1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

‘বাঁধের নামে হরিলুটের আয়োজন’

  • আপডেট সময় শনিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ::
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের অবস্থা বেহাল। সরেজমিনে বিভিন্ন হাওরের বাঁধের কাজ পরিদর্শন করে এ অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়।
শুক্রবার উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ও দরগাপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায় এখনো কোন বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি। এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন যারা কাজ শুরু করেনি তাদের পিআইিসি বাতিল করা হবে। পিআইসির লোকজন বলছেন ওয়ার্ক অর্ডার না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষেদ চেয়ারম্যান বলছেন, শনিবার থেকে কাজ শুরু হবে।
এদিকে শুক্রবার হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ সরেজমিনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেন। এ সময় কোথায় বাঁধ হচ্ছে তা খোঁজে পাওয়া যায়নি বলে তারা জানান।
সরেজমিনে পরিদর্শনে অংশ নেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায়, সাংগঠনিক স¤পাদক একে কুদরত পাশা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন, সাধারণ স¤পাদক আবু সাইদ, সহ-সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান, সাংগঠনিক স¤পাদক ইজাজ হোসেন,
চৌধুরী মাহফুজ, বাঁধ বিষয়ক স¤পাদক ডা. নজরুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা স¤পাদক আব্দুল ইসলাম মিলন, নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান তালুকদার, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আল, সৈয়দ আসাদুজ্জামান আসাদ, শিমুলবাঁক ইউনিয়ন আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের খাই হাওর উপ-প্রকল্পের কি.মি. ৬.৮৬৬ হতে কি.মি. ৮.৮৭৬ ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধকরণ ও মেরামত কাজের পিআইসি নং ২৫ এ গিয়ে দেখা যায় বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। এ প্রকল্পের সভাপতি হচ্ছেন জুনেদ আহমদ ও সেক্রেটারী মুজিবুর রহমান। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৭ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা। একই হাওরের পিআইসি নং ২৬ এ গিয়ে দেখা যায় বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। এ প্রকল্পের সভাপতি হচ্ছেন ফজলুর রহমান ও সেক্রেটারী সজিব নূর। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ লক্ষ ১ হাজার টাকা। এ বাঁধেও কাজ শুরু হয়নি।
দরগাপাশা ইউনিয়নের কাঁচিভাঙ্গা হাওরের কি. মি. ০.১৫০ হতে ২.৯৬৭ কি.মি. বাঁধের পিআইসি নং ৬ এ গিয়ে দেখা যায় বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। তবে দুর্বাঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে ১০ গজ জায়গায়। এ প্রকল্পের সভাপতি হচ্ছেন আবু খালেদ চৌধুরী ও সেক্রেটারি মিসবাহ উদ্দিন। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা।
জামখলার হাওর পিআইসি নং ০২ এর সভাপতি আফরোজ মিয়া, সেক্রেটারি রাহেল চৌধুরী, বাঁধের বরাদ্দ ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার। পিআইসি নং ৩-এর সভাপতি জগলু, সেক্রেটারি বাচ্চু মিয়া। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১৯ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। কাঁচিভাঙ্গা হাওরের পিআইসি নং ০৭-এর সভাপতি বদরুল, সেক্রেটারি জবর আলী, এ প্রকল্পে বরাদ্দ ৭ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা, খাইর হাওর পিআইসি নং ২৭-এর সভাপতি ফয়জুল হোসেন, সেক্রেটারী ইয়াওর মিয়া চৌধুরী। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১২ লক্ষ ৬৯ হাজার। পিআইসি নং ২৮, সভাপতি মঈনুল ইসলা, সেক্রেটারি হারুন মিয়া। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে কোথাও কাজ শুরু হয়েছে এমন চিত্র দেখা যায়নি। বিশেষ করে খাইর হাওরের কোণাডুবি ও চাতলি ভাঙ্গাগুলো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন এ ভাঙ্গাগুলো বন্ধ না হলে ফালগুন মাসে নদীতে পানি একটু বৃদ্ধি পেলেই হাওরে প্রবেশ করবে।
জামখলা হাওরের বাঁধ কাম রাস্তা ছয়হারা সলফ অংশ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। এদিকেও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে জামখলা হাওর। কাঁচিভাঙ্গা হাওরের ৬ নং পিআইসিতে গিয়ে দেখা যায় ১০ গজ জায়গায় দুর্বাঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে। এসময় কৃষকরা প্রতিনিধি দলের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক জানান, আমরা এখনও ওয়ার্ক অর্ডার পাইনি কিভাবে কাজ শুরু করবো। এরপরও আমরা দুর্বাঘাস পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি।
খাই হাওরের কোণাডুবি ভাঙ্গা থেকে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মীকে ফোন দিলে তিনি জানান, আমরা গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা কাজ শুরু করবে না সেসব পিআইসি বাতিল করে নতুন পিআইসি করা হবে।
দরগাপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন জানান, এখনো আমার ইউনিয়নের কোন বাঁধে কাজ শুরু হয়নি, আশা করি শনিবার থেকে কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে আলাপ হলে তারা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে বাঁধের কাজের নামে হরিলুটের আয়োজন করা হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এবারো সময় মতো বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় আমাদের ফসল হুমকির মুখে পড়বে। চোখের সামনে নানা অনিয়ম হলেও আমাদের কিছুই করার থাকে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com