সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০২:০৯ অপরাহ্ন

Notice :

নৌকার ‘বিদ্রোহীরা’ আর মনোনয়ন পাবেন না

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
অতীতে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আগামী দিনে দলীয় মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নেতা যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, পরবর্তী সময়ে তিনি আর নৌকা প্রতীক পাবেন না। দলের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত শনিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এমনটি জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ স¤পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্যাহ, মুহাম্মদ ফারুক খান এবং প্রচার ও প্রকাশনা স¤পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
সূত্র জানায়, মূলত আসন্ন ২৫ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এসব পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ১০৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এঁদের মধ্যে দু-তিনটিতে বিগত নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাওয়া বিদ্রোহী নেতারাও ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা তোলেন একজন নেতা। পরে জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল সংগঠনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে একাধিক নেতা কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান গ্রহণে গুরুত্ব দেন। নেতাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্তের আলোকেই ২৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে একটি পৌরসভার মেয়র বেশ জনপ্রিয় বলে আলোচনা ওঠে। তিনি গতবার নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য বলেন, বিদ্রোহীদের ছাড় দিলে দলে শৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে। নৌকার বিরোধিতাকারী যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সম্প্রতি দুটি জেলার সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদককে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন একাধিক নেতা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানান, ভবিষ্যতেও এমন কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। যেসব জেলা ও মহানগরের নেতারা গ্রুপিংয়ের কারণে সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।
মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, আমরা এখন দলীয় শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সে কারণেই বিদ্রোহীদের পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী