1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৫:০১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

শিলাবৃষ্টিতে শাল্লায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  • আপডেট সময় বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

জয়ন্ত সেন ::
মাত্র কয়েকদিন পূর্বে একপসলা বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ফসলের বা¤পার ফলনের আশা করেছিলেন শাল্লার কৃষকরা। কিন্তু ৯ মার্চ ভোরে হঠাৎ গর্জে উঠে বসন্তের আকাশ। শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়-তুফান ও শিলাবৃষ্টি। নিমিষেই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসল তছনছ হয়ে যায়। সদর ইউনিয়নের বাহাড়া গ্রামের বর্গাচাষী কালাবাসী দাস বলেন, আমার জীবনে এই সময়ে এমন শিলাবৃষ্টি দেখিনি। আমি ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে ১২ কেয়ার জমি করেছিলাম। এখন সব শেষ। তিনি আরও বলেন, আমার গ্রামে কত মানুষ কানতাছে। এবার কী হবে জানি না।
একই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবধন দাস বলেন, আমি ১৯ কেয়ার বোরো জমি করেছিলাম। সার, বীজ, হালচাষ, শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ হয়েছে প্রায় লাখ খানেক টাকা। আমার ৭৫ বছর বয়সে ফালগুন মাসে এমন শিলাবৃষ্টি দেখিনি। থুরের মুখে ফসলি জমি তছনছ করে দিয়ে গেলো শিলাবৃষ্টি। এতে বহু মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রঘুনাথপুর গ্রামের করুণাসিন্ধু দাস বলেন, আমি ৩২ কেয়ার জমি করেছি। অর্ধেক জমি বর্গা নিয়েছি। আমি ক্ষেতে গিয়ে এই অবস্থা দেখে দাঁড়াতে পারিনি। বেশি সময় থাকলে দম বন্ধ হয়ে আমি ক্ষেতেই মারা যেতাম। যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষাবো কেমনে?
নাইন্দা গ্রামের রিপন তালুকদার বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ২০ কেয়ার জমির ধান আমার নষ্ট হয়ে গেছে। এই সময়ে বয়স্ক মানুষও বলেছেন তারাও এমন শিলাবৃষ্টি জীবনে দেখেননি। এই জমি থেকে আর কিছু আশা করা যায় না। জমি রোপণে ১লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান।
দ্বিগি¦জয় তালুকদার বলেন, আমি ২৬ কেয়ার জমি করেছি। সোয়ালাখ টাকা ক্ষেতে খরচ হয়েছে। সব শেষ হয়ে গেছে। এখন গরু বিক্রি করতে হবে।
আনন্দপুর গ্রামের হরিধন দাস বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র বর্গাচাষি। আমার ২৫ হাজার টাকা খরচ হইছে ক্ষেত করতে। এখন হাওরে গিয়া দেখি সব শেষ। এখন কিভাবে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়া বাঁচবো। এছাড়াও ওই গ্রামসহ উপজেলার বহু কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শিলাবৃষ্টিতে।
সরেজমিনে জানা যায়, মুক্তারপুর, নাইন্দা, হরিপুর, মেঘনাপাড়া, খল্লি, রূপসা, কান্দিগাঁও, ইয়ারাবাদ, ভেড়াডহর, প্রতাপপুর, আনন্দপুর, নিয়ামতপুর, যাত্রাপুর, বাহাড়া, পোড়ারপাড়, শিবপুর, উজানযাত্রাপুর, বাগেরহাটি, সুলতানপুর আঙ্গারোয়া, সুখলাইন, নওয়াগাঁও, মামুদনগর, ডুমরা, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, রঘুনাথপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও ছোটবড় বেশকিছু হাওরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, উপজেলায় ১৫শ’ হেক্টরের মত আক্রান্ত হইছে। তারমধ্যে ৩শ’ হেক্টর জমির পূর্ণাঙ্গ ক্ষতি হইছে। উপজেলায় ২১হাজার ৯শ হেক্টরের মত বোরো আবাদ হয়েছে।
কৃষক বাবুল চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের ৫টি গ্রামেই তো ৩শ হেক্টরের মতো ক্ষতি হয়েছে।
কালাবাসী দাস বলেন আমার মতে তো আমাদের ৫ গ্রামেই ৩শ’ হেক্টরের চেয়েও বেশি জমির ক্ষতি হয়েছে। আমি কৃষি অফিসারের তথ্যে হতাশ হয়েছি। মনগড়াভাবে রিপোর্ট দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ভেড়াডহর গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জন কুমার বৈষ্ণব বলেন, ৬শ হাল জমির পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে তো প্রতাপপুর ও ভেড়াডহর গ্রামেই। কৃষি অফিসার কি মাঠে আয়? এরা ঘরে বসে রিপোর্ট তৈরি করে বলে তিনি জানান।
এদিকে গো-খাদ্যের অভাবে অনেকই গরু বিক্রি করবেন বলে জানান। অন্যান্য শাক সবজিরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। ক্ষতি ঘরবাড়িসহ গাছপালারও। প্রাকৃতিক এমন অনাকাক্সিক্ষত দুর্যোগে অনেকই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com