1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01711-368602

স্মৃতিতে সুনামকণ্ঠ ও সুনামগঞ্জ : মো. তোবারক আলী

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০২১

দৈনিক সুনামকণ্ঠের ৭ম বর্ষে পদার্পণলগ্নে অভিনন্দন। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল ৬টি বছর। এভাবেই সময় চলে যায়, থেকে যায় স্মৃতি। সুনামগঞ্জের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র ইতিহাসের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়জুড়ে আছে “দৈনিক সুনামকণ্ঠ”। পত্রিকাটি দৈনিক হওয়ার ইতিহাসের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর মূল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সুনামকণ্ঠ মূলত: ছিল সাপ্তাহিক। সাপ্তাহিক হিসেবে এর প্রতিষ্ঠা তারিখ ১৩ জুলাই ২০০১ খ্রি.। সে হিসেবে তার বয়স ১৯ বছর। একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন সংবাদপত্র প্রকাশের ঘটনা সত্যিই বিরল বটে।
সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হওয়ার পর সুনামকণ্ঠ’র পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে এর সংবাদ পরিবেশনের মান। অনেক সাংবাদিকদের হাতেখড়ি হয়েছে সুনামকণ্ঠ’র মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়ের কথা গৌরবের সাথেই উল্লেখ করতে হয়। এই মানুষটির আপাদমস্তক শুধু সংবাদপত্রের বাক্য দিয়ে ঢাকা। কী পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন এই সুনামকণ্ঠ নিয়ে তা আরও অনেকের মতো আমি দেখেছি খুব কাছে থেকে। দিনের পর দিন কখনোবা রাত অব্দি আলোচনা হয়েছে সুনামকণ্ঠ নিয়ে। কিভাবে সুনামকণ্ঠকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে নিরলসভাবে। মনে পড়েছে প্রয়াত সাংবাদিক শাহার উদ্দিন ভাইয়ের কথা। তিনি ছিলেন সাপ্তাহিক সুনামকণ্ঠের বার্তা সম্পাদক। নতুন নতুন ছেলেদের ডেকে আনতেন তিনি। কিভাবে সংবাদ তৈরি করতে হয় তা হাতে-কলমে শেখাতেন। শাহার উদ্দিন ভাই ছিলেন মূলত ইংরেজি পত্রিকার সাংবাদিক। পাশাপাশি তিনি বাংলায় ছিলেন বিশেষ পারদর্শী। একান্ত মানবিক একজন ব্যক্তি ছিলেন শাহার উদ্দিন আহমেদ। আজকের দিনে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। সুনামকণ্ঠের সফলতা অর্জনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তবে আরও কিছুর ব্যক্তির অবদান আছে যা সীমাবদ্ধতার কারণে উল্লেখ করা গেল না বলে দুঃখিত। তবে সুনামকণ্ঠ দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে যার অবদান শীর্ষে তিনি হচ্ছেন সংবাদপত্র জগতের পৃষ্ঠপোষক মানবিক ব্যক্তিত্ব জনাব জিয়াউল হক সাহেব। তাঁকে অনেক অনেক অভিনন্দন।
একটি নীরেট সত্য কথা বলতে আজ দ্বিধা নেই যে, সাপ্তাহিক সুনামকণ্ঠে ‘পথে যেতে যেতে’ শীর্ষক পথচারী ছদ্মনামে উপ-সম্পাদকীয় কলামটি আমি লিখেছি শুরু থেকেই। তখন আমি একটি সংবেদনশীল সংস্থায় চাকরি করতাম। যার কারণে এই ছদ্মনাম ধারণ করে লেখাটি আমাকে লিখতে হয়েছে। এজন্য আমাকে অনেক ভয়ের মধ্যে দিন কাটাতে হতো। কারণ, কখন কোন বিষয় বিতর্কিত হয়ে উঠে তা বলা সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লিখতে গেলে ভয় কাজ করত বেশি। আমার সাথে সম্পাদকের অলিখিত চুক্তি ছিল যে, বিষয়টি মোটেও প্রকাশ করা যাবে না। আমার লেখা কলামটি নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে যথেষ্ট পরিমাণে হুমকি এসেছে প্রায়ই। সেই হুমকি মোকাবেলা করেছেন সাহসের সাথে বিজন সেন রায়। সেজন্য তাঁকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
‘পথে যেতে যেতে’ উপসম্পাদকীয় কলামটি অনেক জনপ্রিয় হয়েছিল সে সময়। সুনামগঞ্জের এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানাবিধ প্রসঙ্গ ওঠে আসতো কলামটিতে। পাঠক-পাঠিকাদের প্রতিক্রিয়া বেশ উপভোগ করতাম আমরা। কলামটি ঘিরে একটি পাঠক মহল তৈরি হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে প্রয়াত রাজনীতিবিদ বাবু প্রসূনকান্তি বরুণ রায়ের কথা স্মরণ করতে হয়। তিনি ছিলেন কলামটির একজন মননশীল পাঠক। কলামটি পাঠ করে তিনি জোরালো মন্তব্য প্রকাশ করতেন। তিনি আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ ডিসেম্বর তারিখে। আজকের এই দিনে এই ক্ষণজন্মা পুরুষের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
সুনামগঞ্জে আমার অকৃত্রিম বন্ধুদের একজন ছিলেন গোলাম এহিয়া পুরকায়স্থ সাজু। তিনি ছিলেন দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। পাশাপাশি ছিলেন সাপ্তাহিক সুনামগঞ্জের জনপথ পত্রিকার সম্পাদক। ৩০ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে।
আজকের দিনে মনে পড়ছে সুনামগঞ্জের জোছনার কবি বলে খ্যাত দেওয়ান মমিনুল মউজদীনকে। তিনি ছিলেন পৌর চেয়ারম্যান। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর তিনি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। অন্যান্য অনেকের মত আমরা এই অকাল প্রয়াত কবির চিরশান্তি কামনা করি।
সাপ্তাহিক সুনামকণ্ঠের একটি জনপ্রিয় কলাম ছিল ‘জীবন যেখানে যেমন’ এটি লিখতেন অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দেব। জীবন ও সমাজের নানা প্রসঙ্গ তিনি ফুটিয়ে তুলতেন তাঁর লেখায়।
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের মৃত্যু হয় ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে। তিনি একুশে পদক প্রাপ্ত লোককবি। মনে পড়ছে তাঁর কথা। তাঁর রচিত লোক ও আধ্যাত্মিক গান দেশ বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়।
এবার একটি মর্মান্তিক ও অমানবিক বিষয়ের কথা বলতে চাই। তাহিরপুরের রাখি রানী রায় নামে এক গৃহবধূকে স্বামীর বাড়ির লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছিল। সেই গৃহবধূ পরপর ৪টি কন্যা সন্তান জন্মদান করেছিলেন এটাই ছিল তার ‘অপরাধ’। ঘটনাটি ঘটেছিল সম্ভবত ২০১০ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে। এ বিষয়ে সাপ্তাহিক সুনামকণ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ছবিসহ প্রথম পৃষ্ঠায়। সংবাদটি তখন পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।
সাপ্তাহিক এবং বর্তমান দৈনিক সুনামকণ্ঠ এভাবে সংবাদ প্রকাশ করে তার দায়বদ্ধতা বজায় রেখেছে সমসময়। এমনই আরও শত-সহস্র স্মৃতিময় ঘটনা জমে আছে মনের মণিকোঠায়। তা বললে অনেক হয়ে যাবে।
বিজন সেন রায়ের সাথে অনেক আড্ডা হতো তাঁর কার্যালয়ে। অতি সজ্জন ও অমায়িক ব্যক্তি তিনি। আজ অবধি তিনি এই পত্রিকাটি ধরে রেখেছেন তাঁর বাহুতে। তবে মানবহিতৈষী জনাব জিয়াউল হক সাহেব পত্রিকাটির প্রকাশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তা আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে সুনামকণ্ঠ এবং বৃদ্ধি পেয়েছে পাঠকপ্রিয়তা। সুনামগঞ্জের ইতিহাসে দৈনিক সুনামকণ্ঠ একটি উজ্জ্বল মাইল ফলক হয়ে আছে। আশা করছি পত্রিকাটি টিকে থাকবে যুগ যুগ ধরে। আজকের এই দিনে কামনা করছি তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি।
[লেখক : মো. তোবারক আলী : কবি ও কলামিস্ট]

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com