1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

নামে পিআইসি, কাজে সিন্ডিকেট

  • আপডেট সময় সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কাউয়াজুড়ি হাওরের চলতি বছর ফসল রক্ষা বাঁধ পুনঃনির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় মাস পর কাউয়াজুড়ি হাওরে ফসলরক্ষার বাঁধ নির্মাণ কাজের পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারি প্রথাকে উৎসাহ দিতে নিজের ইচ্ছেমতো প্রকল্প বাড়িয়ে কাউয়াজুড়ি হাওরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রকল্পের টাকায় কৃষকদের যে পরিমাণ লাভ হবে, তার চেয়ে বেশি গুণ লাভবান হবে হাওর দুর্নীতিযুক্তরা। এসব প্রকল্পে কাগজে কলমে পিআইসি কমিটির লোকজনের নাম থাকলেও বাস্তবায়ন করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনোনীত ঠিকাদারি লোকজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাউয়াজুড়ি হাওরে চলিত বছর ২৮ ডিসেম্বর কাজের মেয়াদের শুরুতে ৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পিআইসি কমিটি গঠন করে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫টি প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৮৪ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে কাজের মেয়াদের ১ মাস ১০ দিন পর পানি উন্নয়ন বোর্ড রাতারাতি কাউয়াজুড়ি হাওরের ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ সহ মোট ৫টি প্রকল্প ভেঙে মোট ১৭টি প্রকল্প দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। ২৮ ডিসেম্বরে কাজ শুরুর কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজের মেয়াদের দীর্ঘ ১ মাস ১০ দিন পর পিআইসি গঠন করে দেয়। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড পিআইসি কমিটির লোকজনদেরকে কাজ বুঝিয়ে দিলেও কাজ এলাকায় পরিদর্শনে কাগজে কলমে পিআইসি কমিটির নাম থাকলেও কোন এক অদৃশ্য কারণে পিআইসির বদলে ঠিকাদারি লোকজনদের মাধ্যমে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করছেন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারি প্রথাকে উৎসাহ দিতে নিজের ইচ্ছেমতো প্রকল্প বাড়িয়ে কাজের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে পিআইসিদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চাপে ফেলে দিচ্ছে।
চলতি বছর কাউয়াজুড়ি হাওরে পিআইসিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি সহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ঠিকাদারি প্রথার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। অধিকাংশ পিআইসি কমিটির লোকজন নিজের কাজ কোন জায়গা, কাজের পরিমাণ কতো, কত টাকা বরাদ্দ আদৌ জানেন না। পিআইসি কমিটি গঠনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তার মনোনীত হতদরিদ্র কৃষকদের পিআইসি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যাতে করে কোন পিআইসি নিজের টাকায় কাজ বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন না করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হন এবং জনপ্রতিনিধি নিজেই ঠিকাদারি প্রথা চালু করে কাজ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে কাউয়াজুড়ি হাওর ঘুরে দেখা যায়, ঠাকুরভোগ গ্রামের সাপেরকোণা পঞ্চগ্রাম মাদরাসার সম্মুখ হতে শুরু হয়ে বীরগাঁওয়ের উমেদনগর গিয়ে শেষ, আবার লাউগাঙ্গ গ্রাম হতে শুরু হয়ে নংগদীপুর গ্রাম, আবার নংদীপুর গ্রাম হয়ে কাউয়াজুরী। আবার কাউয়াজুরী হয়ে দিতপুর। দিতপুর হয়ে উপ্তিরপাড় হয়ে টাইলা পর্যন্ত। অবশেষে টাইলা গ্রাম হতে দুর্গাপুর গ্রামে এসে শেষ হয় প্রকল্প এলাকা। কাজের পরিমাণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাতা কলমে সাড়ে ১১ কিলোমিটার ৩০০ মিটার হলেও কৃষকদের মতে পুরো এলাকায় বেরী বাঁধ নির্মাণ কাজ শম্ভুক গতিতে চলছে। তবে কবে কাজ শেষ হবে এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।
একাধিক কৃষকের সাথে আলাপকালে জানাযায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বাঁধ তৈরি করছে না ঠিকাদারি লোকজন। এস্কেভেটর মেশিনের বড় বড় মাটির চাকা না ভেঙে বাঁধের মাঝে রাখা হচ্ছে আর বাইরে স্লোপ বা ড্রেসিং দেখিয়ে কাজ বাস্তবায়ন চলছে। হাওরে বন্যার পানি ও পাহাড়ি ঢল আসামাত্রই এসব বড় বড় মাটির চাকা দিয়ে পানি ঢুকে বাঁধ ভেঙে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কাউয়াজুরী হাওরের অংধিকাংশ বাঁধ অক্ষত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন অক্ষত বাঁধেই বরাদ্দ দ্বিগুণ দিয়ে কাজ বাস্তবায়ন করছে। কাজ চলছে ঢিলেতালে।
কাউয়াজুরি হাওরের উত্তর পশ্চিম অংশে মৌখলা গ্রামের পশ্চিমে একটি এস্কেভেটর, মৌখলা গ্রামের মধ্যখানে আরেকটি এস্কেভেটর, মৌখলা গ্রামের পূর্ব দিকে আরেকটি এস্কেভেটর এবং কাউয়াজুরি হাওরে বেতখালি পয়েন্টে একটি এস্কেভেটর কাজ শুরু করতে দেখা গেছে। প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে কোথাও কোনো পিআইসি’র লোকজনকে দেখা যায় নি। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মানাধীন বাঁধের কোন সীমানা, সাইন বোর্ড কিংবা পরিমাপকৃত পিআইসিদের কাজের সীমানা চিহ্নিত পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিআইসি কমিটির সাবেক এক সদস্য জানান, বিগত বছর যথানিয়মে বাঁধের কাজ করেছি। কিন্তু বিলের বেলায় সহকারী প্রকৌশলীকে টাকা না দিলে কাজের পরিমাণ সঠিকভাবে লেখে না। এতে আমার মতো পিআইসি কমিটির লোকজনদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সংকটে ফেলছে সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তারা। যার ফলে এবছর কোন পিআইসিতে ঢুকি নাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2016-2021
Theme Customized By BreakingNews