1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

চিরবিদায় খসরু ভাই…

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

:: রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু ::
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ খসরু আমাদের মাঝে নেই তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। তাঁর মৃত্যুর খবর যখন জানলাম তখন সবকিছু যেন অন্ধকার হয়ে আসছিল। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। প্রাণবন্ত একজন মানুষ কিভাবে এই অসময়ে চলে গেলেন! তাঁর সাথে আমার অনেক স্মৃতি। স্মৃতিগুলো যেন বারবার ধরা দিচ্ছিল চোখের কোণে। তাঁর মৃত্যুতে যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়।
১৯৫২ সালে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরে জনাব বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু জন্মগ্রহণ করেন। শহরের জুবিলী হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে সুনামগঞ্জ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়া অবস্থায় ১৯৬৯ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন। যুগভেরী পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক সংবাদের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন। পূর্বদেশ পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি এর দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে বিএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি জার্মান চলে যান, সেখানে তিনি অনিয়মিত পত্রিকা ট্রাগলস পত্রিকা সম্পাদনা করে। ১৯৮৩ সালে তিনি দেশে ফেরার পর পুনরায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি দৈনিক কিষাণের সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৮৪ সালেই তিনি সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। সুনামগঞ্জ মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক সুনাম’। জনাব শহীদুজ্জামান চৌধুরী, আইনুল ইসলাম বাবলু, হুমায়ূন রশীধ চৌধুরী, বিজন সেন রায়, শাহনেওয়াজ জাহান, জিয়াউল ইসলামের সম্পৃক্তায় সাপ্তাহিক সুনাম যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। জনাব খসরু ১৯৮৯ সালে ৭১-এর সুনামগঞ্জ সম্পাদনা করেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে ছাত্রাবস্থায় জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সেক্টর-৫ এর অধীনে চেলা সাব-সেক্টরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব খসরু মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ট্রাস্টের ট্রাস্ট্রি, ক্যাপ্টেট হেলাল শিক্ষা ট্রাস্টের সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহ্বায়ক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। জনাব অ্যাডভোকেট খসরু ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ২০০০ সালে সভাপতি পদে নির্বাচিন হন। তিনি রাইফেলস ক্লাবের সম্পাদক, জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সম্পাদক, শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক, পিপিরও দায়িত্বপালন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রিয় খসরু ভাইকে নিয়ে যতই লেখার চেষ্টা করছি আমার কলম যেন বার বার থেমে যাচ্ছে। চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু জল জমা হচ্ছে। না, এই অবস্থায় আর লেখা সম্ভব হয়ে উঠছে না। পরপারে মহান সৃষ্টিকর্তা যেন খসরু ভাইকে ভালো রাখেন এই কামনা করছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2016-2021
Theme Customized By BreakingNews