1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

ফতেপুর ইউপি নির্বাচন : আ.লীগের মনোনয়ন চান চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন

  • আপডেট সময় রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, যুবলীগ নেতা রনজিত চৌধুরী রাজন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে গণসংযোগ করছেন।
রনজিত চৌধুরী রাজন ১০ ডিসেম্বর ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে ফতেপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রমেন্দ্র কুমার চৌধুরী, নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, মাতা প্রাপ্তি রাণী চৌধুরী ফতেপুর নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। তাদের পরিবার আর্থ-সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্নকাজে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে আসছে বলে জানান স্থানীয়রা।
রনজিত চৌধুরী রাজনের দাদা মনীন্দ্র কুমার রায় ফতেপুর মুরারী চাঁদ বেসরকারি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তার জ্যেষ্ঠ চাচা সুকেশ রঞ্জন ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এলাকার ভূমিদাতা ও স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান ফতেপুর সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভূমিদাতাও।
৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অরুণ কান্তি দাস ঝুনু বলেন, ১০ শয্যাবিশিষ্ট প্রস্তাবিত হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৪২ শতক জায়গা দান হিসেবে দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন।
রাশেন্দ্র কুমার দাস বলেন, ফতেপুর ইউনিয়নে কোন কলেজ না থাকায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে জায়গার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, দলিল সম্পাদনও সম্পন্ন হয়েছে।
আলীপুর গ্রামের আব্দুল হান্নান, নয়া বারুঙ্কা গ্রামের পংকজ কান্তি রায়সহ রনজিত চৌধুরী রাজনের অন্যান্য সমর্থকরা জানান, ৪জুন ২০১৬খ্রিস্টাব্দের ইউপি নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে বিপুল ভোটে প্রথম বারের মতো ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রনজিত চৌধুরী রাজন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে স্কুলে ছাত্রাবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, তৎকালীন সংসদ সদস্য আব্দুজ জহুরের নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুটের হাত ধরে ছাত্র রাজনীতে প্রবেশ করেন রনজিত চৌধুরী রাজন। আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনৈতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদের স্নেহধন্য রনজিত চৌধুরী রাজনের সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। রনজিত চৌধুরী রাজন ২০০০ খ্রিস্টাব্দে ছাত্রলীগ কর্মীদের সরাসরি ভোটে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ-ভার্সিটি শাখায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ খ্রি. জাতীয় নির্বাচনে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর জন্য প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ থেকে ২০১২ খ্রি. পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অপনারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালীনসহ ১/১১ পরবর্তী সেনাসমর্থিত সরকারের আমলে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুলিশ হয়রানি ও ছাত্রদলের নির্যাতনে উদ্বিগ্ন না হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে সাংগঠনিক কার্যক্রমে উজ্জীবিত করে রাখেন।
২০১৪ খ্রিস্টাব্দে দেশজুড়ে বিএনপির লাগাতার হরতাল, নাশকতা কর্মসূচি প্রতিরোধে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবসে মাঠে সক্রিয় থাকেন। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সংস্কারপন্থীদের ষড়যন্ত্রে শিকার হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা করাবরণের সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকেন তিনি।
২০০৮ খিস্ট্রাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫টি আসনেই মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিল সক্রিয় প্রচারণা।
এছাড়া ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাথে মাঠে ময়দানে সকল কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ নেন রনজিত চৌধুরী রাজন। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে রাজপথে ছিল সক্রিয় উপস্থিতি।
২০১৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ মান্নান ও দলীয় সকল সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কায়সার ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ’র উপস্থিতিতে আনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রনজিত চৌধুরী রাজন।
হেফাজত বিরোধী আন্দোলনে জনমত গঠনে বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্থ-এর অন্যতম টিম সদস্য হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনবিরোধী কার্যক্রম প্রতিহত করার অন্যতম সংগঠক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ জেলার ৪টি নির্বাচনী এলাকায় সুনামঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রয়াত রমাদাসের নেতৃত্বে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উদযাপন ও বিএনপি জামায়াতের সহিংসতা ঠেকাতে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করে অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পান রনজিত চৌধুরী রাজন।
২০১৬ খ্রিস্টাব্দে জনদাবির প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রনজিত চৌধুরী রাজন। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী নাদের বখত-এর নৌকা প্রতীকের পক্ষে শহরের পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালান রনজিত চৌধুরী রাজন।
৩০ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে মহাজোট প্রার্থীসহ জেলার সবক’টি আসনেই ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় জনসংযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার ‘গ্রাম হবে শহর, দারিদ্র্য হবে বিমোচন’ ঘোষণাকে সামনে রেখে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন রনজিত চৌধুরী রাজন।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রনজিত চৌধুরী রাজন জানান, সেবা-শান্তি-উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি জনবান্ধব ডিজিটাল ইউনিয়ন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ২০২১- ২০৪১ রূপকল্প বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশ জাতির কল্যাণে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হয়ে জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য এবং আগামী দিনের সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে আমি ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চাই। আমি বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেলেও জনতার দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সবুজ সংকেত পেয়েই নির্বাচন করে বিজয়ী হই। নৌকা আমার আজন্ম লালিত অনুভূতির নাম। নৌকা মানেই হৃদয়ে উদ্বেলিত বঙ্গবন্ধু তথা জননেত্রীর আস্থা ও শেষ ঠিকানা। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে ফতেপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। আমি বিশ্বাস করি দল অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com