ড সকাল ১০টার সময়ে প্রকাণ্ড সাইজে জমানো অবস্থায় দেখা গেছে। ফলে মওসুমের প্রথম সৃষ্টিতে হাওরের কৃষকের মধ্যে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে জেলার ১১ উপজেলায় বৃষ্টি হলেও তিনটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার হেক্টর বোরো ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে সবজিক্ষেত ও কাচা ঘরবাড়ির।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর রাতে বৃষ্টি শুরু হয়। জেলার ১১ উপজেলাতেই বৃষ্টি হয়েছে। হাল্কা বৃষ্টির কিছুক্ষণ পরেই শাল্লা, দিরাই ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড় শুরু হয়। শাল্লায় শিলার আকার ছিল বড়। এসময় শিলাবৃষ্টিতে আনন্দপুর এলাকার মাদারিয়া হাওরের বোরো ক্ষেত শিলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বোরো ক্ষেতে এখনো থোর (মন্দিরা) না আসায় ক্ষতির পরিমাণ কম বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। থোর আসলে হাওরের বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতো বলে জানান তারা। শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর এলাকায় প্রায় ৩ একর জমির মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত, সূর্যমুখি বাগান, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির ক্ষেত শিলার তাণ্ডবে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে আনন্দপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস শহিদ ও জামির আলীর বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও গ্রামের আরও কয়েকটি কাচা ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামটির বিকাশ ঠাকুরের ৩ একর জমির সব সবজিক্ষেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। শাল্লা উপজেলার পাশাপাশি শিলায় দিরাই ও তাহিরপুর উপজেলায়ও বোরো ক্ষেত ও সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের মতে, জেলায় এ বছর ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টিতে মঙ্গলবার ভোরে ১ হাজার হেক্টর বোরো জমি শিলায় আক্রান্ত হয়েছে। যার বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আনন্দপুর গ্রামের কৃষক বিকাশ ঠাকুর বলেন, আমার তিন একর জমির সবজিক্ষেত সম্পূর্ণই শিলার তাণ্ডবে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার গ্রামের কয়েকটি পরিবারের হাওরের বোরো ধানও মাটিতে মিশে গেছে। কয়েকটি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি আমাদের জন্য স্বস্তির বদলে শঙ্কা নিয়ে দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান বলেন, প্রায় চার মাস পর বৃষ্টি হয়েছে। বোরো ক্ষেত লাগানোর পর মওসুমের এবং বছরের প্রথম বৃষ্টি কাক্সিক্ষত ছিল। বোরো ধানের ফলনের জন্য এই বৃষ্টি জরুরি। কিন্তু শাল্লাসহ তিনটি উপজেলায় বৃষ্টির সঙ্গে শিলায় বোরো ক্ষেত ও সবজির কিছু ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com