শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

Notice :

এলডিপি থেকে অ্যাড. তুষারের পদত্যাগ : ‘নাগরিক দায়িত্বে’র কার্যক্রম শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ::
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. এম আর খালেদ তুষার। একই সাথে তিনি ‘নাগরিক দায়িত্ব’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছেন। শনিবার সিলেট থেকে সংগঠনটি কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম কর্মসূচিতে ‘নাগরিক দায়িত্ব’ নারী-শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন এবং বলাৎকারে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করে। শনিবার সকালে সিলেটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবী, ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট মো. এম আর খালেদ তুষার পিএইচডি বলেন, আমি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য। এলডিপি’র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। ২০০৬ সালের ৩ নভেম্বর আমিই প্রথম বিপুল সংখ্যক জনতার অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলায় এলডিপি’র আত্মপ্রকাশ ঘটাই। অতঃপর ৭ই নভেম্বর ২০০৬ইং তারিখে প্রায় ৫শত সমর্থকের অংশগ্রহণে সিলেট জেলার কেন্দ্রীয় শহীদমিনার হতে এলডিপি’র একটি শোভাযাত্রা বের করে তা সিলেট নগরীর কোর্টপয়েন্ট গিয়ে শেষ করি। তাছাড়াও ২০০৭-এর সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষ হতে সুনামগঞ্জ-৩ এর মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। কিন্তু ১/১১-এর থাবায় উক্ত নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। আমি দীর্ঘদিন পরে ২০দলীয় জোটের পক্ষ হতে সুনামগঞ্জ ৩ আসনে আবারও ২০১৮এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল করি কিন্তু ২০ দলীয় জোটের পক্ষ হতে মনোনীত না হলে পরে এলডিপি হতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আমি এলডিপি’র সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির প্রায় ৭৬ নেতা, সিলেট জেলার ৪৫ নেতা এবং ঢাকা জেলার কিছু সংখ্যককর্মী ভাইদের নিয়ে এই মুহূর্তে এলডিপি হতে পদত্যাগ করলাম। আমার এই পদত্যাগের মূলকারণ হল- ব্যর্থতা, অর্থাৎ আমি এবং আমার উপর অর্পিত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীগণ মিলে এলডিপিকে সিলেট এবং সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সফলতা আনতে পারিনি। সুতরাং আমি মনে করি আমার পদত্যাগ করা উচিত, তাই আমরা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা এলডিপি’র সুনাম, খ্যাতি, ইত্যাদি নষ্ট না করে বরং নিজ নিজ অবস্থান হতে পদত্যাগ করাই দলের জন্য মঙ্গল। এলডিপিতে আমার দীর্ঘদিন কেটছে। এলডিপি’র সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমেদ (অবঃ) একজন সাহসী, বুদ্ধিমান এবং ত্যাগী নেতা যা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম এবং থাকব, তাছাড়াও দলের সকল নেতাকর্মী কর্নেল অলি স্যারের আদর্শের প্রতি অনুগত। আমি এই দলের মঙ্গল কামনা করি।
দ্বিতীয়ত : আমি গত ১৫ই আগস্ট ২০২০ইং তারিখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার কিছুসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত পেশাদার ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে “নাগরিক দায়িত্ব” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছি। যার মূল উদ্দেশ্য থাকবে “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা”। এছাড়াও অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যায়, ধর্ষণ, নির্যাতন ইত্যাদি অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরি করা।
আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ‘নাগরিক দায়িত্বে’র কর্মকাণ্ড এই সিলেট জেলা হতে শুরু করলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী