1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

কমরেড আবদুল হক সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের আলোকবর্তিকা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কমরেড আবদুল হক-এর ১০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রত্নাংকুর দাশ জহর। সাইফুল আলম (ছদরুল)-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কবি ও লেখক ইকবাল কাগজী, কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন তালুকদার, মাসুদ আক্তার মাসুদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট লো শাখার দপ্তর স¤পাদক রমজান আলী পটু, সাবেক ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম, বারকী শ্রমিক সংঘ সুনামগঞ্জ লোশাখার সভাপতি নাসির মিয়া প্রমুখ।
আলোচনা সভার শুরুতে কমরেড আবদুল হক-এর জীবনচিত্র পাঠ করেন জাতীয় ছাত্রদলের সাবেক জেলা সভাপতি আমির উদ্দিন। আলোচকবৃন্দ কমরেড আবদুল হক-এর রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামের ওপর আলোচনা করেন। আলোচকবৃন্দ বলেন, কমরেড আবদুল হকের শততম জন্মবার্ষিকী আমরা এমন এক সময়ে পালন করছি, যখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, দ্বন্দ্ব-সংঘাত; সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ-বিগ্রহ, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি ও উত্তেজনা; শ্রমিকশ্রেণি ও জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম বিদ্রোহ-বিপ্লব; করোনা পরিস্থিতিসহ নানান রকমের তোলপাড় চলছে। ত্রিশের দশকের মহামন্দা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে ২০০৮ সালে সূচিত এ পর্যায়ের বৈশ্বিক মন্দাকে করোনা মহামারী ত্বরান্বিত করে পঁচাত্তর বছরের বৃহত্তম মন্দায় পরিণত করেছে। করোনা মহামারী বিদ্যমান পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট মোকাবেলায় তার অক্ষমতা ও অকার্যকারিতা নগ্নভাবে উন্মোচিত করে। সাম্রাজ্যবাদী একচেটিয়া পুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে পরিচালিত এ সকল খাতসহ গোটা ব্যবস্থার গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র ও দেউলিয়াত্ব উন্মোচন করে। বিদ্যমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে কোটি কোটি মানুষের আক্রান্ত হওয়া ও লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু; করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সামগ্রীর অপ্রতুলতা; ডাক্তার-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সম্মুখযোদ্ধাদের নিরাপত্তাহীনতা; প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি; ভ্যাকসিন নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী তীব্র প্রতিযোগিতা; তাদের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ভ্যাকসিনকে ব্যবহার ও মুনাফার লক্ষ্যে ভ্যাকসিন বাণিজ্যের নগ্নতা ফুটে উঠছে।
বিশ্ব পুঁজিবাদী অর্থনীতির ধারাবহিক সংকট ও গভীর মন্দা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান মন্দা এবং একক বৃহৎ শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে অব্যাহত আঞ্চলিক যুদ্ধের ব্যয় বহন সংকুলান ইত্যাদি প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নয়া উপনিবেশিক দেশসমূহে উন্নয়ন ব্যয়ের পূর্ব পদ্ধতি বাতিল করায় এ ধরনের মেগা কাজে পশ্চিমা পুঁজি পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় এমডিজি ও এসডিজি বাস্তবায়নের নামে দেশীয় জনগণের ওপর কর বসিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে তথাকথিত উন্নয়নের কৌশল চাপানো হয় নয়াঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী দেশসমূহে। সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার নীল নকশা বাস্তবায়নই এর লক্ষ। কর-নির্ভর বৃহৎ বাজেট প্রণয়ন করে নানা সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রকল্পের পর প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। এর মধ্য দিয়ে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের চমক দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করে সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় দালালদের ব্যাপক শোষণ ও লুটপাটের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত হয় আলোচিত এই সকল দেশ। আর প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলনের পদ্ধতিতে তাত্ত্বিক নীতিমালা অস্বীকার করে নানা জবরজং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। একে বৈধতা দেয়ার জন্য নানা সংস্কারের নামে দুর্নীতি, লুটপাট, ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়ন ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করা হয়। এ জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার সকল সেক্টরে বিশেষ করে আইন, প্রশাসনিক, বিচারিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন আনা হয়। এমনকি ন্যূনতম বাক-ব্যক্তি, স্বাধীনতাসহ সকল প্রকারের রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্রমিক-কৃষক সাধারণ জনগণের সকল নাগরিক (মৌলিক) অধিকার সংকুচিত করে তাদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রামের পথকে রুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রতিবাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে প্রতিনিয়ত তা জোরদার করা হচ্ছে।
আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, এ সময়ে শিল্পসহ অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাত এবং সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র অচল হয়ে পড়ে। কোটি কোটি শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকারত্বে নিপতিত হয়ে নিদারুণ দুঃখ-কষ্টে পড়েছে। সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল সরকারগুলো যে উদ্ধার ও উদ্দীপক কর্মসূচি গ্রহণ করে তা মূলত একচেটিয়া পুঁজি ও তার দালালদের স্বার্থেই ব্যয় করা হয়। দারিদ্র সীমার নীচে জনগণের বিরাট অংশ নিপতিত হয় এবং দুর্ভিক্ষাবস্থা বৃদ্ধি পায়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনগণ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলোসহ বিশ্বের দেশে দেশে রাস্তায় নেমে আন্দোলন-সংগ্রামে সামিল হচ্ছে। আন্দোলন-সংগ্রাম দমনের লক্ষ্যে করোনা মোকাবেলার নামে তারা বিভিন্ন দমন-পীড়নমূলক আইন পাস করছে। এর বিরুদ্ধেও জনগণ সোচ্চার হচ্ছে। এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগণকে বাজার অর্থনীতি, ব্যক্তিমালিকানা ও প্রচলিত পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অর্থনীতি, ও সামাজিক মালিকানা তথা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার লক্ষ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম অগ্রসর করতে হবে যেখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা এই ৫টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা পাবে জনগণ।
শোষিত-বঞ্চিত শ্রমিক-কৃষক-জনগণের দুঃখ-কষ্ট, নিপীড়ন-নির্যাতনের জন্য দায়ী শোষণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে উৎখাত করা ভিন্ন জনগণের মুক্তির অন্য কোন পথ নেই। এই দিক-নির্দেশনার ক্ষেত্রে মহান কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আবদুল হক মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সামনে রেখে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব স¤পন্ন করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার যে ডাক দেন তা কার্যকরী করতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াটা তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রকৃত পথ। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com