1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

‘কাগজী, কেমন আছো?’ আর বলবেন না খসরু ভাই

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

:: ইকবাল কাগজী ::
তখনও বিকেল সাড়ে চারটা বাজেনি। কিছুক্ষণ আগে দৈনিক সমকালে প্রিয় লেখক আবুল মকসুদের চলে যাওয়ার সংবাদটি পাঠ করলাম। একজন বই ফিরত দিতে এলেন। তিনি ফেরত দিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা’ বইটি। তিনি আবুল মকসুদের মৃত্যুর কথা শুনালেন। আমি জানালাম পত্রিকায় এইমাত্র পড়েছি। পাঠক চলে গেলেন। আমাদের সহকারী লাইব্রেরিয়ান আকিক জাভেদ এসেই আমার হাতের পত্রিকাটা একটু ভ্রুক্ষেপহীন পদ্ধতিতে সরিয়ে দিয়ে একখণ্ড কাগজ আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘খসরু স্যার মারা গেছেন’। আমার চেতনায় ক’দিন আগে দেখা খসরু ভাইর মুখটা ভেসে ওঠলো, হঠাৎ করে এবং থ বনে গেলাম। জাভেদ বললেন, ‘একটি শোক ব্যানার লিখে দিতে’। আমি কোনওদিন কোনও শোকব্যানার লিখিনি। কিন্তু আজ লিখতে হলো এবং সহস্তে ব্যানার লিখে দিয়ে স্বীকার করে নিতে হলো, খসরু ভাই চলে গেছেন, আমাদের ছেড়েÑআর কোনদিন দেখা হলেই বলবেন না, ‘কাগজী কেমন আছো’?
তিনি ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা একযুগ আমাদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সভাপতি ছিলেন। লাইব্রেরির সভাপতির পদটি সাধারণত পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসকদের জন্য নির্ধারিত। সহ-সভাপতির দুটি পদ ভোটে নির্ধারিত হয়ে থাকে। খসরু ভাই ও স্বপন দা (স্বপন কুমার দেব) দু’জনই সহ-সভাপতি ছিলেন। তাঁরা সুনামগঞ্জের সুধীমহলে সমধিক পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। দু’জনই পেশায় আইনজীবী, কিন্তু দু’জনই লেখক হিসেবে আরো বেশি পরিচিত। গঠনতন্ত্রানুসারে লাইব্রেরির সহ-সভাপতি দু’জনই ভোটে দাঁড়িয়ে কারো সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অলঙ্কৃত করেছেন বলে শোনা যায়নি। প্রকৃতপ্রস্তাবে এই দুই ব্যক্তিত্বের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারো বাসনা হতো না। কিন্তু এই মর্যাদা সমুন্নতি ২০১৯ সালের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখিন হলে তাঁরা দু’জনই সহ-সভাপতির বাসনা প্রত্যাহার করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আমাকে (ইকবাল কাগজী) ও আমার বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ানকে প্রাণিত করা হয় এবং আমরা জয়ী হই। এই ঘটনাটি আমাকে এখনও পীড়া দেয়। খসরু ভাই জীবিত থাকতে তিনি যে আসনে অলঙ্কৃত করতেন সে আসনে আমি অধিষ্ঠিত ছিলাম। কারণ এই মানুষটি সত্যিকার অর্থেই আমার অগ্রজপ্রতিম ছিলেন।
আমার অগ্রজ সহোদর নজির হোসেন একদা একজন কমরেড ছিলেন। তিনি একাত্তরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তাঁর সহযোদ্ধারা ছিলেন মুহাম্মদ আব্দুল হাই, আলফাত উদ্দিন মোক্তার, হোসেন বখত, আব্দুজ জহুর, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আসদ্দর আলী মোক্তার প্রমুখ। আর এঁদের মতোই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, যদিও এইসব মহারথীদের তুলনায় বয়সে তিনি ছিলেন অর্বাচীন, এই যাকে বলে একেবারেই তরতাজা তরুণ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল বীরোচিত ও গৌরবের। তিনি সেলা সাবসেক্টরে মাঠপর্যায়ে যুদ্ধরত ছিলেন। সেক্টর গঠিত হওয়ার পর তাঁকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রত্যাহার করে প্রশাসনিক কাজে যুক্ত করেন সাবসেক্টর কমান্ডার এএসএ হেলাল উদ্দিন। বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচিতির বাইরে আইনজীবীর পরিচিতিকে অতিক্রম করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের উপরে লেখা একাত্তরের সুনামগঞ্জে বইয়ের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা সুনামকণ্ঠ পরিবার শোকাহত। একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com