মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ১২:২০ অপরাহ্ন

Notice :

কবে হবে সুরঞ্জিত চত্বর?

:: আশরাফ আহমেদ ::
বাংলাদেশের ‘সংসদ কবি’ বলে পরিচিত প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নামে দিরাই-মদনপুর সড়কের তেমুখি জায়গাটিতে ‘সুরঞ্জিত চত্বর’ নামে একটি চত্বর নির্মাণ করা হবে বলে আজ থেকে ৪ বছর আগে কথা দিয়ে যান তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমপি। সেই থেকে নতুন স্বপ্নের জাল বুনতে থাকে ভাটি এলাকার সুরঞ্জিতপ্রেমীরা। কিন্তু ঘোষণা দেওয়ার চার বছর অতিক্রম হওয়ার পর এখনও চত্বর নির্মাণের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
১৯৪৫ সালের ৫ মে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুরে জন্মগ্রহণ করা জননেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের শোকসভায় তখনকার অর্থমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শোকসভায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন বিখ্যাত একজন পার্লামেন্টারিয়ান। একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আজীবন সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলে যাওয়া এই নেতার জন্য দিরাইসহ সারা সিলেট গর্ববোধ করতো। আজ সে নেতা আমাদের মধ্যে নেই। ভাটি এলাকার এই সিংহপুরুষের নামে দিরাই-মদনপুর সড়কের তেমুখী পয়েন্টে একটি চত্বর নির্মাণ করা হবে। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সময় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আজও চত্বরটি বাস্তবায়নে কোনো লক্ষণ দেখতে পারছে না ভাটির মানুষ। প্রশ্ন উঠছে তবে কি ঐসময় কেবল একটি ঘোষণা দিয়েই দায়সারা কাজ করা হয়েছিল? বিষয়টি নিয়ে সুরঞ্জিতপ্রেমীরা বিভিন্ন সময়ে আওয়াজ তুললেও কার্যত কোন ফল পায়নি কালনীপাড়ের জনগণ।
বর্তমানে ক্ষমতায় আছে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের আওয়ামী লীগ সরকার, সেই সাথে সংসদ সদস্য হিসেবেও রয়েছেন সুরঞ্জিতেরই সহধর্মিণী ড. জয়া সেনগুপ্তা। একদিকে নিজ দল ক্ষমতায়, আরেকদিকে ঘরের মানুষ স্থানীয় এমপি, এমন অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার পরও চার বছরেও সুরঞ্জিত চত্বর বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন সারাদেশের গর্বিত একজন পার্লামেন্টারিয়ান। দেশের প্রতিকূল পরিবেশে সুরঞ্জিত কথা বলতেন আপোষহীনভাবে। অন্যায় অবিচার দেখলে বর্জ্যকণ্ঠে আওয়াজ তুলতেন। অনিয়ম হলে নিজ দল কিংবা সমর্থকদের সমালোচনাও তিনি সমানভাবেই করে যেতেন। সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিভিন্ন কবিতার পঙক্তি ব্যবহার করার কারণে অনেকেই তাকে সংসদ কবি বলে ডাকতেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত চলে গেছেন, না ফেরার দেশে। ৭ বার সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছিলেন ভাটি বাংলার এই সিংহপুরুষ। সারা জীবন দেশ-দশের জন্য কাজ করে যাওয়া কীর্তিমান এই নেতার জন্য আমরা ঘোষণা দিয়েও একটি চত্বর করতে পারছি না কেন? প্রখ্যাত এই পার্লামেন্টারিয়ানের নামে একটা চত্বর দেওয়া কি খুব কঠিন কাজ?
আমরা মনেকরি, কেবলমাত্র কিছু মানুষের উদাসীনতা আর আর অনাগ্রহের কারণেই হচ্ছে না সুরঞ্জিত চত্বর। হয়তো একদিন সবাই ভুলে যাবে চত্বরের কথা, আর আওয়াজ তুলবে না কেউ। সময় চলে যাবে, কিন্তু বিভিন্ন অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে এভাবেই ঝুলিয়ে রাখা হবে সুরঞ্জিত চত্বরের নামে ভাটির দেশের মানুষের স্বপ্নটি। তাই পরিবেশ অনুকূল থাকতে থাকতেই ‘সুরঞ্জিত চত্বর’ তৈরি করে সুরঞ্জিতপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবিটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
[আশরাফ আহমেদ : ছাত্র, দর্শন বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ, এমসি কলেজ সিলেট এবং সাধারণ সম্পাদক, এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী