1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৩ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

চিরসংগ্রামীর মহাপ্রস্থান

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
কালজয়ী মানুষেরা প্রকৃতির নিয়মে চলে যান, এটাই বিধির নিয়ম। তবে পৃথিবীতে অসংখ্য-অগণিত মানুষের মাঝে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা চলে যাওয়ার পরও যুগযুগ অবধি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকেন আলোর বাতিঘর হয়ে। কেউ কেউ ইতিহাসের সোনালী পাতায় অনবদ্য থেকে যান নিজেদের কর্মগুণে। তাঁদের জীবনকাব্যের পরিসমাপ্তি ঘটে ঠিকই, কিন্তু তাঁরা বস্তুতপক্ষে মানুষের মাঝে অমর হয়েই থেকে যান। বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু এমনি একজন সফল সংগ্রামী মানুষ। যিনি ছিলেন আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। সুনামগঞ্জের সুপ্রিয় লেখক, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী হিসেবে জীবদ্দশায় তিনি প্রখ্যাত হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সফল যুদ্ধজয়ী এই ক্ষণজন্মা মানুষটি আজ আমাদের মাঝে নেই। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ৩টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনামগঞ্জের সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন অঙ্গনে সম্মুখ সারির নেতৃত্বে থাকা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, বুধবার দুপুরে শারীরিক অসুস্থবোধ করলে বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুকে স্বজনরা চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুর জীবনচরিত থেকে ওঠে আসে, ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন সুনামগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র এবং প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের তুখোড় এক কর্মী। তখন তিনি বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন যে- পূর্ববাংলার মানুষ সত্যিকার অর্থেই লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার। পশ্চিম পাকিস্তানিদের শাসন-শোষণের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত বাঙালিজাতি। বিশেষ করে সত্তরের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেও ক্ষমতা না পাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধপূর্ব বজলুল মজিদ খসরুর মধ্যে পাকিস্তান বিরোধী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই তিনি পাকিস্তানিদের শাসন-শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে মূলত তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে বদ্ধপরিকর হন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ‘তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।’ এ নির্দেশনায় তিনি যুদ্ধের জন্য পূর্ণপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ সুনামগঞ্জ শহরে প্রতিরোধযুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োজিত হন। পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সুনামগঞ্জ শহর দখল করে নিলে তিনি শহর ছেড়ে বর্তমান দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে চলে আসেন। যোগদেন শহীদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীতে। পরে ৫নম্বর সেক্টরের সেলা (বাঁশতলা) সাব-সেক্টরের ক্যাপটেন হেলালউদ্দিন তাঁকে এ সাব-সেক্টরের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। পরবর্তীতে এই সাব-সেক্টরের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধে তিনি বীরদর্পে শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই করেন।
বজলুল মজিদ খসরুর জন্ম ১৯৫২ সালের ২ এপ্রিল সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর মহল্লায়। বাবা মরহুম মফিজুর রহমান চৌধুরী ছিলেন কৃষিজীবী ও প্রখ্যাত সালিশ ব্যক্তিত্ব। মা মরহুমা মজিদা খাতুন চৌধুরী গৃহিণী। ৫ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। কৈশোর থেকেই বজলুল মজিদ খসরু অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সমাজ-সংস্কৃতির প্রতি গভীর মনোযোগী হয়ে ওঠেন। জুবিলী স্কুলে থাকাবস্থায় শিক্ষক বদরুল হক শাস্ত্রীর লেখা “পল্লীদর্পণ” নাটকে অভিনয় করে তৎকালেই বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন সুনামগঞ্জ কলেজে। তখন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ)-এর সদস্য হিসেবে ১৯৬৮-এর কলেজ কেবিনেটে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পড়াশোনা বাদ দিয়ে যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদে ভর্তি হন এবং  ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে জীবন জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান জার্মানিতে। সেখানে বেশ কয়েক বছর থেকে ১৯৮৩ সালে তিনি পশ্চিম জার্মানী থেকে দেশে চলে আসেন এবং একই সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সুনামগঞ্জ জজকোর্টে আইন পেশায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০০ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৭-২০০৯ (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল) সালে দায়রা জজ আদালত, সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর ও একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পূর্বে ‘দৈনিক সংবাদ’ এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ জেলার প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক সুনাম’ তাঁর সম্পাদনায় বের হয়। পত্রিকাটি প্রায় ৮ বছর চালু ছিল। তৎকালে তিনি একজন পেশাদার সংবাদকর্মী হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির প্রতি তাঁর বেশ আগ্রহ ছিল। বিভিন্ন ম্যাগাজিন/সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন। ১৯৮৯ সালে তাঁর সম্পাদনায় বের হয় “একাত্তরের সুনামগঞ্জ”। ২০১২ সালে সুনামগঞ্জ জেলার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাধর্মী বই ‘রক্তাক্ত ৭১ সুনামগঞ্জ’ গ্রন্থটি প্রকাশ হয়। তাঁর এ বইটিতে সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা লিপিবদ্ধ করায় পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগে। ২০১৩ সালে পশ্চিম জার্মানী ভ্রমণের উপর ‘পশ্চিম জার্মানীর স্মৃতিকথা’ শিরোনামে তাঁর আরেকটি বই প্রকাশ হয়। এছাড়াও তিনি ‘বরুণ রায় স্মারকগ্রন্থ’, ‘আলফাত উদ্দিন আহমদ স্মারকগ্রন্থ’ ও ‘হোসেন বখত স্মারকগ্রন্থ’ সম্পাদনা করেছেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখার জন্য ১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপটেন এএস হেলালউদ্দিন এবং বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু’র নামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন হেলাল-খসরু হাইস্কুল’। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকে শিক্ষায় আলোকিত করার জন্য বজলুল মজিদ চৌধুরী ক্যাপটেন হেলালের নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল শিক্ষা ট্রাস্ট’। জন্মলগ্ন থেকে এই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া একাধারে ‘আলফাত উদ্দিন আহমেদ রিকসা শ্রমিক ইউনিয়ন স্মৃতি ট্রাস্ট’ এর সাধারণ সম্পাদক, ‘মুক্তি সংগ্রাম স্মৃতি ট্রাস্টের’ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং ‘সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য যাদুঘর’-এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি পর্যায়ক্রমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সুনামগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দীর্ঘ ১২ বছর এবং সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি, জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি, ডায়াবেটিস এসোসিয়েসন, শিল্পকলা একাডেমি, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সুনামগঞ্জ জেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম গঠন হওয়ার পর তিনি সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বজলুল মজিদ খসরুর উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক কাজ হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা ভোগ না করে তা সেবামূলক কাজে ব্যয় করেন। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক প্রয়াত কমরেড বরুণ রায়, হোসেন বখত, আলফাত উদ্দিন আহমদ, আছদ্দর চৌধুরী, আবদুল বারীর উত্তরাধিকারীরাসহ মুক্তিযোদ্ধা ড. রানা চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘গৌরবের মুক্তিযুদ্ধ’ নামে একটি সামাজিক সেবামূলক সংগঠন। দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া, গরিব মানুষের চিকিৎসা খরচ, পথশিশুদের শিক্ষা উপকরণ দেওয়াসহ বিভিন্ন সফল মানুষদের সম্মাননা দেওয়া হয় ট্রাস্টের মাধ্যমে। এছাড়া ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জে হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির কারণে শতভাগ ফসলহানি হওয়ায় প্রতিবাদী সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠে ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন। দীর্ঘদিন এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে সংগঠনটি হাওর অধ্যুষিত সাতটি জেলা নিয়ে বিস্তৃত করে নামকরণ করা হয়েছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’।
বজলুল মজিদ খসরু ১৯৮৬ সালে সংসার জীবন শুরু করেন। তাঁর স্ত্রী মুনমুন চৌধুরী একজন কবি। তাঁদের এক পুত্র ড. সউদ ফারহান চৌধুরী দীপ আমেরিকায় ইন্টেল কোম্পানিতে একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেয়ে সারাফ ফারহিন চৌধুরী দীয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম পড়শোনা করেছেন। পাশাপাশি তাঁর ওই কন্যা ড. কামাল হোসেন এসোসিয়েটসে এপ্রেনটিস হিসেবে কাজ করছেন। বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি আমেরিকা, ভারত, হংকং, চীন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, জার্মানি, হল্যান্ড, লুক্সেমবার্গসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। ২০১৬ সালে তিনি সস্ত্রীক পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com