1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

‘হঠাৎ ফ্যাক্টর’ কে এই কয়ছর?

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১

মাসুম হেলাল ::
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নেক নজরে আসার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে হু হু করে বাড়ছে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি। এক সময়ের উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তির এখন লন্ডনে বসে নিজ এলাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’। এলাকা তো বটেই জেলার দলীয় রাজনীতিতেও হঠাৎ করে তিনি এখন ‘বড় ফ্যাক্টর’। তার প্রতি অনুগতরা পাচ্ছেন পদ-পদবী; উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক। আর তার কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধরা হয় কোণঠাসা, না হয় অভিমানে রয়েছেন রাজনীতি থেকে দূরে।
দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়ের জন্য যাকে দায়ী করা হচ্ছে, উপরের অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে নিয়ে আসছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতিতে হঠাৎ প্রভাবশালী বনে যাওয়া সেই ব্যক্তির নাম কয়ছর এম আহমদ, যিনি যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছরের বাড়ি জগন্নাথপুর পৌরসভার ছিলিমপুর গ্রামে। ১৯৯৮ সালে জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগের সাথে সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা হাফিজ হত্যার আলোচিত ঘটনার পর দেশ ত্যাগ করেন তিনি। ওই মামলায় তিনি সাক্ষী থাকলেও কয়েকবার দেশে ফিরে আদালতে গিয়ে সাক্ষী না দেয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ফলে মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেক নজরে আসেন কয়ছর। এরপর থেকে দলীয় রাজনীতিতে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তার। বিদেশের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতেও তার ব্যাপক প্রভাব।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিএনপি অনুকূল পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’র অংশ হিসেবে নিজের মতো করে মাঠ সাজানোর অংশ হিসেবে যাকে যেখানে খুশি পদে বসাচ্ছেন কয়ছর। যাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক পাকাপোক্ত অবস্থান রয়েছে তাদের দূরে ঠেলে দিয়ে অনুগতদের নিয়ে আসছেন সামনের সারিতে। ত্যাগীদের কোণঠাসা করে রেখে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীতে বসাচ্ছেন যাকে-তাকে।
দলীয় সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়ছরের এমন আচরণে চরম বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বড় অংশের নেতাকর্মীরা। ফলে অনেকেই এখন দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয়। দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখে নিজের মতো করে আছেন তারা।
জানা যায়, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত জগন্নাথপুর উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে যে কয়জনের অবদান নেতাকর্মীরা অপকটে স্বীকার করেন, তাদের একজন দুই বারের পৌর মেয়র আক্তারুজ্জামান আক্তার। দীর্ঘ ১৮ বছর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাব হাসিলের পর আক্তারকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে হঠিয়ে সেখানে বসান তার আস্থাভাজন ছাদ মাস্টারকে। আর সহোদর কবির আহমদকে করেন সাধারণ সম্পাদকের পদ। যদিও উপজেলা বিএনপির ভাইটাল এই পদ পাওয়ার পর থেকে কবির যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
এদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে ‘অভিমানে’ দলীয় প্রতীক না চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার উদ্যোগ নেন। তাকে নিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার উদ্যোগ না নিয়েই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনুজ্জামান হারুনকে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন আক্তার। কয়ছরের আস্থাভাজন হারুন ৮১৭ ভোট পেয়ে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে জামানত হারান।
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, একটি কথা প্রচলিত হয়েছিল, কুকুরে লেজ নাড়াইতো, এখন লেজে কুকুর নাড়ায়। অনেক সময় রাজার ঘরের চাকরানিও বড় রাণী বনে যান। এ কারণেই সুনামগঞ্জ বিএনপির রাজনীতির আজ এই অবস্থা।
তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেব যে কোনও প্রেক্ষাপটে লন্ডন আছেন। সেই সুযোগে কিছু কিছু মানুষ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। যে ব্যক্তি ছাত্রদল নেতা হাফিজ হত্যার পর প্রতিপক্ষের সাতে আঁতাত করে লন্ডন চলে গিয়েছিল, সে যদি তারেক রহমান সাহেবকে বুুদ্ধি-পরামর্শ দেয়, তবে দলের অবস্থান কোন পর্যায়ে সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। উপজেলা বিএনপিতে বটেই জেলার বিএনপির নেতারা এখন কয়ছরের কথায় উঠবস করেন। যে কারণে দল দিন দিন দুর্বল হচ্ছে।
এদিকে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জেও জনপ্রিয় বিএনপি নেতা বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের সাথেও সাবেক জেলা যুবদল আহ্বায়ক আনসার উদ্দিনকে সমান্তরালে নিয়ে আসার অভিযোগ কয়ছরের বিরুদ্ধে। এখানেও কয়ছর সমর্থক গ্রুপকে চ্যালঞ্জ করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ফারুক। অপরদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দুইবারের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতা এখন বিএনপি’র বাইরে থেকে ‘অন্তরে জিয়ার আদর্শ লালন করেন’।
কর্নেল (অব.) আলী আহমদ বলেন, আগামীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়ছর। তাই তারেক রহমানের সাথে যে সম্পর্ক রয়েছে সেটিকে কাজে লাগিয়ে দেশের রাজনীতিতে যা খুশি তাই করে চলছেন তিনি। তার প্রতি অনুগত, আস্থাভাজন ও আত্মীয়-স্বজনদের দিয়ে কমিটি গঠন করছেন। জনপ্রিয়দের দূরে ঠেলে দিয়ে জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষের ভরাডুবি ঘটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কয়ছরের ভাই কবির আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার পরও টানা ছয় বছর ধরে লন্ডনে থাকেন কীভাবে। তার অনুপস্থিতিতে দলীয় কর্মকাণ্ড কীভাবে চলে, সেই প্রশ্ন কে করবে। বিএনপি থেকে শুরু করে সকল অঙ্গ সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে কয়ছর দলকে এতোটাই অজনপ্রিয় করেছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এখন আর কেউ ধানের শীষ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অথচ, সুনামগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকায় দুই উপজেলা পরিষদ ও এক পৌরসভায় বিএনপি নেতারা চেয়ারম্যান, মেয়র।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের সাথে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটঅ্যাপে কল করে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কল রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তার কাছ থেকে কোনও প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com