শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ০২:৫১ অপরাহ্ন

Notice :

দোয়ারায় বাঁধের কাজ : থামছেই না অনিয়ম-দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার চলতি মৌসুমের বোরো ফসলরক্ষার জন্য নাইন্দার হাওরের ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি কর্তৃক (পিআইসি) বাঁধ নির্মাণে নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। গোড়া থেকে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণ, দায়সারাভাবে কাজ সম্পাদন, পুরোনো বাঁধের উপরের ঘাস তুলে নতুন বাঁধ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে আপন দুই ভাই এবং হাওরে জমি নেই এমন ব্যক্তিকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৃথক তিনটি দরখাস্ত দিয়েছেন নাইন্দার হাওরপাড়ের কৃষক উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের হাজী আব্দুল জলিল।
উল্লেখ্য, নাইন্দার হাওরে চলতি বোরো মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা ২০১৭ অনুযায়ী হাওরটির ফসলরক্ষার জন্য ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে (পিআইসি) মাধ্যমে ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ, মেরামত ও ভাঙা বন্ধকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ১৬টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
হাওরের ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে যে ১২টি প্রকল্পের আওতায় অভিযোগকারীর মালিকানাধীন বোরো জমি রয়েছে সেই প্রকল্পগুলোর অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন আব্দুল জলিল।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইন্দার হাওরে ১নং পিআইসির সভাপতি পদে টেবলাই গ্রামের তালেব মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া, ২নং পিআইসির সভাপতি পদে টেবলাই গ্রামের তালেব মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়া, ৩নং পিআইসির সভাপতি পদে মাইজখলা গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে নূরুল ইসলাম, ৪নং পিআইসির সভাপতি পদে মাঝেরগাঁও গ্রামের মৃত হরজুম আলীর ছেলে নূরুল ইসলাম, ৬নং পিআইসির সভাপতি পদে নৈনগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মো. মাসুম মিয়া, ৭ নং পিআইসির সভাপতি পদে নৈনগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মো. ছালিক মিয়া, ৮নং পিআইসির সভাপতি পদে দোয়ারাবাজার গ্রামের মৃত রবীন্দ্র দে’র ছেলে গুরুদাস দে, ৯নং পিআইসির সভাপতি পদে নৈনগাঁও গ্রামের মৃত মো. মকরম আলীর ছেলে মো. তাজুল ইসলাম, ১০নং পিআইসির সভাপতি পদে বড়বন গ্রামের মৃত ফকির দিলালের ছেলে আব্দুল মান্নান, ১১নং পিআইসির সভাপতি পদে রায়নগর গ্রামের মৃত ওহিদ বক্সের ছেলে মো. তাজির উদ্দিন, ১৫নং পিআইসির সভাপতি পদে বাঘরা গ্রামের আইয়বুর রহমানের ছেলে আবুল কালাম, ১৬নং পিআইসির সভাপতি পদে বাঘরা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মো. আকলুছ মিয়া দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপরোক্ত ১২টি পিআইসিতে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করে দায়সারাভাবে বাঁধ নির্মাণ করে সরকারি বরাদ্দের মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। নীতিমালা অমান্য করে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলন করে বাঁধের নির্মাণকাজ করছেন তারা। যে কারণে বৃষ্টি শুরু হলে ফসলরক্ষার জন্য নির্মিত বাঁধগুলোতে ধস দেখা দিবে। এতে করে কৃষকের ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, পুরনো বাঁধের যে অংশগুলো অক্ষত রয়েছে সেগুলো থেকে কোদাল দিয়ে উপরের ঘাস তুলা হচ্ছে, যাতে দেখলে বুঝা যায় ওই স্থানে নতুন করে মাটি ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেইসাথে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে একই পরিবারের দুই ভাইকে পৃথক পিআইসির সভাপতি করা হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী হাওরে জমি আছে এমন কৃষকদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নাইন্দার হাওরের ৪, ৫, ৬ এবং ৮ নং পিআইসির সভাপতিদের ওই হাওরে নিজস্ব কোন জায়গাজমি নেই।
উল্লেখিত অনিয়মগুলো সরেজমিন তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন দরখাস্তকারী হাজী আব্দুল জলিল।
অভিযোগকারী জানান, বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও অভিযোগের ব্যাপারে কোন তদন্ত করা হয়নি। আমার বক্তব্য জানতে কর্তৃপক্ষ আমার সাথে যোগাযোগও করেননি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর এ নিয়ে জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটিতে এটি তোলা হয়েছে। বুধবার অভিযোগ তদন্তের জন্য সরেজমিনে টিম যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী