1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াবেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::
‘ইবার চেয়ারম্যানি ইলেকশন জমতো না। জমবো মেম্বারি ইলেকশন। মেয়র সাবের মিছিল-মিটিং লাগতোনায়’। সুনামগঞ্জ পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী নাদের বখতের ইমেজের কাছে ম্লান অন্য দুই মেয়র প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে কথা বলছিলেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালি এলাকার আব্দুল আজিজ। তার এমন মন্তব্যের সঙ্গে একমত অধিকাংশ নাগরিকরাও। মেয়র পদে তিনজন মনোনয়ন জমা দিলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাদের বখত অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে রয়েছেন। প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনে শ্রম ছাড়াই তিনি সহজে উতরে যাবেন এমনটা মনে করেন নাগরিকরা। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াবেন এমনটি মনে করছেন নাগরিকরা। এখন সুনামগঞ্জ শহরের পৌর নির্বাচন তারাই জমিয়ে রাখবেন এমন মন্তব্য করছেন অনেকেই।
২০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল। অন্যান্য বছর মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকদের মধ্যে মনোনয়ন জমাদান নিয়ে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ করা যায়। কিন্তু মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সেই উৎসাহ ছিল না। বরং কাউন্সিলর প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মোটর সাইকেল শোডাউন করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১২ জন নারী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তারা সবাই কর্মী সমর্থকদের নিয়ে উৎসবের আমেজে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাদের বখত, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোরশেদ আলম ও ইসলামিক আন্দোলনের প্রার্থী রহমত উল্লাহ অনেকটা নীরবেই মনোনয়ন জমা দেন।
রাজনীতি সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, নাদের বখতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমন শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। তাছাড়া মেয়র পদে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন এমন কোন শক্তিশালী প্রার্থীও মনোনয়ন জমা দেননি। তাই বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী নাদের বখতের সমর্থকরা। তাই তারা অযথা প্রচার-প্রচারণায় না গিয়ে স্বাভাবিক প্রচারণাই চালাবেন বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
অন্য বছর মেয়র প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েই বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতেন। কিন্তু এ বছর মনোনয়ন জমা দানের পর কাউকেই জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় এ পর্যন্ত দেখা যায়নি। নির্ভার আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাদের বখতও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোরশেদ আলমও এখন পর্যন্ত অনেকটা নীরব। মেয়র প্রার্থী রহমত আলীকে চিনেননা ভোটাররা।
এবার মনোনয়ন জমাদানের পরই কাউন্সিলররা চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতীক পাবার আগেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ছবি পোস্ট করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে চলে যাবার পর অন্য কাউন্সিলর প্রার্থী ছুটে আসছেন। এভাবেই পৌর শহরে কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা লক্ষ করা গেছে।
সোমবার দুপুরে হোসেন বখত চত্বরে গিয়ে দেখা যায় কাউন্সিলর প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিন্টু চৌধুরী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ উপেক্ষা করেও তিনি সমানে হাত মিলাচ্ছেন ভোটারদের সঙ্গে। আশীর্বাদ ও দোয়া চাইছেন। ওই ওয়ার্ডে অপর প্রার্থী নাট্যকর্মী সাদিকুর রহমান রুবেলকেও প্রচারণায় দেখা গেছে। ওইদিন ১ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় টানা দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর বিশিষ্ট ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হোসেন আহমদ রাসেল প্রচারণা চালাচ্ছেন। শুরু থেকেই এবারও তাকে প্রচারণায় সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি সহজেই জনসাধারণের সমর্থন আদায় করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত কাওসার ১নং ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। দিন থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে। ১নং ওয়ার্ডের অপর কাউন্সিলর প্রার্থী সুমন আহমেদ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন দিন থেকে রাত পর্যন্ত।
এদিকে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে এখনো কোন মেয়র প্রার্থীদের দেখা না গেলেও পুরুষ ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন। সকাল-সন্ধ্যা লিফলেট নিয়ে যাচ্ছেন তারা।
কাউন্সিলর প্রার্থী মিন্টু চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছি। সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমার নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছেন। নাগরিকরা জানেন আমি প্রার্থী হবো। এখন আবার সবার ঘরে ঘরে গিয়ে দোয়া ও আশীর্বাদ চাচ্ছি। সবাই আমাকে সমর্থন দিবেন সেই প্রত্যাশা করছি আমি।
একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাদিকুর রহমান রুবেল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নিজ উদ্যোগ ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। তারা আমার কাজের প্রশংসা করেছেন। কাজ করে যাওয়ার কথা বলেছেন। আমি আশাবাদী তারা আমাকে ভোট দিবেন।
১নং ওয়ার্ড বর্তমান কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী হোসেন আহমদ রাসেল বলেন, এলাকার সবাই আমাকে নিজের সন্তান হিসেবে চিনেন জানেন। আমাকে স্নেহ করেন। আমি যতটুকু পেরেছি গত ১০ বছর ধরে তাদের পাশে সুখদুখে আছি। এবারও তারা আমাকে স্নেহ-ভালোবাসায় বাঁধবেন এই প্রত্যাশা করি।
১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত কাওসার বলেন, এলাকার প্রতিটি মানুষের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা আমাকে তাদের সন্তান মনে করেন। আমি নিজেকে তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করি। আমি এলাকাবাসীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। আশা করি ১নং ওয়ার্ডবাসী আমাকে তাদের সেবায় নিয়োজিত করার সুযোগ দিবেন।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী নাদের বখত বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি আমি নিয়মিত পৌরসভায় কাজ করছি। কারণ দীর্ঘদিন স্টেশনের বাইরে থাকায় কাজ জমা হয়েছে। তাই এখন মাঠের বদলে অফিসে বসেই টানা কাজ করতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com