1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চান নূর ইসলাম

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

রাজন চন্দ ::
তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. নূর ইসলাম নূরুল (৬৮)। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে রণাঙ্গন কাঁপানো একজন বীর সেনানী। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও তার ভাগ্যে এখনো জুটেনি মুক্তিযোদ্ধার কোনো স্বীকৃতি, পাননি কোনো সুযোগ-সুবিধাও।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসেছিলেন তার দাবির বিষয়টি জানানোর জন্য। এ সময় নূর ইসলাম নূরুল জানান, মহান মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আইন প্রনেতা বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও মরহুম জননেতা আব্দুজ জহুরের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিলে ট্যাকেরঘাট সেক্টরে যাই। সেখানে আমার মত উপস্থিত আরও কয়েকজন টগবগে যুবককে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাকে মনোনীত করা হয় অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য। এই দুই নেতার নির্দেশে পরদিন ভারতীয় বিএসএফ গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সোলজার মিস্টার পান্ডের নেতৃত্বে মেঘালয় পাহাড়ে ২৮ দিন প্রশিক্ষণ করি। সেখানে রকেট লেঞ্চার ও টুইন্চ মর্টার নামে ২টি অস্ত্র ও যুদ্ধে নিজের জীবন বাঁচানোর কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণ করি স্বাধীনতা যুদ্ধে।
আক্ষেপ করে নূর ইসলাম নূরুল বলতে থাকেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন খন্দকার মোস্তাক ও জিয়াউর রহমানের নির্দেশে সারাদেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্মম নির্যাতন শুরু হয়। এ সময় নিজের জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে ছদ্মবেশে ঢাকায় গিয়ে রিকসা চালানোসহ দিনমজুরের কাজ শুরু করি। সেখানেও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের উপর মোস্তাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতন অত্যাচার দেখতে পেয়ে জীবন বাঁচাতে চলে যাই ভারত। দীর্ঘ কয়েকবছর নানান কষ্টে প্রবাস জীবন কাটিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পা রাখি দেশের মাটিতে। দেশে আসার পর বছরের পর বছর বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আজো আমি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে আমি মৃত্যুবরণ করতে চাই।
জানা যায়, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অনেকের কাছে অনুরোধ করেন নূর ইসলাম নূরুল। অবশেষে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ প্রবীণ এই সেনানীর স্বীকৃতির জন্য মন্ত্রণালয়ে সকল কাগজপত্র ও বিভিন্ন ডকুমেন্টস প্রেরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলার একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নূর ইসলাম নূরুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, নূর ইসলাম ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তাকে স্বীকৃতি দেয়াটা প্রয়োজন।
মো. নূর ইসলাম নূরুল বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হয়ে গেছে। আমারো অনেক বয়স হয়েছে, হাঁটাচলা করতেই এখন কষ্ট হয়। মানুষের সহযোগিতা দিয়ে কোনোমতে দিন চলে, তবু কষ্ট নেই আমার। জীবনের শেষকালে এসে যদি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিটুকু পেতাম, তাহলে শান্তিতে মরতে পারতাম।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ বলেন, সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কমিটির সভায় উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধা হাত তুলে নূর ইসলাম নূরুলের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয় সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে প্রেরণ করে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com