1. dailysunamkantha@gmail.com : admin2017 :
  2. editor@sunamkantha.com : Sunam Kantha : Sunam Kantha
মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষণা ::
সুনামগঞ্জ জেলার জনপ্রিয় সর্বাধিক পঠিত পত্রিকা সুনামকন্ঠে আপনাকে স্বাগতম। আমাদের পাশে থাকার জন্য সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন - 01867-379991, 01716-288845

বেতন-ভাতা বন্ধ : ১৩ মাস ধরে শিক্ষকের মানবেতর জীবনযাপন

  • আপডেট সময় বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০

হাসান বশির ::
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরেও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মেরুয়াখলা মমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক( আরবি) মো. আব্দুল মালেকের বেতন ভাতাদিসহ অন্যান্য সুবিধা বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানাযায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২২ শিক্ষক/কর্মচারীর বেতনসিটের ৩নং ক্রমিকধারী সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মো. আব্দুল মালেকের বেতন-ভাতাদি বন্ধ থাকবে বলে এডহক কমিটির সভাপতি নোট দিয়ে স্বাক্ষর করে সোনালী ব্যাংক বিশ্বম্ভরপুর শাখায় বেতন সিট জমা দেন। এর প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মো. আব্দুল মালেকের বেতন ভাতাদিসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সকল সুবিধা বন্ধ হওয়ায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিনের কার্যালয়ে কয়েক দফা বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তির আবেদন করেন। অধ্যক্ষ/মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বেতন-ভাতা প্রাপ্তির আবেদনের বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ২০২০ সালের আগস্টে মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে একই বিষয়ে আবেদন করেন ভুক্তভোগী সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মালেক। আবেদনের বিষয়ে কার্যত কোন ফল না পাওয়ায় ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং ৫৭৪১/২০২০খ্রিস্টাব্দ দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ অত্র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মো. আব্দুল মালেকের বেতন ভাতাদিসহ অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সকল সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকাকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ৫৭.২৫.০০০০.০০৫.০৪.০৪৯.২০.১৬৩(১), তারিখ : ৫ নভেম্বর ২০২০ নং স্মারকে মাদ্রাসার গভর্নিংবডি/এডহক কমিটির সভাপতি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বেতন ভাতার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী এডহক কমিটির সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক।
সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মো. আব্দুল মালেক বলেন, মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ বেতন ভাতা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতিত স্থগিত বা বন্ধ রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু এডহক কমিটির সভাপতি সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তার একক সিদ্ধান্তে, আমার বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারী ও সদস্যরা ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে তৎকালীন গভর্নিংবডির বিদ্যুৎসাহী সদস্য আপ্তাব উদ্দিন বলেন, কোন কারণ বা রেজুলেশন ছাড়াই শিক্ষক মো. আব্দুল মালেকের বেতন০ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করেছি।
এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মতিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এডহক কমিটির সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষক মো. আব্দুল মালেকের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়ে উপযুক্ত কারণ রয়েছে। আলিম (এইচএসসি সমমান) মাদ্রাসার নিয়ম এক প্রকার এবং ফাজিল (স্নাতক) পর্যন্ত মাদ্রাসার নিয়ম আরেক প্রকার। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স, অ্যাক্ট অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক (আরবি) পদের শিক্ষকের ভেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা, নিয়ম-কানুন সরকারি চাকরিজীবীদের মতো। বর্ণিত শিক্ষক মার্ডার মামলায় কারাভোগ করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও বরখাস্ত করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন দপ্তর থেকে চিঠি আসলেও সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যায়ভাবে বেতন-ভাতাদি বন্ধ রাখা হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, বেতন-ভাতার বিষয়টি গভর্নিংবডি/এডহক কমিটি দেখেন। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। কি কারণে সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মালেকের বেতন-ভাতাদি বন্ধ, এ বিষয়ে অত্র অফিসে কোন তথ্য নেই। তবে বেতন-ভাতার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত কর্তৃক মহাপরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা, ও গভর্নিংবডি/এডহক কমিটিকে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে একটি চিঠি আমি দেখেছি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে আমার কাছে কোন চিঠি আসেনি। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেই যোগাযোগ করতে হবে।
অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক আব্দুল মালেকের বেতন-ভাতাদি বন্ধ রাখা হয়েছে। আদালত ডিজি মহোদয়কে বেতন-ভাতা প্রদানর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশের নির্ধারিত সময় পার হলেও বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কন্টেম্ট নোটিশ প্রদান করেছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

© All rights reserved © 2016-2021
Theme Developed By ThemesBazar.Com