মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০২:০০ অপরাহ্ন

Notice :

দ.সুনামগঞ্জে বাঁধের কাজে অসাধু সিন্ডিকেট

শহীদনূর আহমেদ ::
দেখার হাওরের ফসলের সুরক্ষা নিয়ে এবারও শঙ্কা কাটছে না। নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন। খাতাকলমে পিআইসিতে কৃষক থাকলেও অভিযোগে রয়েছে বাঁধ বাস্তবায়নে করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে কচ্ছপ গতিতে চলছে বাঁধ নির্মাণকাজ। নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হলে ঝুঁকিতে থাকবে দেখার হাওরের ৩৬ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল।
কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার ও ভাঙ্গা বন্ধকরণে এবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কয়েকটি হাওরে ৬০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ৪০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জেলার সবচেয়ে বোরো ফসল উৎপাদনকারী হাওর দেখার হাওরের মহাসিং নদীর দুইপাড়ে এবার ১২টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর এসব প্রকল্পে বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে বেশিরভাগ প্রকল্পে কাজ শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। কাজ বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমার আর কিছুদিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি অনেক প্রকল্পের কাজ। এখনও মাটি ফেলা বাকি রয়েছে একাধিক প্রকল্পে। দেখার হাওরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার উথারিয়ার অর্ধেকের বেশি জায়গায় শুধু মাটি ফেলার কাজ বাকি।
১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৫টায় এই রিপোর্ট লেখার পূর্ব পর্যন্ত উথারিয়ার মূল ক্লোজার উন্মুক্ত রয়েছে। বাঁধে মাটি ফেলা চলমান থাকলে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। দেখার হাওরের মহাসিং নদীর দুইপাড়ে ১২টি প্রকল্পের প্রায়টিতে মাটি ফেলা এখনও শেষ হয়নি। বাঁধ টেকসইকরণে ক্লোজারে বস্তা, বাঁশ দিয়ে আড় বাধা, স্লোভ তৈরি করা, দুরমুজ দেয়া, বাঁধের গোড়ায় ঘাস লাগানোর চিত্র কোথাও দেখা যায়নি। বাঁধে মাটি পড়া শেষ হয়ে গেলে এসব কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসি’র সদস্যরা।
বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমার আর সপ্তাহ খানেক সময় থাকলেও কাজ সমাপ্ত না করা ও কাজের ধীর গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। অনেকেই অভিযোগ করছেন বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। খাতাকলমে কৃষকদের পিআইসি করা হলেও এসব বাঁধের মূল নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের হাতে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইসির সংশ্লিষ্টরা টাকার বিনিময়ে বাঁধ বিক্রি করেছেন সিন্ডিকেটের কাছে। সিন্ডিকেটের মনোনীত ঠিকাদারের কম সংখ্যক এস্কেভেটর ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কাটার ফলে বাঁধে কাজে ধীরগতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন কৃষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পিআইসির সভাপতি বলেন, ভাই যারা বাঁধের কাজ পাইছে এরাতো গরিব মানুষ। এরার কি ক্ষমতা আছে এতো বড় কাজ করার। নামে পিআইসি হলেও বাঁধের মূল নিয়ন্ত্রণ অন্যদের কাছে। প্রথম বিল পাওয়ার পর পিআইসিরা ৫ হাজার টাকা করে পাইছিলো। কাজ করছে সিন্ডিকেট। বিল উঠিয়ে তাদের কাছেই টাকা দেয়া হবে। বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি হলে পিআইসিদের ধরা হবে। কিন্তু নিয়ন্ত্রকরা এমনভাবে আড়ালে রয়েছেন তাদের নামনিশানাও পাওয়া যাবে না।
এদিকে সিন্ডিকেটের ব্যাপারে ৪০নং পিআইসর সদস্য সচিব হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বাঁধের সকল দায়ভার আমার। সিন্ডিকেট টিন্ডিকেট কিছুই না। মাটির কাজ মইনুল ভাইকে দিয়েছি। তাইন আরও পিআইসির কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ে সকল কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্র্ডের সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বলেন, দেখার হাওরে ১২ প্রকল্পে বাঁধে ৬০-৭০% মাটি ফেলার কাজ শেষ। নির্ধারিত সময়ে কাজ উঠিয়ে আনতে পিআইসিদের চাপ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনও তাদের টাকা দিতে পারছি না।
সিন্ডিকেটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা গাইডলাইন মেনেই কৃষকদের মাধ্যমে পিআইসি করা হয়েছে। মাঠে তাদেরকেই পাচ্ছি। তারা যদি কাজ করতে গিয়ে কারো হেল্প নেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী