1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

দিরাইয়ে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ : অনিয়মের শেষ কোথায়?

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে চরম অনিয়ম চলছে। এ অবস্থায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকসহ হাওরপাড়ের বাসিন্দারা। তাদের প্রশ্ন- বাঁধের কাজের নামে এই অনিয়মের শেষ কোথায়?
এদিকে দিরাই উপজেলা সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ (পিএফজি) উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বাঁধ পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাঁধ পরিদর্শন শেষে উপজেলার ধল বাজারে কৃষক সমাবেশ করা হয়।
দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজ দ্দৌলা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরী, সাংগঠনিক স¤পাদক গোলাপ মিয়া, উপজেলা মহলিা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রিপা সিনহা, দিরাই প্রেসক্লাব সভাপতি ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন দিরাই উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম সরদার খেজুর, দিরাই প্রেসক্লাব সাধারণ স¤পাদক ও হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক একে কুদরত পাশার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাওর পরিদর্শনে যায়। তারা হাওরের বিভিন্ন বাঁধে কাজ শুরু না হওয়ায় এবং যে সব বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে তা দায়সারভাবে কাজ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ জানান, যে বাঁধগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে সে বাঁধগুলো নভেম্বর মাসেও অক্ষত ছিল। বাঁধের কাজের পরিমাণ ও বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ আকাশ-কুসুম বলে মনে করেন পরিদর্শন দল। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ধনীর রায়, সেলিম মিয়া, সুলতানা রাজিয়া, দিপালী দে, পারভিন বেগম, জলি রানী, মাজেদা বেগম, আমিরুন্নেছা, ইমন মিয়া, চাঁদমালা বিবি প্রমুখ।
প্রতিনিধি দল ওইদিন সকালে দিরাই উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উপজেলা সদরের কাছের পিআইসি নং-৮৬ বরাম হাওর উপ-প্রকল্প ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজ দেখতে যান।, সে প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন মুজিবুর রহমান ও সদস্য সচিব আব্দুল হিকিম। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ক্লোজারে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। তবে পিআইসির কোনো লোক পাওয়া যায়নি। ‘পরের কাজ পরে করে’ সেখানে গিয়ে তার আলামত পাওয়া যায়। মাটির বড়বড় চাকা ফেলা হচ্ছে ক্লোজারে। দুইজন শ্রমিক পাশেই বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে ১০ ভাগ মাটির কাজ হয়েছে সেখানে। কোন অবস্থাতেই সঠিক সময়ে কাজ শেষ করার আলামত দেখা যায়নি।
পিআইসি নং ১৩ চাপতির হাওর উপ-প্রকল্প বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজ সেখানে গিয়ে দেখা যায় নামকাওয়াস্তে কিছু মাটি ফেলা হচ্ছে বাঁধে। এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন আবু তাহের ও সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২০ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩৬৬ টাকা। ১৪নং পিআইসি চাপতির হাওর উপ-প্রকল্প বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন নজরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব যতি দাস। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২৩ লক্ষ ৩ হাজার ৬শ ৪১ টাকা। প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড নেই। নেই পিআইসির লোকজন। এখানেও ক্লোজার বন্ধ হয়নি।
১৫নং পিআইসি চাপতির হাওর উপ-প্রকল্প বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন আফজল হোসেন ও সদস্য সচিব শওকত মিয়া। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭২৪ টাকা। এ প্রকল্পে এখনো কাজ শুরু হয়নি। ১৬নং পিআইসি চাপতির হাওর উপ-প্রকল্প বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন আব্দুর রকিব চৌধুরী ও সদস্য সচিব লোভন চৌধুরী। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৩ লক্ষ ১ হাজার ৪৪২ টাকা। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাটির কাজ শেষ করা হয়েছে স্লোপও দেওয়া হয়েছে, তবে মাটি দুরমুজ করা হয়নি, কিছু কিছু জায়গায় মাটির নিচের ঘাস বের হয়ে আসছে।
১৭নং পিআইসি চাপতির হাওর উপ-প্রকল্প বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন হোসেন চৌধুরী ও সদস্য সচিব কাশেম মিয়া। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ২৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫৭৫ টাকা। ক্লোজারের পাশে গত বছরের বাঁশ অক্ষত রয়েছে। বাঁধটিও অক্ষত ক্লোজারটি গত বছরে ভাঙেনি তবে বাজেট এতো বেশি কেন এর কোন হিসাব পাওয়া যায়নি। বাঁশের পাশে কিছু বস্তায় মাটি ভরে রাখা হয়েছে। তবে কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে এখানে শুভঙ্করের ফাঁকি থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
৯৫নং পিআইসি বরাম হাওর উপ-প্রকল্প বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত এ প্রকল্পে সভাপতি হচ্ছেন আবুল হোসেন ও সদস্য সচিব উজির মিয়া। এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৮ লক্ষ ৫ হাজার ৭৩৫ টাকা। প্রকল্প এলাকায় পিআইসির লোকজন পওয়া যায়নি। এখানেও ক্লোজার বন্ধ হয়নি। এ ক্লোজার দিয়ে ২০১৭ সালে পানি প্রবেশ করে। যেভাবে কাজ চলছে তাতে হাওরের কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কোন অবস্থাতেই সময়মত কাজ শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ মুহূর্তে বৃষ্টি নামলে সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশে একজন প্রতিনিধি দলকে জানান, পিআইসি’র লোকরা অপেক্ষায় আছেন বৃষ্টি নামার। বৃষ্টি নামলেই এসব ক্লোজারের তারা আরও বাজেট আনবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com