1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩১ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু : ক্রান্তিকালের সমাজসচেতন মহৎ মানুষ

  • আপডেট সময় সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু। বলা যায়, পরিণত বয়সেই তিনি চলে গেলেন, পেছনে রেখে গেলেন এমন এক সময়, যে-সময়টাকে ভালো বলা যায় না কোনও বিবেচনায়ই। এই খারাপ সময়টাতেই তিনি জীবিত ছিলেন আমাদের সঙ্গে এবং সক্রিয় শরিক ছিলেন ক্রান্তিকাল উত্তরণের সংগ্রামে।
আমাদের সমাজসদস্যদের মধ্যে তাঁরাই সংখ্যায় বেশি, যাঁরা যে-সময়টাতে বেঁচে থাকেন ব্যক্তিগতভাবে সে-সময়টাকে মূল্যায়ন করার মেধা ধারণ করেন না। তাই তাঁরা সাধারণ্যের অন্তর্ভুক্ত থাকেন চিরকাল, সমাজসংসারে বিশেষ হয়ে উঠতে পারেন না। বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু এমন সাধারণ কেউ ছিলেন না। তিনি অসাধারণ ছিলেন এই অর্থে যে, তিনি তাঁর জীবৎকালকে মাপার গজকাঠি ধারণ করতেন, সে চিৎপ্রাকর্ষিক মননমেধা তাঁর ছিল। তিনি তাঁর জীবৎকালের সময়টাকে মূল্যায়ন করতে বা তাঁর সমঝদারিতে নিতে পেরেছিলেন পুরোমাত্রায়ই, তার অনেক প্রমাণ আছে। তিনি যৌবনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধের উপর বই লিখেছেন, সমাজকল্যাণ সাধনের আন্দোলনে ব্রতী হয়েছেন। তাই কোনও অর্থেই তাঁকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যায় না। তাঁর একটা বিশিষ্টতা ছিল, তিনি সকলের চেয়ে একটু হলেও আলাদা ছিলেন, এই কারণে যে, তিনি সত্যিকার অর্থেই ছিলেন একজন সমাজসচেতন মানুষ। তাঁর এই সমাজসচেতনতা প্রকৃতপ্রস্তাবে ছিল তাঁর চেতনায় নিহিত নিজস্ব রাজনীতিরই একটা প্রতিরূপ।
আমাদের সমাজে বিভিন্ন প্রকারপ্রকরণে সাধারণ মানুষের উপর অন্যায় শাসন-নিপীড়ন-শোষণের সামাজিক-রাজনীতিক ব্যবস্থার একটি জগদ্দল পাথর আরোপ করে রাখা হয়েছে, সেই সুদূর অতীত থেকেই। এই পাথরটিকে সরাতে হবে, অনিবার্যভাইে এই উপলব্ধি তাঁর ছিল, যা সকলের থাকে না। এই সমাজে অনেক রথী-মহারথীরা আছেন, যাঁরা প্রকারান্তরে সমাজকে শোষণ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত নির্বিঘ্নে, নিপীড়িত মানুষের প্রতি তাঁরা ভ্রƒক্ষেপহীন। তিনি তাঁদের মতো ছিলেন না। প্রচলিত রাজনীতির ঘেরাটোপে বন্দি থেকে নিপীড়নের সে-পাথরটিকে সরানো যাবে না, সে-ধারণাটা তাঁর সমঝদারিতে ছিল, অনুমান করা যায়। তাই তিনি ২০১৭ সালের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে শতভাগ ফসলহানির বিপর্যয়কে ঠেকাতে ‘হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আওয়াজ তুলে যে-আন্দোলন গড়ে উঠলো, তার নেতৃত্ব দিতে কসুর করলেন না এবং প্রকারান্তরে তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করার কাজে নিজেকে নিবেদিত করলেন।
তাঁর মতো উচ্চশিক্ষিত মানুষ আমাদের দেশে অভাব আছে বলা যাবে না, বরং আছেন তাঁরা ভুরি ভুরি। কিন্তু তাঁরা বলতে গেলে প্রায় সকলেই বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুর মতো সমাজসচেতন হয়ে সাধারণ মানুষের শোষণ-নির্যাতন রোধের আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন না, তাঁরা সকল অন্যায় নির্যাতনকে মেনে নিয়ে সর্বকালেই প্রতিবাদী হতে দ্বিধান্বিত থাকেন। কিন্তু বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু মানুষ কর্তৃক মানুষের উপর নির্যাতনের অন্যায় রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজেকে দাঁড় করাতে পেরেছিলেন, এইখানে তিনি ব্যতিক্রমী এক মানুষ, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
পরিশেষে ফের বলি, তিনি যখন ছিলেন আমাদের মাঝে, তখন তাঁকে সমাজের আপৎকালে অন্যসকল সাধারণ মানুষের মতো নির্লিপ্ত থাকতে দেখা যায়নি। এই জন্যেই কালের পরিমাপে পরিণত বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়াটি আসলেই অকালেই চলে যাওয়া ছাড়া অন্য কীছু নয়। কারণ তাঁর মতো সমাজসচেতন মহৎ মানুষের দরকার ছিল এই শোষণ-নির্যাতন কবলিত সমাজের দুর্দিন থেকে উত্তরণের সংগ্রামে সাধারণ মানুষকে নেতৃত্ব দেওয়ার।
আমরা তাঁকে ভুলবো না। আমাদের চেতনায় সমাজসেবার সংগ্রামী নেতা হিসেবে তিনি চির অম্লান হয়ে থাকবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2016-2021
Theme Customized By BreakingNews